kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

মাতৃ আদেশ মেনেছি বলে...

১২ মে, ২০১৮ ০০:০০



শীতের সকাল। প্রচণ্ড শীত। বাইরে বেরোনোর জো নেই। আমি আর আমার ছোট ভাই বাসা থেকে বেরোলাম। উত্তুরে হাওয়ায় শরীর থরথরিয়ে কাঁপছে। কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে শহরের পাহাড়সম দালানগুলো। যদিও সূর্য উঠেছে; কিন্তু সূর্যরশ্মি ভেদ করতে পারেনি কুয়াশার ধোঁয়াশা। কুয়াশার চাদর ভেদ করে সামনে চলছি আমরা দুজন। রাস্তা এখনো ফাঁকা। ফাঁকা রাস্তায় একটু পরপর দ্রুতগতিতে ছুটছে অটোরিকশাগুলো। হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছলাম আরশিনগরে। এখানে অনেক অটো দাঁড়িয়ে আছে। সবার গন্তব্য ভেলানগর। খানিক পর এক অটো থেকে ডাক শোনা গেল—পুটিয়া, পুটিয়া। উঠলাম তাতে। অটোতে আরো কয়েকজন যাত্রী উঠিয়ে অটো আবার চলতে লাগল ঊর্ধ্বশ্বাসে। কিন্তু সংগীতা মোড়ে এসেই বিধি বাম। এখানে লেগেছে বিশাল এক জ্যাম। জ্যামের মূল কারণ একটি বড় বাস আর লরি। বুঝলাম না ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাস এই চিকন রাস্তায় ঢুকল কী বুঝে! অতঃপর পুটিয়া পৌঁছলাম, তবে ২০ মিনিটের জায়গায় এক ঘণ্টা লাগিয়ে। অটো থেকে নেমে এক রিকশাওয়ালাকে বললাম, ইটখোলা যাবেন? মধ্যবয়সী রিকশাওয়ালা বললেন, ইটখোলা পর্যন্ত যাওয়া যাবে না। আরো আগে নেমে যেতে হবে। আমি অবাক হয়ে বললাম, যাওয়া যাবে না কেন? তিনি বললেন, ভেলানগরের কাছে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। তাই রাস্তা বন্ধ। অগত্যা রিকশায় উঠে গেলাম। এখন ভাবছি, যদি মাতৃ আদেশ না মেনে ভেলানগর দিয়ে যেতাম, তাহলে কী যে হতো! ভাবতেই গা শিউরে ওঠে। প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে যেতে হতো। ভাগ্যিস ‘অবাধ্য ছেলে’ এক দিনের জন্য মায়ের বাধ্য হয়েছিল।

আশরাফুল ইসলাম সা’দ

বৌয়াকুড়, নরসিংদী।


মন্তব্য