kalerkantho

অলংকার চক্কর

বালা

১০ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বালা

হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর বালা

মোটা চুড়ির নামই বালা। রেশমি চুড়ি না দিলে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দেয় বাংলার বউ। দাস-মানুষের চিহ্ন হওয়ার আগে ঘোড়াক্ষুরো বালা ছিল পশ্চিম আফ্রিকার মেয়েদের গর্বের ধন। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে তামা ও ঝিনুকের চুড়ি খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। মিসরের ফারাও তুতেনখামেন চুড়ি পরতেন। ইংরেজিতে ব্রেসলেট বলে চেনা এটি। এসেছে গ্রিক ব্রাসিল থেকে। আরো কিছু খবর আছে মো. নাভিদ রেজোয়ানের কাছে

 

অলংকার কেন পরে মানুষ? এ প্রশ্নটি পুরনো। পুরনো এই প্রশ্ন—কবে থেকে মানুষ পরে অলংকার? সাদা উত্তর তো এই যে নিজেকে সুন্দর দেখানোর জন্য মানুষ অলংকার পরে। পরার ইতিহাসও হাজার হাজার বছরের। অলংকার কিন্তু শৌর্য, বিত্ত ইত্যাদিরও পরিচায়ক। সামাজিক অবস্থান বোঝাতেও অলংকারের ব্যবহার দেখা গেছে। সমাজ আর বিশ্বাসভেদেও অলংকারের ভিন্নতা দেখা যায়। বাহুতে যে অলংকার পরা হয় তার নাম আর্মলেট আর কবজিতে পরা হয় বালা। আমাদের দেশে চুড়ি বা রুলির ব্যবহার বেশি। ইংরেজিতে বলে ব্রেসলেট। আর্মলেটের দুই প্রান্ত খোলা থাকে; কিন্তু ব্রেসলেটে সাধারণত ফাঁক থাকে না। আগে প্রত্নতাত্ত্বিকরা খননে পাওয়া অলংকারকে বেশি গুরুত্ব দিতেন না। পরে তাঁরা ঠিকই বুঝলেন অলংকার ব্যক্তি বা জাতির সাংস্কৃতিক, আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা নির্দেশ করে।

ব্রেসলেট দেশে দেশে

সাইবেরিয়া

২০০৮ সালে সাইবেরিয়ার নোভোসিবিরস্কের ডেনিসোভা নামের এক প্রাচীন গুহায় প্রায় ৪০ হাজার বছরের পুরনো একটি ব্রেসলেট পাওয়া গেল। সেটি পাথরের তৈরি। ক্লোরাইট পাথর দিয়ে। সূর্যের আলোকে এটি প্রতিফলিত করে আর রাতে আগুনের আলোতে গাঢ় সবুজ রং ধরে।

 

মিসর

প্রাচীন মিসরীয়দের অলংকারপ্রীতির কথা কমবেশি সবারই জানা। মিসরীয়দের কাছে অলংকার ছিল ক্ষমতা ও বিত্তের প্রতীক। তারা উৎসবাদিতে নানা রকম অলংকারে সজ্জিত হতো। নেফারতিতি ও তুতেনখামেন দুজনেই ব্রেসলেট পরতেন। মিসরীয়রা স্বর্ণের সূক্ষ্ম কারুকাজ জানত। তবে বন্দিদের পরানো হতো লোহার ব্রেসলেট বা হাতকড়া।

গ্রিস

আগের গ্রিসে মার্চ মাসে মারতিয়া বলে একটি উৎসব হতো। এতে লাল-সাদা ব্রেসলেট পরার চল ছিল। গ্রিকরা বিশ্বাস করত, এটি তাদের রোগ-শোক থেকে দূরে রাখবে।

 

আমেরিকা

নেটিভ আমেরিকানরা পাথর, পশুপাখির হাড়, দাঁত, নখ, চামড়ার অলংকার পরত বেশি। বিভিন্ন গোত্রের পোশাক ও অলংকার বিভিন্ন রকম হতো। যোদ্ধারা মূলত ব্রেসলেট বা আর্মব্যান্ড পরত বেশি। কারণ পশুর চামড়ায় তৈরি এসব অলংকার তাদের আঘাত থেকে বাঁচাত। পরে ১৮৫০ সালের দিকে স্প্যানিশদের কাছে রুপার অলংকার তৈরি করতে শেখে নেটিভ আমেরিকানরা।

ভারতবর্ষ

শিখ গুরু গোবিন্দ সিং তাঁর অনুসারীদের পাঁচটি জিনিস পরিধান করতে বলে গেছেন। সেগুলোর একটি হলো লোহার তৈরি ব্রেসলেট। ভারতবর্ষেও ধনীরা দামি ব্রেসলেট পরত। যোদ্ধাদের মধ্যেও জনপ্রিয় ছিল। ব্রেসলেট বা আর্মলেট দিয়ে তাদের পদমর্যাদাও বোঝাত। মোগল বাদশাহ আকবর ব্রেসলেট পরতেন কি না নিশ্চিত হওয়া না গেলেও যোধাবাই যে পরতেন, সেটা নিশ্চিত। বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে চুড়ি বা বালার টান বেশি। স্বর্ণ, রুপা, পিতল, কাঠ, বাঁশ, নারিকেলের মালা, সুতা আর মাটির তৈরি চুড়ি বা ব্রেসলেটের ব্যবহারও দেখা যায় এখানে।


মন্তব্য