kalerkantho


কর্নিয়ার সঙ্গে কিছুক্ষণ

পপ, রক ও ব্যান্ড ঘরানার গান করে অভ্যস্ত জাকিয়া সুলতানা কর্নিয়া। প্রথমবারের মতো গেয়েছেন ভালোবাসার গান—‘কী করে তোকে বোঝাই’। এই গায়িকাকে নিয়ে লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন মঞ্জুরুল আলম

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কর্নিয়ার সঙ্গে কিছুক্ষণ

‘কী করে তোকে বোঝাই’ গানটিতে কর্নিয়া কণ্ঠ দিয়েছেন আসিফ আকবরের সঙ্গে। এবারই প্রথম এই গায়কের সঙ্গে গাইলেন।

‘আমার অনেক প্রিয় একজন শিল্পী আসিফ ভাই। ইচ্ছা ছিল, কখনো সুযোগ এলে তাঁর সঙ্গে গাইব। তবে এভাবে হুট করে হয়ে যাবে ভাবিনি। ভিডিওতে গানটি প্রকাশের পর থেকে যেখানে যাচ্ছি, সবার প্রশংসা পাচ্ছি। ’ এতে আসিফের সঙ্গে মডেলও হয়েছেন কর্নিয়া। শুটিং হয়েছে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকেশনে। দুজনের গায়কি আর পারফরম্যান্স যে দর্শক-শ্রোতার মনে ধরেছে তা বোঝা যাচ্ছে ইউটিউবের ভিউয়ার দেখে। প্রথম ২০ দিনে ২০ লাখ ভিউয়ার পেয়েছে গানটি। নাজির মাহমুদের সুরে কথা লিখেছেন মেহেদী হাসান লিমন। ভিডিও পরিচালনায় সৈকত নাসির। প্রকাশ করেছে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন।
চলতি বছর আরো দুটি গানের ভিডিও নিয়ে আসবেন ঝিনাইদহে জন্ম নেওয়া এই গায়িকা। এর মধ্যে একটি ‘তোমায়’। রক ধাঁচের এই গানটির কথা, সুর ও সংগীত করেছেন ‘ভাইকিংস’ ব্যান্ডের সেতু চৌধুরী। ভিডিও বানিয়েছেন তানভীর খান। অন্যটি হলো ‘লাগ ভেলকি’। এটি পপ। তৈরি করেছে স্টুডিও ডকইয়ার্ড। ভিডিও পরিচালনায় ফরহাদ আহমেদ। গায়িকা বলেন, ‘চারদিকে সবাই এখন সিঙ্গল গানের দিকে ঝুঁকছে। আমিও এই স্রোতে গা ভাসালাম। একটি একটি করে গান করে ভিডিওতে প্রকাশ করব। দুই গানের ভিডিওতে মডেলও হয়েছি আমি। কথার সঙ্গে মিল রেখেই গল্প তৈরি করে শুটিং করা হয়েছে। শুটিংয়ের অভিজ্ঞতাও বেশ ভালো। নতুন লুকেই আমাকে দেখতে পাবেন সবাই। ’
কয়েক দিন আগে সংগীতার ব্যানারে এসেছে কর্নিয়ার আরেকটি গান—‘তুই সে ভালো থাক’। শাহরিদ বেলালের কথা ও সুরে সংগীতায়োজন করেছেন রেজওয়ান শেখ। এই গানেরও ভিডিও আসতে পারে বলে জানিয়েছেন।
২০১২ সালে ‘পাওয়ার ভয়েস’ প্রতিযোগিতা দিয়ে পরিচিতি পান কর্নিয়া। অন্যদের উদ্যোগে টুকটাক গাইলেও নিজের প্রকাশ করা গান হাতে গোনা। ২০১৫ সালে আরফিন রুমিকে নিয়ে করেছিলেন ‘হিরো’। আর গত বছর সেতু চৌধুরীর সুর-সংগীতে ‘গাঙচিল’।
বলেন, ‘পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে গান করার পক্ষে আমি। এতে গানের কোয়ালিটি রক্ষা করা যায়, শ্রোতার কাছেও ঠিকমতো পৌঁছে। ’
প্লেব্যাকেও শোনা যায় কর্নিয়ার কণ্ঠ। এই মাধ্যমে তাঁর অভিষেক ২০১৩ সালে ‘রাঙা মন’ দিয়ে। এরপর গেয়েছেন ‘পুড়ে যায় মন’, ‘রান আউট’, ‘দ্য স্টোরি অব সামারা’, ‘পাগল বাড়ির প্রেম’, ‘স্বপ্নছোঁয়া’সহ ১৫টি চলচ্চিত্রে। তবে চলতি বছর চলচ্চিত্রের কোনো গানে কণ্ঠ দিতে পারেননি! কেন? কারণটা শোনা যাক তাঁর কাছেই, ‘মাঝে স্টেজ শো নিয়ে খুব ব্যস্ত ছিলাম। সে সময় বেশ কয়েকজন আমাকে কল করেছিলেন প্লেব্যাকের জন্য। কিন্তু সময় দিতে পারিনি। ফলে তাঁরা আর আমাকে ডাকছেন না। এতে আমার কী দোষ বলুন! মানুষের তো অন্যদিকে ব্যস্ততা থাকে পারে, নাকি?’
স্টেজ শো দিয়েই নিজের পরিচিতি বেশি ছড়াতে পেরেছেন বলে দাবি তাঁর। দেশের প্রায় সব জেলায়ই গেছেন গান শোনাতে। করপোরেট আর বিভিন্ন অফিশিয়াল শোতেও ডাক পড়ে বেশ। ঈদের পর থেকে এরই মধ্যে কয়েকটি স্টেজে উঠেছেন। সামনে গাইতে যাবেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশ কয়েকটি শহরে। বলেন, ‘স্টেজে দাঁড়িয়ে মানুষের উচ্ছ্বাস দেখার মজাই আলাদা। সবচেয়ে বড় কথা, একজন শিল্পীর সত্যিকারের পরীক্ষা হয় স্টেজে। সেখানে যিনি ঠিকমতো গাইতে পারেন, মাতিয়ে রাখতে পারেন, শ্রোতারা তাকেই মনে রাখে। তবে তখন খুব দুঃখ লাগে, যখন কেউ হিন্দি গানের অনুরোধ করে। ’
কথার শেষ ভাগে জানান, গানের বাইরে এই মুহূর্তে আর কিছু ভাবছেন না। তাঁর খুব ইচ্ছা মিউজিকের ওপর মাস্টার্স করার। সময়-সুযোগ বুঝে কোথাও ভর্তি হয়ে যাবেন। সংগীত নিয়ে অনেক স্বপ্ন কর্নিয়ার। এই স্বপ্নের ভেলায় চড়ে ছুটে যেতে চান দূর-বহুদূর...


মন্তব্য