kalerkantho


অদ্বিতীয় ইমন

‘গিটোলিন’ শিরোনামে একটি ইনস্ট্রুমেন্টাল করে সুনাম কুড়াচ্ছেন ‘চিরকুট’ ব্যান্ডের গিটারিস্ট ইমন চৌধুরী। সংগীত পরিচালনায়ও তিনি এখন ব্যস্ত। পহেলা বৈশাখে আসছে তাঁর তৈরি একাধিক গান। লিখেছেন রবিউল ইসলাম জীবন। ছবি তুলেছেন সাইফুল রাজু

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



অদ্বিতীয় ইমন

গিটোলিন

‘গিটোলিন’ ইমনের সাত নম্বর ইনস্ট্রুমেন্টাল। গিটার ও ভায়োলিনের সমন্বয়ে কাজটি করেছেন বলেই এমন নামকরণ! ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ইনস্ট্রুমেন্টালটি নিজের ফেসবুকে প্রকাশ করেন ইমন, যা নিমেষেই ছড়িয়ে যায় চারদিকে। পাঁচ হাজারের মতো শেয়ার পড়ে। ইমনের পোস্ট করা ভিডিওটিই শেয়ার হয়েছে তিন হাজারের বেশি। প্রতিটি শেয়ারের ক্যাপশনেই ঝরছে ইমনের প্রশংসা! কেউ কেউ ভালো লাগার কথা জানাচ্ছে ইনবক্সে কিংবা মুঠোফোনে। সবার এমন প্রতিক্রিয়ায় মুগ্ধ ইমন, ‘অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল গিটার ও ভায়োলিন মিশিয়ে কিছু একটা করার। অবশেষে মনমতো করে কাজটি করতে পেরেছি। সবাই এতটা পছন্দ করবে শুরুতে ভাবিনি। শুধু দেশে নয়, বাইরের অনেক মিউজিশিয়ানও ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন—এটা আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।’ ইমন আরো বলেন, ‘একজন গিটারিস্ট শুধু যে গিটার বাজাবেন তা কিন্তু নয়। এর সঙ্গে অন্যান্য যন্ত্র বাজাতে জানলে বরং তিনি নানা এক্সপেরিমেন্ট করতে পারেন। পৃথিবীর বড় বড় গিটারিস্ট তা করেন। তাঁদের বলে মাল্টি ইনস্ট্রুমেন্টালিস্ট। আমি চেষ্টা করেছি এই ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজের দেশকে উপস্থাপন করতে।’ গিটার-ভায়োলিনের পাশাপাশি সেতার, ম্যান্ডোলিন, বুজুকি ও বেনজো বাজানোতেও পারদর্শী ইমন।

 

সংগীত পরিচালনা

প্রায় পাঁচ বছর ধরে গানের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন ইমন চৌধুরী। শুরুতে শুধু সংগীত পরিচালনা করলেও এখন সুরও দিচ্ছেন। ইমনের করা অর্ধশতর বেশি গান প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—মিনারের ‘দেয়ালে দেয়ালে’ ও ‘কি করি’, শাহরুখ কবিরের ‘জন্মকথা’, বেলাল খান ও পূজার ‘দোজখ’ এলিটা-মাহাদীর ‘অনুভূতি’ ইত্যাদি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে ইমনের সুর-সংগীতে প্রকাশ পাচ্ছে তাহসানের, ‘ভালোবাসি তাই’, শেনিজের ‘শর্ত’ [ভিডিওসহ] এবং মিনারের একটি গান। তানজীব সারোয়ারের সুরে ‘দুঃখটা’ শিরোনামে তাহসানের আরেকটি গানের সংগীতায়োজন করেছেন ইমন। এর বাইরে তানজীব সারোয়ার, এলিটা করিম, সাঈদা তানি, ঐশী, হাসিব, ‘মধু হইহই’ খ্যাত জাহিদ প্রমুখ শিল্পীর জন্যও নতুন গান বানিয়েছেন; যেগুলো এর মধ্যেই প্রকাশ পাবে। ইমন বলেন, ‘ব্যান্ড মিউজিক করলেও ক্লাসিক্যালের প্রতি আমার অন্য রকম একটা ভালোবাসা আছে। গানের মধ্যেও সেই ব্যাপারটি রাখার চেষ্টা করি।’

 

জিঙ্গেল

‘দেশ আমার দোষ আমার’ শিরোনামে আরএফএলের একটি জিঙ্গেল এখন ভাইরাল। হাসিব ও তৌফিকের গাওয়া জিঙ্গেলটি বানিয়েছেন ইমন। এর বাইরে তাঁর আরো অনেক কাজই হয়েছে আলোচিত। ইমন জানান, এ পর্যন্ত দুই শর বেশি জিঙ্গেল তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, ‘এ ধরনের কাজে পরিশ্রম আছে। একটি কাজ দিয়ে অনেকের মন জয় করতে হয়। শিডিউল থাকে খুব টাইট। যার ফলে চ্যালেঞ্জও বেশি। তবে দিনশেষে লাভটা নিজেরই। কারণ এর ফলে প্রতিদিন নতুন নতুন গল্প শুনতে পাই। নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজে বসি, যা গান তৈরির ক্ষেত্রে আমাকে সাহায্য করে।’

 

নিজে যখন গায়ক

শরাফ আহমেদ জীবনের ‘আবার তোরা সাহেব হ’ নাটকে ইমনের গাওয়া ‘প্রাণ ধরিয়া মারো টান’ এখন বেশ জনপ্রিয়। তবে গাওয়ার ক্ষেত্রে নিজেকে একটু আড়ালেই রাখতে পছন্দ করেন ইমন, ‘ছোটবেলা থেকেই গান শিখেছি। তবে আমার ধ্যান-ধারণাজুড়ে গিটার। নিয়মিত গাইতে গিয়ে যাতে এদিক থেকে ফোকাসটা সরে না যায় সে জন্য গাইতে চাই না।’ হাসতে হাসতে যোগ করেন, ‘শিল্পী বা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কেউ যখন আমার কণ্ঠে সুরের ডেমো ভয়েস শুনে গাওয়ার জন্য জোর করতে থাকে তখন ব্যাপারটা আমি এনজয় করি। তবে আমার কাছে কমিটমেন্ট আগে। মাঝেমধ্যে বেশি ভালো লেগে গেলে দুই-একটি গান যে গাইব না তা কিন্তু নয়।’

 

বাবা যখন গুরু

ইমনের জন্ম নরসিংদীতে। বাবা মতিউর রহমান চৌধুরী বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী। তিনি সংগীতশিক্ষক, সুরকার এবং সংগঠকও। নজরুল একাডেমি নরসিংদী শাখার অধ্যক্ষ হিসেবেও কাজ করছেন। বাবার কাছেই সংগীতের প্রথম তালিমটা পেয়েছেন। দশম শ্রেণিতে থাকার সময় জাতীয় শিশু একাডেমি আয়োজিত একটি প্রতিযোগিতায় সারা দেশের গিটারিস্টদের মধ্যে প্রথম হন ইমন। পুরস্কার গ্রহণ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতির হাত থেকে। সেই সময় ইমনের বাবা বলেছিলেন, ‘আমার স্বপ্ন আমার ছেলে একদিন বড় কম্পোজার হবে।’ সেদিন বাবার কথায় বিস্মিত হয়েছিলেন ইমন! কারণ ‘কম্পোজার’ শব্দটির অর্থই জানতেন না তখন। সেই ইমন এখন জীবনটাকেই কম্পোজিশন করেছেন গানের সঙ্গে।

 

এম রেকর্ডস

বন্ধু রাফাত খানকে নিয়ে ‘এম রেকর্ডস’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন ইমন। প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব চ্যানেল থেকে নতুন অডিও-ভিডিও গান প্রকাশ করে থাকেন। “নবীন শিল্পীদের অনেকেই গান করার পর প্রকাশ করার পথ খুঁজে পায় না। তাদের সহায়তা করা এবং নিজেদের পছন্দের কিছু কাজ করতেই ‘এম রেকর্ডস’-এর যাত্রা শুরু করেছি। প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন”, বলছিলেন ইমন।


মন্তব্য