kalerkantho


গল্প হলো সত্যি

অনেক কিছুরই পথপ্রদর্শক ছিল ‘২০০১ : আ স্পেস অডিসি’। ছবিতে ব্যবহৃত অনেক প্রযুক্তিই পরে বাস্তবে দেখা গেছে। পর্দা থেকে বাস্তবের গল্প খালিদ জামিলের কাছে

১২ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



গল্প হলো সত্যি

স্ট্যানলি কুব্রিক

আশ্চর্য হলেও সত্যি ‘২০০১ : দ্য স্পেস অডিসি’ ছবিতে দেখা গিয়েছিল এমন অনেক কিছুই পরে সত্যি সত্যি বাস্তবে দেখা গেছে! আবার এমন কিছু প্রযুক্তি এই ছবিতে দেখানো হয়েছে, ৫০ বছর পরে এসেও মানুষ যেখানে পৌঁছতে পারেনি। এই অদ্ভুত ব্যাপারটার ব্যাখ্যাও অবশ্য আছে। যেমন ছবি নির্মাতারা সেই সময়ের প্রথম সারির প্রযুক্তি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলাপ করে। সেগুলোর মধ্যে আইবিএম ও নাসার মতো প্রতিষ্ঠানও ছিল। তাদের কাছ থেকে জানা যায়, সামনের দিনগুলোতে কী ধরনের প্রযুক্তি মানুষের হাতে আসতে যাচ্ছে। সেসব তথ্য মাথায় রেখেই করা হয় ছবির দৃশ্যায়ন। মুক্তি পাওয়ার পর ছবিটিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি এতটাই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল যে পরে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্যের ডিজাইন করেছে এই ছবির পর্দায় দেখা প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে।

১৯৬৮ সালে মুক্তি পাওয়া এই ছবিতে বেশ কিছু ফ্ল্যাট মনিটর সবার দৃষ্টি কেড়েছিল। বর্তমানকালের কম্পিউটারে ঠিক এ ধরনের মনিটরই ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে পার্থক্যও আছে। ছবিতে দেখানো হয়, একেক ধরনের কাজের জন্য একেক ধরনের মনিটর। এমন প্রযুক্তি এখনো আমাদের সামনে আসেনি। আধুনিক সময়ের কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতিও ভিন্ন। ছবিতে কম্পিউটারগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবহৃত হয় মেকানিক্যাল সুইচ। যেখানে হাজারো সুইচের মাধ্যমে কম্পিউটারের কাছ থেকে নিজের চাহিদা আদায় করে নেওয়া হয়। এখনকার ককপিটের কনসোলও বেশ বড়; কিন্তু ওই ছবিতে কোনো টাচস্ক্রিন বা মাউসের ব্যবহার দেখানো হয়নি। এই দুই প্রযুক্তি ছবিটি মুক্তির বছর দুয়েক আগে আবিষ্কৃত হলেও তখনো খুব একটা পরিচিতি পায়নি। তবে ‘২০০১ : দ্য স্পেস অডিসি’ ছবিতে কোনো কি-বোর্ডও দেখা যায়নি। মহাকাশে অভিযাত্রীদের ক্লিপবোর্ডের ওপরে লাগানো কাগজে কলম দিয়ে লিখতে দেখা গেছে। যদিও সেই ষাটের দশকে কি-বোর্ডের আবিষ্কার হয়েছিল। তবে খুব বেশি মানুষ তখনো টাইপ করতে শেখেনি।

কম্পিউটারের পর্দায় নানাভাবে দ্রুতগতিতে তথ্য একের পর এক ভেসে উঠতে দেখা ৫০ বছর আগের মানুষের কাছে অদ্ভুতই ছিল; কিন্তু এখন সেটা হয়ে গেছে ছেলেখেলা। সেই সময় টেলিভিশন ছিল; কিন্তু সেখানে ক্যামেরা যা দেখত তাই প্রদর্শন করা যেত। কম্পিউটারের মতো নিজে থেকেই তথ্য উৎপাদন করতে সক্ষম ছিল না।

জিরো গ্র্যাভিটি টয়লেটের মতো যেকোনো জিনিস ব্যবহারের নিয়ম কম্পিউটারের স্ক্রিনে  ভেসে ওঠা এখন নতুন কিছু না হলেও ৫০ বছর আগে মুক্তি পাওয়া ছবিতে তা দেখলে একটু অবাক হতেই হয়। কারণ সেই সময়ের মানুষের কাছে কম্পিউটার মানে ছিল শুধু গণনাকারী যন্ত্র। অক্ষরের সঙ্গে অঙ্কের কোনো লেনাদেনা নেই, তাই সেটা যেকোনো কম্পিউটারের পর্দায় দেখা যেতে পারে তা সাধারণ মানুষের চিন্তায়ও ছিল না। এ ছাড়া স্বয়ংক্রিয় জানালাও সেই সময় ছিল নতুন ধারণা। কোনো একটি কম্পিউটার অনেক সময় ধরে ব্যবহার না হলে সেটার পর্দায় একটি নির্দিষ্ট কিছু ভেসে থাকার ধারণা দেখানো হয় ছবিটিতে যা আধুনিক সময়ের এটিএম মেশিনের ক্ষেত্রে আমরা দেখি।

১৯৬৮ সালে নির্মিত ছবিতে ২০০১ সালের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে বেশ কিছু অসংগতিও ধরা পড়েছে। যেমন ছবিতে চুলের কাট, কথা বলার ধরন, পোশাক এসব কিছুর সঙ্গে আসল ২০০১ সালের কোনো মিল নেই। সেটা রাখাও আসলে সম্ভব নয়। এ ছাড়া সায়েন্স ফিকশনধর্মী এই চলচ্চিত্রে কোনো চরিত্রের কাছে ব্যক্তিগত কম্পিউটার দেখা যায়নি। সেটাই অবশ্য স্বাভাবিক। এখন যেমন ব্যক্তিগত কম্পিউটার সাধারণ ব্যাপার, তখন গোটা দুনিয়ায়ই কম্পিউটার ছিল হাতে গোনা।


মন্তব্য