kalerkantho


দি আলী জাকো

৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দি আলী জাকো

কিক বক্সিংয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তিনি। এখন চাইছেন গান দিয়ে বিশ্বজয় করতে। সালমান খান তাঁর রেস থ্রি ছবিতে আলী জাকোর আই ফাউন্ড লাভ গানটি নিয়েছেন। সালমান জাকোর বন্ধু। আব্দুল আলী জাকির ওরফে আলী জাকো সুনামগঞ্জের মানুষ। তবে জন্ম লন্ডনে। কালের কণ্ঠর যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি জুয়েল রাজ জাকোর স্টুডিওতে আড্ডা দিয়ে এসেছেন

 

নামটি এলো যেভাবে

আলী জাকো শুনে বক্সার মোহাম্মদ আলীর কথা মনে আসছে। সে থেকেই কি এই নাম?

আসলে আমার নাম আব্দুল আলী জাকির। লন্ডনে বক্সিং প্র্যাকটিস যখন শুরু করি, তখন বিদেশি প্রশিক্ষকরা জাকির নামটি কোনোভাবেই বলতে পারতেন না। তাঁরা জ্যাক জ্যাক বলতেন। আমি তারপর নামটি একটু গুছিয়ে আলী জাকো করে নিলাম। তবে মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে আমার একটা ছোট্ট যোগসূত্র আছে। ১৯৭৮ সালে মোহাম্মদ আলী যে বিমানে করে বাংলাদেশ গিয়েছিলেন, সেই একই বিমানে আমি এবং আমার বাবাও ছিলাম।

 

সফল মানুষ

যেখানে হাত দিয়েছেন সোনা ফলিয়েছেন আলী জাকো। সাহস দিয়েই সব জয় করেছেন। বক্সিংয়ে ৪৫টি লড়াইয়ে তিনি ৪৪ বার বিজয়ী হয়েছেন। ব্যবসায়ী হিসেবেও সফল। গান শুরু করেছেন বেশি দিন হয়নি। এরই মধ্যে বলিউডের সালমান খান জাকোর একটি গান নিজের কণ্ঠে গেয়েছেন। ১৫ জুন মুক্তি পাওয়া রেস থ্রি ছবিতে ব্যবহারও করেছেন। গানটির নাম আই ফাউন্ড লাভ। ব্রিটেনের কম করেও তিন হাজার ক্লাবে বাজছে জাকোর গান।

 

রেস থ্রিতে সালমান খানের আই ফাউন্ড লাভ

চিনপরিচয়

১৯৬৯ সালের ৬ মে লন্ডনে জন্ম জাকোর। বাবার নাম চমক আলী আর মায়ের নাম গুলনাহার বেগম। ছেলেকে বাঙালিয়ানা শেখাতে বাবা ছোটবেলায়ই পাঠিয়ে দিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছাতকের এক গ্রাম পইগাঁওয়ে। সেখানে ছয় বছর ছিলেন জাকো। তারপর থেকে ঘুরেফিরে অনেকবার এসেছেন। বললেন, ‘বাঙালি বলতে আমি গর্ববোধ করি। বাঙালি সব পারে, এই বিশ্বাস আমার সব সময়। তাই লন্ডনে ফেরার পর মাত্র ১৭ বছর বয়সে আমি বক্সিং শুরু করি। সেটা ১৯৮৬ সাল। চার বছর পরই বিআইকেএমএ (ব্রিটিশ অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল কিক বক্সিং অ্যান্ড মার্শাল অ্যাসোসিয়েশন) লাইট কিক বক্সিং শিরোপা জিতে নিয়েছিলাম।’

 

জাকোর আরো খবর

ইউরোপীয় শিরোপা জাকো জেতেন ১৯৯৬ সালে। বিশ্ব লাইটওয়েট কিক বক্সিংয়ের খেতাবও জেতেন ওই বছরই ফ্রেডরিক পিয়েরেকে হারিয়ে। তারপর ১৯৯৯ সালে ওয়ার্ল্ড ইন্টার কন্টিনেন্টাল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। ২০০২ সালে অবসর নেওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি পাঁচবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হন। উল্লেখ করার মতো ব্যাপার, ১৭ বছর বয়সেই আলী জ্যাকো পূর্ব লন্ডনে একটি পোশাক কারখানা পরিচালনা করতে শুরু করেন। আর বক্সার হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর তিনি জেকেও টিভি চালু করেন। এটি বক্সারদের নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ ও প্রচারের ব্যবস্থা করে। তিনি রেস্টুরেন্ট ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত।

 

গানে প্রাণ বেঁধেছেন

তিনি ২০১৬ সালে ঠিক করেন গান গাইবেন। ওই বছরের নভেম্বরেই ‘গিভ মাই লাভ অ্যা ব্র্যান্ড নিউ নেম’ গানটি বাজারে ছাড়েন। জমকালো প্রকাশনা অনুষ্ঠান করেন লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে। জাকো নিজেই গানের কথা লিখেছেন। গানটির সংগীতায়োজনে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের জয়ন্ত পাঠক। জাকোর নিজের প্রডাকশন হাউস জিএ মিউজিক থেকেই গানটির অডিও ও ভিডিও বাজারে আসে।

 

বন্ধু যখন সালমান খান

জাকো বলছিলেন, ‘তিরিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে সালমান আমার বন্ধু। আমাদের সম্পর্কটা পারিবারিক পর্যায়ের। সালমানের প্রায় সব জন্মদিনেই আমি হাজির থাকি। শুভেচ্ছা জানাই। আমার বক্সিং দেখতেও অনেক সময় হাজির থাকে সালমান। আই ফাউন্ড লাভ গানটি শোনার পর সালমান উচ্ছ্বসিত। হাসতে হাসতে বলেছিল, ও মাই গড, রিয়ালি এটা তোমার গান? সে গানটি অনেকবার গুনগুন করেও গেয়েছে। আমি একদিন বললাম, গানটি তোমাকে আমি গিফট করলাম। তারপর সে নিজেই এটি রেস থ্রিতে গাইল (হিন্দি ভার্সন)। ছবির প্রচারণায় সালমান যখন লন্ডনে এসেছিল অনেক করে আমার কথা বলেছে। আরো বলেছে, এমন প্রতিভার আমি সম্মান জানাই। খুব খুশি হব যদি সে (জাকো) আমাকে তার কোনো গানে মডেল করে।’

 

ব্যক্তিগত জাকো

চার সন্তানের জনক। বক্সিং করতে চাইলে পরিবারের লোক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। তারপর যখন মাঝবয়সে গান করতে চাইলেন একই পরিস্থিতি। বললেন, ‘শখ করে গানে এসেছি। যা পাই তা-ই লাভ।’ জাকো এখন সিরিজ চালু করেছেন। মুক্তি দিচ্ছেন ১১ মাসে ১১টি গান। সঙ্গে ১১টি মিউজিক ভিডিও। এর মধ্যেই দি অনলি থিং আই সি, হোয়াট ইফ আই লাভ ইউ লাইক দ্যাট, থিংক ইট ওভার, টপ অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইত্যাদি মুক্তি দিয়েছেন। মুক্তির অপেক্ষায় আছে ফলো মাই হার্ট, বেবি ইউ আর মাইন ইত্যাদি গান।

 

জাকো কনসার্ট

গেল ২৯ এপ্রিল পূর্ব লন্ডনে বলিউড স্টার শিল্পা শেঠির সঙ্গে একটি চ্যারিটি কনসার্টে অংশ নিয়েছিলেন। জাকোর গান দিয়েই শুরু হয় কনসার্ট। দুটি গান করেছিলেন। শিল্পা শেঠি জাকোর পরিবেশনা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন।

 

আমার দেশ বাংলাদেশ

জানতে চেয়েছিলাম, বাংলাদেশে কিছু করতে চান কি না। উত্তর দেওয়ার আগে বললেন, দাঁড়ান, আপনাকে একটা জিনিস দেখাই। কম্পিউটারে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়ির ছবিগুলো দেখালেন। সেখানে সুইমিং পুল থেকে শুরু করে সব কিছুই আছে। বাড়িটা একটা রিসোর্টের মতো। সন্তানদের বাংলা স্কুলেও পড়িয়েছেন। ইচ্ছা রাখেন আব্দুল করিমের গান করার। রাধারমণ, দুর্বিন শাহ, হাছন রাজার গান শুনেছেন তিনি। তবে আব্দুল করিমের গানের প্রতি তাঁর বিশেষ টান আছে। সুযোগ পেলে বাংলাদেশের বক্সিং নিয়ে কাজ করতে চান।



মন্তব্য