kalerkantho


জলমানবের প্রেম

প্রায় সাত বছর পর কোনো ইংরেজি ভাষার চলচ্চিত্র জিতল ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবের সেরার পুরস্কার। উত্সবে গোল্ডেন লায়ন জেতা মেক্সিকান পরিচালক গুলেরমো দেল তোরোর ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’ নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জলমানবের প্রেম

গুলেরমো দেল তোরো ‘দানব’ ভালোবাসেন। সেটা ‘প্যানস লাবেরিন্থ’ হোক বা ‘হেলবয়’ সিরিজ।

বারবার পর্দায় তিনি তুলে এনেছেন নানা কিসিমের দানব। এবারেরটা অবশ্য অন্য রকম। এবার তিনি পর্দায় হাজির করেছেন জলদানবকে। গল্পটা ষাটের দশকের, এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এলিজা এসপাসিতোকে নিয়ে, যে ঘটনাচক্রে এক জলদানবের প্রেমে পড়ে। তাদের সম্পর্কের গল্পই ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’, যা দেল তোরোর হাতে এনে দিয়েছে ভেনিস চলচ্চিত্র উত্সবের সেরার পুরস্কার। ছবির গল্পটা পরিচালকের মাথায় আসে ২০১১ সালে, সকালের নাশতা খেতে বসে। তবে তখন সেখানে অ্যাকোয়ারিয়াম ছিল কি না, আর থাকলেও সেখান থেকেই মত্স্যদানবের আইডিয়া এসেছিল কি না, সেটা বলা মুশকিল। ২০১১ সালে আইডিয়া মাথায় এলেও ছবির কাজ শুরু হতে হতে ২০১৬।

এর মধ্যে বেশ কয়েকটি ছবি বানিয়েছেন, আর ধীরে ধীরে এই ছবি নিয়ে চিন্তা করেছেন। কেন্দ্রীয় এলিজা চরিত্রে নেওয়া হয় ব্রিটিশ অভিনেত্রী সালি হকিন্সকে। ২০১৪ সালের গোল্ডেন গ্লোবে পরিচালকের সঙ্গে অভিনেত্রীর দেখা হয়। তখনই এই ছবির ব্যাপারে দুজনের    কথা হয়। জালমানবের সঙ্গে প্রেম নিয়ে লেখা ছবির চিত্রনাট্য যখন তাঁর কাছে পাঠানো হয়, কাকতালীয়ভাবে তিনি এমন একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে কাজ করছিলেন, যেখানে মূল চরিত্র মানুষ থেকে মত্স্যকন্যায় রূপান্তরিত হয়! তবে সালির জন্য অবশ্য এই ‘জলমানব’ বা ‘মত্স্যকন্যা’র মতো গল্পগুলো নতুন কিছু নয়।  কারণ আগেও তিনি দুইবার জাদু বাস্তবতা নিয়ে তৈরি গল্পে   কাজ করেছেন [‘গডজিলা’ ও ‘পেডিংটন’]। মাস কয়েক আগে ট্রেলার মুক্তির পর থেকেই কার্যত সমালোচকদের প্রিয় হয়ে ওঠে ‘দ্য শেপ অব ওয়াটার’। অনেকেই তখন ছবিটির বিভিন্ন উত্সবে পুরস্কার পাওয়া অবধারিত ধরে নিয়েছিলেন। ট্রেলার দেখার পর কেভিন স্মিথ টুইট করেন, ‘এমন অসাধারণ কিছু একটা দেখলাম যে নিজেকে পরিচালক বলতে গর্দভের মতো লাগছে। ’ এই ছবিতে বিশেষত দেল তোরোর সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে ছিলেন ‘হিডেন ফিগারস’ খ্যাত অক্টাভিয়া স্পেন্সার। বলেছিলেন, দেল তোরোর সঙ্গে কাজ করতে দরকার হলে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত পর্যন্ত হাঁটবেন! অত কিছু না করেই অবশ্য ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পেয়েছেন তিনি। সমালোচকদের মতে, ‘প্যান’স লাবেরিন্থ’-এর পর এটাই পরিচালকের সেরা ছবি। প্রশংসার সঙ্গে কিছু সমালোচনাও অবশ্য হয়েছে। অনেকেই পরিচালকের আগের ‘হেলবয়’-এর সঙ্গে ‘শেপ অব ওয়াটার’-এর ভিজ্যুয়ালি বড্ড মিল দেখতে পাচ্ছেন। পরিচালক অবশ্য সেটা এককথায় উড়িয়ে দিয়েছেন।


মন্তব্য