kalerkantho


এক পাতা প্রেম

ফুটবল, টোকেন ইত্যাদি

৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ফুটবল, টোকেন ইত্যাদি

ডা. নাজমুল ইসলাম বাপ্পী অনেক কিছু সংগ্রহ করেন। ফুটবল নিয়ে তাঁর সংগ্রহটাও আকর্ষণীয়। যতটা পেরেছেন দেখে এসেছেন  মীর হুযাইফা আল মামদুহ

 

তিনতলায় বাসা। ড্রয়িংরুমটা বেশ বড়। একপাশে পাশাপাশি তিনটি শোকেস। অনেক কিছুই রাখা। একটায় যেমন ফুটবল বিশ্বকাপের রেপ্লিকা। আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম। পরিপাটি হয়ে ডা. নাজমুল ইসলাম বাপ্পী ড্রয়িংরুমে এলেন। বললেন, একেবারে রেডি হয়েই এলাম। আপনার পরেই চেম্বারে যাব।’

 

ছোটবেলা থেকেই

সংগ্রহের নেশা তাঁর ছোটবেলা থেকেই। ১৯৯১-৯২ সাল হবে। তখন বাপ্পী ক্লাস ফাইভের ছাত্র। বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ির মাঠে একটা মেলা হয়েছিল। নবাববাড়ির ছবি আঁকা একটা ভিউকার্ড কেনেন মেলা থেকে। সেটা যত্ন করে রেখে দিয়েছিলেন। সেটাই নিজের প্রথম সংগ্রহ। তারপর থেকে জমাতেই থাকলেন—দেশি-বিদেশি মুদ্রা, ব্যাংকনোট, মেডেল ইত্যাদি।

 

ফুটবল নিয়ে

কোন দল সাপোর্ট করেন?

আর্জেন্টিনা, বললেন বাপ্পী।

আমি ব্রাজিলের সাপোর্টার। কোথাও একটা ধাক্কা খেলাম। তিনি (বাপ্পী) বুঝে ফেলে হেসে উঠলেন।

বিশ্বকাপ রেপ্লিকাটির ওজন, সাইজ একেবারে আসলটির মতো। তবে এটি তামার তৈরি। ইংল্যান্ড থেকে বোনকে দিয়ে আনিয়েছেন। ছোট, বড় প্রায় সাতটি কাপ আছে তাঁর সংগ্রহে। শেষ তিন বিশ্বকাপের মাসকাটসহ মোট ছয়টি মাসকাট আছে। কয়েকটি প্ল্যাকার্ডও  আছে। আর্জেন্টিনার ব্যানার আছে। আর্জেন্টিনার এক সংগ্রাহকের কাছ থেকে নিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যানারের বদলে। ফেসবুকে পরিচয় তারপর বদলবন্ধু। চাবির রিং আছে কয়েকটি। জার্সি আছে কিছু। ঘড়ি আছে। স্টিকার আর  মগও আছে। প্রায়  সবই বিশ্বকাপের লোগো আঁকা। প্রতিটি বিশ্বকাপের ব্যাজ (পরিচয়জ্ঞাপক চিহ্ন) আছে তাঁর কাছে। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের ব্যাজটি জোগাড় করতে পারছিলেন না। মালয়েশিয়ায় বাটু কেভ বেড়াতে গিয়ে একটি দোকানে দেখেন হেলায় পড়ে আছে। কিনে নিতে আর দেরি করেননি। আছে ক্লাব ফুটবলের ব্যাজ ও মগও। ফুটবল আছে শেষ চারটি বিশ্বকাপের। জার্মানি থেকে আনিয়েছেন।

 

ব্যাংকনোট

এ যাবৎ বাংলাদেশের যত ব্যাংকনোট বেরিয়েছে, সব কয়টি তাঁর সংগ্রহে আছে। একটি অ্যালবামে বছর ধরে সেগুলো সাজানো। আছে এরর ব্যাংক নোট। ছাপা হওয়ার সময় এগুলোয় ভুল হয়ে গিয়েছিল। আছে কিছু নমুনা নোট (সরকার প্রথমে নির্দিষ্ট নোটের নমুনা তৈরি করে, তারপর নির্বাচিত হলে সেগুলো ছাপা হয়ে বাজারে আসে)। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবচেয়ে কম সময় গভর্নর থাকা নাজিরুদ্দিনের সময়কালের নোটও আছে তাঁর সংগ্রহে। এটি পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। অনেক খুঁজে আবিষ্কার করেন আজারবাইজানের এক লোকের কাছে এটা আছে। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বদলে বাংলাদেশের এক হাজার টাকার একটি নোট দেবেন মর্মে চুক্তি করেন বাপ্পী। বাপ্পী নোট পাঠিয়ে দিলেন। আজারবাইজান থেকেও পাঠানো হলো নাজিরুদ্দিনের নোট। কিন্তু ঠিকানা ভুলে সেটি বাংলাদেশের বদলে চলে গেল ইরাকে, তারপর সেখান থেকে তুরস্কে। তুরস্ক থেকে সৌদি আরব। সেখান থেকে ঘুরে এলো বাংলাদেশে। বাপ্পীর কাছে বিশ্বের ১৬৫টি দেশের নোট আছে। বেশির ভাগ নোট অব্যবহৃত।

 

টোকেন

বিভিন্ন টোকেন সংগ্রহ করেন বাপ্পী। চা বাগানের বেতনের টোকেন আছে দুই রকম। পুরুষদের টোকেন একটু বড়। নারীদেরটা একটু ছোট। আছে বিভিন্ন টেম্পলে ঢোকার টোকেন,  মেট্রো রেলের, পার্কের টোকেনও আছে।

আমেরিকার সেনাবাহিনী যখন ইরাক আক্রমণ করে তখনকার কিছু টোকেনও আছে বাপ্পীর কাছে। আছে ১৯৪৫ সালের ব্রিটিশ আর্মড ফোর্সের টোকেনও। আছে ক্যাসিনোর টোকেন।

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি টোকেন আছে বাপ্পীর সংগ্রহে। কয়দিন আগে শিল্পকলায় টোকেনের একটি প্রদর্শনীও করেছেন। 

 

পোস্টকার্ড

বিভিন্ন দেশের পতাকাসহ পোস্টকার্ড সংগ্রহ করতে শুরু করেছেন তিনি। এই ব্যাপারটা পুরোটাই বদলা-বদলির। এক দেশের একজনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এমন করে প্রায় ৮০টি দেশের পোস্টকার্ড জমিয়েছেন। এই সংগ্রহ শুরুর বয়স অবশ্য কম। মাত্রই এক বছর। এ ছাড়া  তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের প্রতিটি খেলার টিকিট সংগ্রহ করেন।

সংগ্রহ করেন স্মারক কোটপিন। সামরিক মেডেল। ডাকটিকিটের একটা বড় সংগ্রহ ছিল। কিন্তু সেটি হারিয়ে ফেলার পর আর নতুন করে সংগ্রহ করেননি। তবে বাপ্পী মনে করেন, তাঁর সবচেয়ে বড় সংগ্রহ হচ্ছে—স্বর্ণমুদ্রার সংগ্রহ। মোগল সম্রাট আকবরের আমলের দুটি স্বর্ণমুদ্রাও আছে তাঁর কাছে।

 

একজন বাপ্পী

বাংলাদেশ মেডিক্যালে পড়েছেন বাপ্পী। বাংলাদেশ মেডিক্যালের উত্তরা শাখার ডাক্তার তিনি। চেম্বার করেন বাড্ডা। তাঁর স্ত্রী ইশরাত নুরজাহানও ডাক্তার। তিনটি সন্তান তাঁদের। লেখাপড়ায় ফাঁকি দিতেন না বলে মা-বাবা সংগ্রহের নেশায় কখনো বাদ সাধেননি। তবে পড়ালেখার চাপে মেডিক্যালের পাঁচ বছর কিছুই সংগ্রহ করেননি। এখন আবার নিয়ম করেই সংগ্রহের পেছনে দিনে এক ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন।

ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

 



মন্তব্য