kalerkantho


যা আছে ‘অর্জুন রেড্ডি’তে

মুক্তির পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও ‘অর্জুন রেড্ডি’কে নিয়ে আলোচনা এখনো থামেনি। সমালোচকরা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ব্যবসাও করেছে দারুণ। আলোচিত এই তেলেগু ছবি নিয়ে লিখেছেন লতিফুল হক

৯ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



যা আছে ‘অর্জুন রেড্ডি’তে

পরিচালক নতুন, গল্পের ধরনটাও। তাই প্রযোজক আর প্রধান অভিনেতা নির্বাচন নিয়ে অনুমিতভাবেই ঝামেলা হয়েছে।

নতুন পরিচালকের ওপর ভরসা করেননি বড় প্রযোজনা সংস্থা আর তারকারা। মাত্র ৩১ বছর বয়সী সন্দীপ রেড্ডির জন্য এর চেয়ে কঠিন কী হতে পারত। তবে দমে যাননি। নিজের আর পরিবারের জমানো টাকা-পয়সা দিয়েই লেগে যান কাজে। মনমতো অভিনেতা পাননি, যাঁকে পেয়েছেন তাঁকে নিয়েই শুরু করেন। বাকিটা ইতিহাস। আগস্টের ২৫ তারিখ মুক্তির পর দুই মাসেরও বেশি পেরিয়ে গেছে, কিন্তু ‘অর্জুন রেড্ডি’কে নিয়ে আলোচনা থামেনি। অন্ধ্র প্রদেশ আর তেলেঙ্গানার তরুণদের নায়ক হয়ে উঠেছে অর্জুন রেড্ডি। এর মধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে তামিল রিমেক, কথা চলছে হিন্দিরও, যেখানে প্রধান চরিত্রে দেখা যেতে পারে রণবীর সিংকে। কিন্তু কী আছে ‘অর্জুন রেড্ডি’তে, যা প্রথম সপ্তাহেই ৩০ কোটি রুপির বেশি ব্যবসা এনে দেয়? ছবির প্রথম চমক ছিল গল্প। প্রচলিত তেলেগু ছবির অ্যাকশন-কমেডির বাইরে অন্য রকম গল্প এই অঞ্চলের দর্শকদের কাছে ধাক্কার মতো। গল্পের নায়ক অর্জুন রেড্ডি। মেডিক্যাল ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র। প্রচণ্ড মেধাবী এবং বেপরোয়া টাইপ। মেডিক্যালের ছাত্র হলেও ধূপমান, মদ্যপান করে সমানে, ফুটবল খেলায় মারামারি করতেও পিছপা হয় না। এই মারামারিতে বাধে ঝামেলা। অর্জুন ঠিক করে, কলেজ বদলাবে। কাগজপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময়ই থমকে যায় একজনকে দেখে। প্রথম দেখায়ই প্রথম বর্ষের ছাত্রী প্রীতির প্রেমে পড়ে। এরপর ঘটতে থাকে নানা ঘটনা। আপাতদৃষ্টে সহজ গল্পটা দারুণ মুনিশয়ানার সঙ্গে তুলে ধরেছেন পরিচালক। তিন ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের ছবি হলেও তাই বিরক্ত লাগে না। ছবিতে মেডিক্যাল ছাত্রদের প্রচুর ধূমপান আর মদ্যপানের দৃশ্য আছে, যা নিয়ে মুক্তির আগে সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে নানা ঝামেলা হয়, আছে চুম্বন দৃশ্যও। তবে মুক্তির পর সমালোচকদের প্রশংসা আর ব্যবসায়িক সাফল্যে সেসব বিতর্ক ভুলিয়ে দিয়েছে। যাঁরা মুক্তির আগে ছবির সঙ্গে মেডিক্যালের ছাত্রদের সত্যিকারের জীবনযাপন মেলে কি না এ নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, দেখার পর তাঁদেরও সন্দেহ উধাও। যে নিশ্চয়তা অর্জুন রেড্ডি ওরফে বিজয় দেবারাকোন্ডা আগেই দিয়েছিলেন, ‘এই ছবি দেখলে মেডিক্যালের ছাত্ররা বলতে পারবে না বিষয়গুলো বানানো। ’ নায়কের এমন আত্মবিশ্বাসের কারণ পরিচালক সন্দীপ নিজেই যে মেডিক্যালের ছাত্র ছিলেন! আগে বেশ কয়েকটি ছবি করলেও বিজয় এই এক ছবি দিয়েই তেলেগু সুপারস্টারের কাতারে উঠে গেছেন। ‘অর্জুন রেড্ডি’তে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এক সপ্তাতেই গোটা পাঁচেক ছবির প্রস্তাব পেয়েছেন! যদিও এই ছবির প্রস্তাব তিনি পেয়েছিলেন তৃতীয় বিকল্প হিসেবে। ছবির জন্য প্রথম প্রস্তাব পান আল্লু অর্জুন। কিন্তু তিনি ‘না’ করে দেন। পরে পরিচালক যান আরেক অভিনেতা শারওয়ানন্দের কাছে। কিন্তু তিনিও নতুন পরিচালকে আস্থা রাখতে পারেননি। সর্বশেষ রাজি হন বিজয়।

ছবির নায়িকা শালিনী পাণ্ডেরও এটা প্রথম ছবি। তাঁরও কপাল খুলে গেছে ‘অর্জুন রেড্ডি’তে। বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছেন, যার মধ্যে আছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জনপ্রিয় মালয়ালাম তারকা দিলকার সালমানের বিপরীতে একটি ছবিও। সাম্প্রতিক সময়ে একই সঙ্গে দুর্দান্ত ব্যবসাসফল আর সমালোচকদের ভূয়সী প্রশংসা পাওয়া হাতে গোনা ছবির একটি এটি। হিন্দুস্তান টাইমস তাদের সমালোচনায় পাঁচে পাঁচ দিয়েছে, দ্য হিন্দু বলেছে এটা তেলেগু সিনেমার জন্য ‘ল্যান্ডমার্ক চলচ্চিত্র’। বেশির ভাগ সমালোচকের মতে, এতটা বাস্তবসম্মত তেলেগু ছবি খুব বেশি নির্মিত হয়নি। ‘বোল্ড, ওয়াইল্ড অ্যান্ড অনেস্ট’—বেশির ভাগই ছবিকে বোঝাতে এই তিন শব্দ বেছে নিয়েছেন। একই মত দক্ষিণী তারকাদেরও। রামগোপাল ভার্মা এই ছবি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচালক আর প্রধান অভিনেতাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘অর্জুন রেড্ডি’তে মুগ্ধ হয়েছেন ‘বাহুবলি’ পরিচালক এস এস রাজামৌলিও। একইভাবে মহেশ বাবু, সামান্থা থেকে শুরু করে ছবি দেখে মুগ্ধ প্রথমে ফিরিয়ে দেওয়া আল্লু অর্জুন আর শারওয়ানন্দও।

পরিচালক সন্দীপ এখন ব্যস্ত দ্বিতীয় ছবি নিয়ে, বলাই বাহুল্য এবার আর প্রযোজক পেতে সমস্যা হয়নি। প্রথম ছবির এই অভাবনীয় সাফল্য তাঁর কাছে এখনো স্বপ্নের মতোই, ‘চড়াই-উতরাই মিলিয়ে অসাধারণ সফর ছিল। একটা আবেগের নাম অর্জুন রেড্ডি। নিজের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, কিন্তু মানুষ এতটা ভালোবাসবে ভাবিনি। একটা সাধারণ প্রেমের গল্প। আমি ব্রেক আপের পর মানসিক অবস্থাটা দেখাতে চেয়েছি এবং সৌভাগ্যবশত যা লিখেছিলাম, হুবহু সেটাই পর্দায় দেখাতে পেরেছি। ’ দক্ষিণ ভারতের মতো বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে ছবিটি। চলচ্চিত্র নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে প্রতিদিনই চলছে আলোচনা, তৈরি হয়েছে বাংলা সাবটাইটেলও।


মন্তব্য