kalerkantho


ভুল সবই ভুল

অ্যামিশরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না

সবাই সত্যি জানে—এমন অনেক কথা পরে যাচাই করে দেখা গেছে সেগুলো মিথ্যা। লিখেছেন আসমা নুসরাত

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অ্যামিশরা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে না

অ্যামিশরা মোবাইল ব্যবহার করে, তার মানে ব্যাটারি চার্জ করতে হয়

অ্যামিশদের অনেকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। তার মানে ব্যাটারি চার্জ করতে হয়। তার মানে তারা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে না। তবে হ্যাঁ, গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহারে তাদের আপত্তি আছে। কারণ তারা বিশ্বাস করে, এটি ব্যবহারের মধ্য দিয়ে তাদের ঘরে রেডিও, টিভি ঢুকে পড়বে। তাতে তারা অনেক বেশি বহির্বিশ্বের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়বে। তাই বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অ্যামিশরা সৌরশক্তির মতো জ্বালানি ব্যবহার করে। জন মিক্সন নামের এক ইন্ডিয়ানাবাসীর বেশ কিছু অ্যামিশ প্রতিবেশী রয়েছে। কুওরা ডট কমে তিনি জানাচ্ছেন, আমার প্রতিবেশী প্রায় সব অ্যামিশ পরিবারের ডিজেলচালিত জেনারেটর রয়েছে। আর অনেকেরই বাড়ির ছাদে সোলার প্যানেল আছে। অ্যামিশদের সম্পর্কে আরো অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। যেমন তারা নিজেদের বোনদের বিয়ে করে। অ্যামিশ আমেরিকা জানাচ্ছে, ধারণাটা সম্ভবত এই কারণে তৈরি হয়েছে যে অ্যামিশরা  বহিরাগতদের খুব একটা স্বাগত জানায় না। তাই বলে আপন বোনকে বিয়ে করার ব্যাপারটি ডাহা মিথ্যা। বড়জোড় তারা খালাতো, মামাতো বোনদের বিয়ে করে। তারপর লোকে বলে, অ্যামিশদের মধ্যে বিনিময়প্রথা চালু রয়েছে। তারা টাকা লেনদেন করে না। সত্য এই, অ্যামিশরা নগদ টাকা যেমন লেনদেন করে, ক্রেডিট কার্ডও ব্যবহার করে। জন মিক্সন আরো জানাচ্ছেন, অ্যামিশরা হামেশাই ডান্স ক্লাবে যায়, অনেকে নিষিদ্ধ দ্রব্যের ব্যবসাও করে। অ্যামিশ জনগোষ্ঠীকে নিয়ে উপন্যাস লিখেছেন সুজান উডস ফিশার। তিনি বলেছেন, আড়াই লাখ মানুষের একটি জনগোষ্ঠীর সবাইকে একই রকম ধরে নেওয়া সব সময়ই ভুল ব্যাপার। তারা নিজেদের মধ্যেই থাকতে চায়, তাই বলে কি অসুখ হলে তারা হাসপাতালে যায় না? তাদের অনেককেই আমার ভদ্র, দয়ালু আর বিশ্বাসী মনে হয়েছে। তবে কেউ কেউ তো অসামাজিক কাজও করে বেড়ায়।  উল্লেখ্য, অ্যামিশরা ইয়াকব আম্মানের অনুসারী খ্রিস্টান। অষ্টাদশ শতকের সুইজারল্যান্ডে তাদের শেকড় রয়েছে। উনিশ শতকে তারা উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় উত্তর আমেরিকায় বসতি গড়ে।


মন্তব্য