kalerkantho


ওয়েব সিরিজের নায়িকা টয়া

পর পর দুই ঈদে সাত পর্বের দুটি ওয়েব সিরিজে অভিনয় করেছেন মডেল-অভিনেত্রী মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন মাহতাব হোসেন

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ওয়েব সিরিজের নায়িকা টয়া

প্রযুক্তির উত্কর্ষে নতুন নতুন মাধ্যমে বিনোদন পাচ্ছে দর্শক। পাশের দেশ ভারতের ওয়েব সিরিজগুলো অনলাইনে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

বাংলাদেশেও ইদানীং জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। বাংলাদেশে নির্মিত ওয়েব সিরিজের প্রসঙ্গ এলে লাক্স তারকা টয়ার নামও উঠে আসে। রোজার ঈদে তপু খানের ওয়েব সিরিজ ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’-এ অভিনয় করেন এই মডেল-অভিনেত্রী। সিরিজে তিনি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর যৌনকর্মী। শুটিং করেছেন দৌলতদিয়ায়ই। সেখানে একটি আইটেম গানের শুটিংয়ে রাতভর নেচেছেন স্থানীয় দুই শতাধিক মানুষের সামনে। মাত্র চার দিন শুটিং করেছেন সেখানে। ‘এটা আমার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’—বলেন টয়া। কেমন সেই অভিজ্ঞতা? ‘একবার তো মনে হয়েছিল স্পট ছেড়ে পালিয়ে ঢাকায় চলে আসি। নির্মাতা চেয়েছেন, সত্যিকারের যৌনকর্মীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে যেন ন্যাচারাল অভিনয় করি। পুরো এলাকায় হরেক রকমের মানুষ, সংকোচ হচ্ছিল। নির্মাতার সঙ্গে পরামর্শ করে ক্যামেরা ছাড়াই ওখানকার যৌনকর্মীদের সঙ্গে মিশি। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে আমার বেশ ভাব হয়ে যায়। অনেকেই মনে করেছে, আমি বুঝি তাদেরই একজন। পরে আর কোনো সমস্যা হয়নি। খোলামেলা পোশাকে আইটেম নাচ নাচতে গিয়েও বিব্রতকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছি। যারা নাচ দেখেছে, তাদের বেশির ভাগই মনে করেছে, আমি যৌনপল্লীরই একজন। তাই নাচের ফাঁকে তাদের নানা বাজে মন্তব্যও শুনতে হয়েছে। এটা আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা’—বললেন টয়া।

অনেক কিছু শিখেছেনও। সমাজে যারা ঘৃণিত বা নিষিদ্ধ, তাদের আন্তরিকতা টয়ার মনে গেঁথে আছে এখনো। সেখানকার মেয়েদের নিষিদ্ধ জগতে আসার গল্প শুনেছেন মন দিয়ে। চাকচিক্য কিংবা নোংরা পোশাক দেখে যে মানুষকে বিচার করা উচিত নয়, সেই শিক্ষাটাও টয়া পেয়েছেন দৌলতদিয়ায়।

টয়া মনে করেন, ওয়েব সিরিজ অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ এগুলো টিভিতে বিনা পয়সায় দেখতে পায় না দর্শক। এমবি খরচ করে ইন্টারনেটে দেখতে হয়। এখানে দর্শক ধরে রাখার বিষয় থাকে। আগ্রহ না পেলে দর্শক আঙুল চেপে অন্য ভিডিও ক্লিপসে চলে যাবে। এসব বিবেচনায় ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’ সিরিজটিকে সফল ওয়েব সিরিজ বলেই মনে করেন টয়া।

কোরবানির ঈদে নতুন আরেকটি ওয়েব সিরিজ করেছেন টয়া—এ কে পরাগ ও ভাস্কর দে জনির ‘পালাবি কোথায়’। জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে সিরিজটি কতটুকু সফল তা এখনই বলা যাচ্ছে না। এটা যেহেতু শুধু ওয়েবেই মুক্তি পায়, সেহেতু একটু সময় নিয়েই ফলাফলটা আসে। রোজার ঈদে ‘অ্যাডমিশন টেস্ট’-এর দর্শক ছিল প্রতি পর্বে গড়ে সোয়া ছয় লাখ।

ওয়েব সিরিজ প্রসঙ্গে টয়ার মত, ‘টেলিভিশন সিরিজের মতো এখনো ওয়েব সিরিজ ততটা জনপ্রিয় হয়নি ঠিকই, কিন্তু এটাই একসময় টেলিভিশনকে পেছনে ফেলে দেবে। কারণ দর্শক ঝামেলাহীন নির্মল বিনোদন পেতে চায়। ’


মন্তব্য