kalerkantho


বড় ছেলের সঙ্গে কথোপকথন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো ঝড় তুলেছে ‘বড় ছেলে’। টেলিফিল্মটি দেখে ছেলে-বুড়ো সবাই আবেগাপ্লুত। ইউটিউবে এরই মধ্যে ২৬ লাখ বার দেখা হয়েছে এটি। মন্তব্যের ঘরে প্রায় ২০ হাজার মন্তব্য। টেলিফিল্মটির রচয়িতা ও পরিচালক মিজানুর রহমান আরিয়ানের মুখোমুখি হয়েছেন দাউদ হোসাইন রনি

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



বড় ছেলের সঙ্গে কথোপকথন

আজ থেকে টানা তিন দিন টেলিফিল্মটি বিরতিহীনভাবে প্রচারের ঘোষণা দিয়েছে চ্যানেল নাইন।
হ্যাঁ, খবরটা সবার আগে দিয়েছেন আমার মা।

টিভিতে স্ক্রল দেখে মা জেনেছেন। দশ মিনিট পর চ্যানেল কর্তৃপক্ষ এবং প্রযোজক ফোন করে জানিয়েছেন।

ফেসবুক খুললেই ‘বড় ছেলে’ নিয়ে মুগ্ধ দর্শকের স্ট্যাটাস। পরিবারের অনেক মেজো বা ছোট ছেলের অভিমানের দেখাও মেলে। বিষয়টি কেমন এনজয় করছেন?
একটু আগে ফেসবুকে একটা ইভেন্ট দেখলাম, ‘বড় ছেলে’ সিনেমা চাই এবং সিক্যুয়াল ‘বড় ছেলে ২’ না হলে পরিচালকের বাড়ির সামনে মানববন্ধন করা হবে। এসব দেখে একদিক থেকে ভালো লাগছে। আবার খারাপও লাগছে কিছু কাণ্ড দেখে, টেলিফিল্মটি দেখে এক মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে ব্রেকআপ করেছে। কারণ তাঁর প্রেমিক পরিবারের বড় ছেলে। এই টেলিফিল্ম দেখে মেয়েটার মনে হয়েছে, প্রেমিক তাকে নয়, পরিবারকেই বেশি প্রাধান্য দেবে। এসব দেখে খারাপ তো লাগবেই। সবাইকে বুঝতে হবে, পরিবারের সব বড় ছেলে এমন নয়, সবার পারিবারিক ক্রাইসিসও এক নয়।

আপনি নিজে কি পরিবারের বড় ছেলে?
তিন পুরুষ ধরে আমরা পরিবারের বড় ছেলে। দাদা, বাবা এবং আমি—সবাই পরিবারের বড় ছেলে। তবে সত্যি বলতে, গল্পের বড় ছেলের যে ক্রাইসিস, সেটা আমি ফেস করিনি। এটা আমার জীবনের গল্প নয়। আমার দেখা বিভিন্ন পরিবারের বড় ছেলের গল্প। কিছু বিষয় সাজিয়েছিও।

ছয় বছর ধরে ফিকশন বানাচ্ছেন। ‘বড় ছেলে’ আপনার কততম নির্মাণ?
৪০তম।

‘বড় ছেলে’র মতো রেসপন্স আগে কখনো পেয়েছেন?
উত্তরটাকে ঔদ্ধত্য ভাববেন না, শুধু আমিই নই, গত কয়েক বছরে এমন রেসপন্স আর কোনো নির্মাতা পাননি। অপূর্ব ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘আরিয়ান, মনে হচ্ছে একটা সিনেমা করলাম। বহু বছর পর একটা সিনেমা হিট হলে যেমন হয়, তেমনটাই মনে হচ্ছে। ’

শুনেছি, ‘বড় ছেলে’র চিত্রনাট্য লেখার সময় আপনি কেঁদেছেনও।
বাসায় একটা আয়নার সামনে বসে সব সময় চিত্রনাট্য করি। সংলাপগুলো নিজেই আগে দিয়ে দেখি ইমোশনটা কেমন আসে। এই টেলিফিল্মটার সংলাপ দিয়ে নিজেই অনেকবার কেঁদেছি। আগেও অনেক নাটকের সংলাপ করার সময় মন খারাপ হয়েছে, কিন্তু এবার কেঁদেছি। শুটিংয়ের সময়ও কান্নার রোল ওঠে। শেষ দৃশ্যটা তো এখন ভাইরাল। দৃশ্যটার শুটিংয়ের সময় অপূর্ব-মেহজাবিন অঝোরে কেঁদেছেন। মেহজাবিন তো গাড়িতে গিয়ে পাঁচ মিনিট ধরে কেঁদেছেন। দৃশ্যটা যখন ওকে হলো আমি তো কাঁদছিই, পেছনে তাকিয়ে দেখি, যারা শুটিং দেখতে এসেছে তারাসহ কলাকুশলীদের সবাই কাঁদছেন।

আগে বুঝতে পেরেছিলেন ‘বড় ছেলে’ এতটা সাড়া জাগাবে?
প্রথমবার যখন অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে স্ক্রিপ্ট নিয়ে বসি, উনি পড়ে বললেন, ‘আরিয়ান, এটা তোমার জীবনের সেরা স্ক্রিপ্ট। ’ উনিই এটা বলতে পারতেন, কারণ সর্বশেষ আমার যতগুলো নাটক আলোচিত হয়েছে, তার সব কটিতেই তিনি ছিলেন।

অনেকেই বলছেন, এটা নব্বইয়ের গল্প, পুরনো বাংলা ছবিতেও এ ধরনের গল্প দেখা গেছে। তবে উপস্থাপনটা আলাদা...
মধ্যবিত্ত পরিবার বা প্রেমের যেসব গল্প আমরা দেখাই, তার সবই কিন্তু আগে হয়ে গেছে। আমি জাস্ট পরিবারের একটা বড় ছেলেকে দেখাতে চেয়েছি, তার দায়িত্ব কতটা সেটা দেখাতে চেয়েছি। অনেকেই আমার কাছে অভিযোগ করেছেন, ‘আমার বড় ভাই তো পরিবারের খোঁজখবরও নেন না। ’ তাঁদের বলছি, আমি একজন আদর্শ বড় ভাই দেখিয়েছি, সবার বড় ভাইকে দেখাইনি।

রোজার ঈদে আদনান আল রাজীবের ‘বিকালবেলার পাখি’ প্রশংসিত হয়েছিল। এটা ছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের আবেগের গল্প। এটা কি কোনোভাবে আপনাকে  প্রেরণা জুগিয়েছে?
না। আমার গল্পটা অনেক বছর আগের। পরের ঈদে আমি যে গল্পটা নিয়ে কাজ করছি, সেটার সম্পর্কে বললে বিষয়টা বুঝতে পারবেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে ১০-১২ হাজার টাকার চাকরি পায় গল্পের নায়ক। ২০-২৫ হাজার টাকা বেতনের আশায় সেই ছেলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক হয়ে যায়। মা মারা যাওয়ার পরও সে দেশে আসতে পারে না। মায়ের লাশটা দেখে ভিডিওতে। গল্পটা লিখেছি আরো আগে। এত দিন করতে পারিনি বাজেটের অভাবে।

এখন তো আর বাজেটের সমস্যা থাকবে না?
না। এখানেও অভিনয় করবেন অপূর্ব।

আপনার সিনেমা দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন অনেকেই। সিনেমা কি ‘বড় ছেলে’ নিয়েই করবেন, না একেবারে নতুন গল্প নিয়ে?
দুই বছর আগেই সিনেমার গল্প রেডি করে রেখেছি। এত দিন প্রযোজকের অভাবে করতে পারিনি।

এবার নিশ্চয়ই প্রযোজক পেয়ে যাবেন!
পেয়ে গেছি অলরেডি। চিত্রনাট্যের কাজ চলছে, শিল্পীদের সঙ্গেও কথা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারিতে ঘোষণা দেব।


মন্তব্য