kalerkantho


শূন্য থেকে শুরু

২০১৭ সালটা পাঞ্জাবি তরুণ সংগীতশিল্পী গুরু রান্ধাওয়ার কাছে স্মরণীয় হয়েই থাকবে। ‘তুমহারি সুলু’র ‘বানজা রানি’র জনপ্রিয়তার পর এই গায়কের ‘লাহোর’ও এখন শ্রোতার মুখে মুখে। লিখেছেন সজল সরকার

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



শূন্য থেকে শুরু

২০১৩ সালে ‘পেজ ওয়ান’ অ্যালবাম আত্মপ্রকাশ করলেও নাম হয়নি তেমন। গত বছর ‘হিন্দি মিডিয়াম’ ছবিতে ইরফান ও সাবা কামার অভিনীত ‘সুট’ গানের গায়ক হিসেবে খ্যাতি ছড়াতে থাকে গুরু রান্ধাওয়ার। ‘তুমহারি সুলু’তে তাঁর গাওয়া ‘বানজা রানি’ এখন বেশ জনপ্রিয়। গত মাসে হিন্দি গানের তালিকার শীর্ষস্থানে চলে আসে গানটি। এখনো আলোচনায় আছে। রজত নাগপালের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সংগীতায়োজন শেষে গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন গুরু রান্ধাওয়া। লিখেছেন নিজেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের গল্পের সঙ্গে খাপ খেয়ে যাওয়াই গানটির সফলতার মূল কারণ বলছেন কেউ কেউ। ‘বানজা রানি’র পর রান্ধাওয়ার ‘লাহোর’ গানটিও ইন্টারনেটে বাজিমাত করছে। গায়ক নিজেই এখন গানটির প্রেমে মজে আছেন। এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘লাহোর গানটিতে একটি মেয়ের সৌন্দর্যের বর্ণনা করা হয়েছে। মেয়েটিকে লাহোরের সৌন্দর্য, মুম্বাইয়ের চলন-বলন এবং লন্ডনের আবহাওয়ার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানেরও বর্ণনা রয়েছে। গাড়িতে ঘুরতে বের হয়ে গানটির কথা মনে এসেছে। সুরটাও তখনই হয়ে যায়’—বলছিলেন তিনি। ‘সিমরান’ ছবিতে জনিতা গান্ধীর সঙ্গে গাওয়া ‘লাগদি হ্যায় থাই’ গানটিও শ্রোতারা গ্রহণ করেছে বেশ।

জন্ম ১৯৯১ সালে ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের গুরুদাসপুরে। গ্রামে বেড়ে ওঠা ছেলেটি একপ্রকার স্রোতের বিপরীতেই গান শুরু করেন। ভবিষ্যতে গানকে পেশা হিসেবে নেবেন কি না তখনো ভাবেননি। টেলিভিশনে যাওয়ার ইচ্ছা থেকেই টুকটাক গান গেয়ে নাম কামানোর চেষ্টা ছিল তাঁর। পাড়ায় বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠানে নিয়মিত গাইতেন। পরে দিল্লিতে এসে ছোটখাটো অনুষ্ঠানে গাইতেন মাত্র ৫০০ রুপির বিনিময়ে। সাত-আট বছর পরিশ্রমের পর এখন হানি সিংয়ের মতো গায়কের সমপর্যায়ে ২৬ বছর বয়সী রান্ধাওয়া। পাঞ্জাবি ঐতিহ্যে বড় হওয়া রান্ধাওয়া শিকড়কে ভুলতে চান না। ইন্ডিয়ান এক্সপেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি আমার সংগীতে পাঞ্জাবের রীতিনীতি ধরে রাখতে চাই। আমি কোনো প্রশিক্ষিত সংগীতশিল্পী নই। নিজের মতো করে গান লিখি। শ্রোতারাই আমার লেখার অনুপ্রেরণা।’

গায়কের কাছে তরুণ শ্রোতারাই প্রিয়। গত মাসে কয়েকটি কলেজ ও দিল্লি ইউনিভার্সিটির অনুষ্ঠানে গাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, ‘দিল্লি ইউনিভার্সিটি ও আশপাশের কলেজের শিক্ষার্থীরাই খুব মজার। তাদের মতো তরুণ বয়সের উত্তেজনা আমাকেও নাড়া দেয়। তারা ভাবে আমি তাদেরই একজন।’

পড়াশোনার জন্য ২০০৯ সালে প্রথম দিল্লিতে আসেন রান্ধাওয়া। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। দরিদ্র পরিবার থেকে আসা রান্ধাওয়া দিল্লিতে এসে প্রথম প্রথম মার্সিডিজ গাড়িও চিনতেন না! সিগারেট খাওয়া বন্ধুদের কাছ থেকে দূরে থাকতেন মা-বাবার বারণের কারণে। তবে প্রেমের বিষয়ে বেশ স্পষ্টভাষী। কোনো মেয়েকে ঠকাতে চান না বলেই নাকি প্রেম করেন না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গেলে তরুণীরা পাশে ভিড় করে প্রেম নিবেদনের জন্য। কিন্তু উদাসীন রান্ধাওয়ার সেদিকে মন নেই, ‘দিল্লির মেয়েরা সবাই নায়িকার মতো দেখতে। অনেকেই আমার প্রেমে পড়ে। কারো অনুভূতিকে কষ্ট দিতে চাই না বলে প্রেম করি না।’



মন্তব্য