kalerkantho


‘শেষ হওয়ার আগেই সরে যেতে চাই’

ছেলে হাবিব ওয়াহিদের নতুন গান ‘ঝড়’-এর ভিডিওতে মডেল হয়েছেন ফেরদৌস ওয়াহিদ। কয়েক দিন আগে বের হয়েছে তাঁর গাওয়া বাংলা গানের হিন্দি ভার্সন অ্যালবাম। এখন আছেন কানাডায়। তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আতিফ আতাউর

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



‘শেষ হওয়ার আগেই সরে যেতে চাই’

গানের ভিডিওতে বাবা-ছেলে একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেন...

একেবারেই অন্য রকম। একদিন হাবিব বলল, তার নতুন গানের ভিডিওতে থাকব কি না? গানটা শুনে পছন্দ হলো। ভিডিওর পরিকল্পনাটাও বেশ সুন্দর। তাই রাজি হয়ে গেলাম। ছেলের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানো—এটা অদ্ভুত একটা অনুভূতি।

 

বাবা-ছেলের মধ্যে তো দারুণ খুনসুটি। শোনা যায় আপনারা ভালো বন্ধুও।

হা হা হা। আমাদের পিতা-পুত্রের মধ্যে দারুণ একটা সম্পর্ক। যেকোনো বিষয় দুজন শেয়ার করি। কাজের ব্যাপারেও একে অন্যের পরামর্শ নিই। পিতা হিসেবে সন্তানের প্রতি সব সময় একটা দায়িত্ববোধ থাকে। সেটা পালন করতে গিয়ে আমরা বন্ধুর মতো হয়ে গেছি। ভিডিওটাও সেই কারণে করা সহজ হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, বাস্তবে বাপ-বেটা হলেও ভিডিওতে আমি হাবিবের গার্লফ্রেন্ডের বাবার চরিত্র করেছি। প্রচণ্ড ব্যস্ততা নিয়ে কাজটি শেষ করতে হয়েছে। শুটিং শেষ করে সোজা এয়ারপোর্টে চলে আসি। ওই দিন আমার কানাডার ফ্লাইট ছিল।

 

হঠাৎ কানাডায়—

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে এখানকার প্রবাসী বাঙালিরা কনসার্ট আয়োজন করেছে। সেখানে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছি। ৮ এপ্রিল মন্ট্রিয়লে গান করলাম। ১৪ ও ১৫ এপ্রিল গাইব টরন্টোতে। এরপর ২২ এপ্রিল গাইব ভ্যাংকুভারে। এ জন্য এবার পহেলা বৈশাখে দেশে থাকতে পারছি না। এপ্রিলের শেষে ফিরব।

 

এখন তো পহেলা বৈশাখ বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। আপনাদের ছোটবেলায় কেমন ছিল দিনটা?

এখনকার উন্মাদনার ছিটেফোঁটাও আমাদের সময় ছিল না। এখন তো সারা বছর মানুষ দিনটার অপেক্ষায় থাকে। কত আয়োজন! আমাদের সময় পহেলা বৈশাখ ছিল মুদি দোকান আর সোনার দোকানিদের হালখাতার আয়োজন। সারা বছরের বাকির টাকা তোলার জন্য হালখাতার দিন তারা মিষ্টিমুখ করাত। এতটুকুই। তারপর তো ধীরে ধীরে দিনটি ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা বেড়েই চলেছে। বৈশাখে আমাদের গ্রামে মেলা বসত। এখনো আমি গ্রামের বৈশাখী মেলায় যাই, ঘুরিফিরি। শৈশবকে ফিরে পাই গ্রামের বৈশাখী মেলায়।

 

নিজের গাওয়া জনপ্রিয় ছয়টি গানকে হিন্দি করে ‘মুঝে অ্যায়সি মা দে না’ শিরোনামে অ্যালবাম করেছেন। এর পেছনের রহস্য কী?

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেকের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি দেওয়া হয়। পরে ভেবে দেখলাম উপমহাদেশের অনেক শিল্পী বাংলা গান হিন্দিতে গেয়েছেন। কিশোর কুমার, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, লতা মুঙ্গেশকরের মতো শিল্পীরাও আছেন এই তালিকায়। ভাষা কোনো ফ্যাক্টর নয়। মুখ্য বিষয় হচ্ছে গানকে কিভাবে আরো বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। এ কারণেই নতুন করে হিন্দিতে গাওয়া। কেউ ইংরেজিতে গাইতে বললেও করতাম। 

 

এর জন্য কি মিশ্র কোনো প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে?

আমি কানাডা আসার মাত্র কয়েক দিন আগে অ্যালবামটি প্রকাশ পেয়েছে। এ জন্য নিজে ভালোমতো শুনতে পাইনি, শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়াও জানতে পারিনি। এখন অনলাইনে বসব। খোঁজ নেব শ্রোতারা কিভাবে গ্রহণ করছে অ্যালবামটি। তবে বাংলা গান হিন্দিতে গাওয়ায় গানের সমঝদাররা মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখাবেন—এমনটা মনে করি না।

 

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

চারটি মৌলিক গান করে রেখেছি। এগুলোর ভিডিও বানাতে চাই। দেশে ফিরেই কাজ শুরু করব। তবে গতানুগতিক ধারায় নয়, ভিন্ন স্টাইলে ভিডিও বানাব। রোজার ঈদে ভিডিওগুলো প্রকাশ করতে চাই।

 

নাটক-সিনেমা নির্মাণেও দেখা গেছে আপনাকে। নতুন কী করছেন?

‘কুসুমপুরের গল্প’ নামে একটি চলচ্চিত্র বানিয়েছি। টেলিফিল্ম করেছি তিনটি—‘ডেঞ্জারম্যান’, ‘দুরন্ত অভিযান’ ও ‘কয়েদি’। নির্মাতা হিসেবে কাজ করা আমার শখ। ফটোগ্রাফি করতে ভালো লাগে। সে কারণেই নির্মাণে আসা। এখন নতুনদের নিয়ে ‘দুর্ধর্ষ অভিযান’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করছি। এতে আমাকে প্রাইভেট গোয়েন্দা সংস্থার একজন মেজরের চরিত্রে দেখা যাবে।

 

আপনার টেলিফিল্মগুলো থ্রিলার। এই ছবির গল্পও তাই। এর কারণ কী?

ছোটবেলা থেকেই আমি মাসুদ রানার ভক্ত। এখনো মাসুদ রানা পড়ি। ছোটবেলার সেই ভালো লাগা এখনো আমার মধ্যে রয়ে গেছে। তার প্রভাব আমার টেলিফিল্ম ও ছবিতে ফুটে ওঠে।

 

কয়েক দিন আগে বলেছিলেন ২০২০ সালের পর আর গান গাইবেন না।

পেশাদার শিল্পী হিসেবে ২০২০ সালের পর  আর গাইব না। আমি মনে করি সব কিছুর মতো একজন শিল্পীরও শেষ আছে। তাই শেষ হওয়ার আগেই সরে যেতে চাই। এরপর যদি গান করি তার উদ্দেশ্য হবে ভিন্ন। গায়কির টাকা নিজে নেব না। সমাজের উন্নয়নে ব্যয় হবে এমন শর্তে কেউ গাওয়ালে গাইব।


মন্তব্য