kalerkantho


বিশাল বাংলা

১০ হাজার মানুষের ইফতার

৯ জুন, ২০১৮ ০০:০০



১০ হাজার মানুষের ইফতার

সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে নলতা শরিফ। একসঙ্গে ১০ হাজার রোজাদার এখানে ইফতার করেন। মাহবুবর রহমান সুমনও একদিন শরিক হয়েছিলেন

 

খান বাহাদুর আহছানউল্লার সমাধি ঘিরে গড়ে উঠেছে নলতা শরিফ প্রাঙ্গণ।  প্রায় ৪০ বিঘা জমির ওপর মসজিদ, অফিস, লাইব্রেরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও অতিথিশালা। একটি পুকুর আর বড় মাঠও আছে। উল্লেখ্য, আহছানউল্লা এখানেই জন্মেছিলেন ১৮৭৩ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি ভূমিকা রেখেছেন। তিনি একজন আউলিয়াও ছিলেন।

শুনেছি এটাই বড়

চারটা নাগাদ গাড়ি থেকে নামলাম। বড় শামিয়ানা টাঙানো। স্থানীয় একজনের সঙ্গে পরিচয় হলো। নাম রেহানুজ্জামান। বললেন, ‘এখানে ১০ হাজার মানুষের ইফতারের আয়োজন হয়। শুনেছি এটাই দেশের সবচেয়ে বড় ইফতার জমায়েত। এর ব্যবস্থাপনায় আছে নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশন।’ আসরের নামাজের পর ভিড় বাড়তে থাকল।

 

শুরুর দিক

আহছানিয়া মিশনের দেওয়া তথ্যমতে, ১৯৫০ সালে এখানে ইফতার আয়োজন শুরু হয়। রমজানের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নলতা শরিফে বিশাল শামিয়ানা টাঙানো থাকে। খান বাহাদুর আহছানউল্লা নিজেই এটি শুরু করেছিলেন। উল্লেখ্য, তিনি ১৯৬৫ সালে মারা যান।

 

তখন-এখন

রহিমপুর গ্রাম থেকে ইফতারে যোগ দিতে এসেছেন শেখ সাইদুল ইসলাম। বললেন, প্রথম এখানে ইফতার করতে এসেছিলাম আব্বার সঙ্গে, ১৯৮৩ সালে। তখন এত বেশি মানুষ হতো না। যত দূর মনে আছে, ইফতারে ছোলা, খেজুর, চিঁড়া, মিষ্টি ইত্যাদি দেওয়া হতো। এই মাঠে বসেই ইফতার  করেছিলাম।’ আর এখনকার ইফতার নিয়ে বললেন সাতক্ষীরা আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক  মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল, ‘আমরা প্রতিদিন  গড়ে ১০ হাজার মানুষের ইফতার আয়োজন করছি। তবে শামিয়ানার নিচে বসে ইফতার করে ছয়-সাত হাজার মানুষ। আর বাকি ইফতার আমরা আশপাশের সব মসজিদে পাঠাই। ইফতার সামগ্রীর মধ্যে থাকে খেজুর, ছোলা, শিঙাড়া, ফিরনি, চিঁড়া, কলা ও ডিম।’ নলতা শরিফে ইফতার করবেন বলে যশোর বা খুলনা থেকেও লোক আসে।

 

চার শ স্বেচ্ছাসেবক

ইফতার তদারকির জন্য স্বেচ্ছাসেবক আছে চার শ। বিকেল ৪টায় তাঁদের কাজ শুরু হয়। শুধু লাইন ধরে পথচলায় সহযোগিতা দিতে আছেন ৩৫ জন। রান্নার কাজ করেন ৫০ জন। হাসান বাবুর্চির সঙ্গে কথা হলো। তিনি বলেন, প্রায় প্রতিবছরই আমি এখানে রান্নার কাজ করি। এ বছর প্রতিদিন ১০ হাজার ডিম সিদ্ধ করছি। ফিরনি করতে লাগছে ৮৫০ কেজি দুধ।’ বাবুর্চি মুক্তার আলী শিঙাড়ার ওস্তাদ। দম ফেলার সময় পাচ্ছেন না। তবু বললেন, ছোটবেলা থেকেই এখানে কাজ করি। ধরেন ৩৫ বছর হবে। আসরের আগেই শিঙাড়ার মাল-মসলা সব রেডি করে ফেলি। আসর সেরে এসে ভাজতে থাকি। আমার ১০ জন হেলপার আছে।’

     ছবি : আসাদুজ্জামান ও সংগ্রহ

 


মন্তব্য