kalerkantho


ঈদ মানেই আমার ছবি

শাকিব খান

৭ জুন, ২০১৮ ০০:০০




ঈদ মানেই আমার ছবি

আমাকে যদি অবসর নিতে বলা হয়, আমি রাজি। কিন্তু আমার উত্তরসূরি কি তৈরি? একটা শিল্পকে তো চোখের সামনে ধ্বংস হতে দিতে পারি না

ক্যারিয়ারের বয়স দুই দশক। তারও তিন-চার বছর আগে থেকেই ইন্ডাস্ট্রিতে আসা-যাওয়া। সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতার পথটা বেশ দীর্ঘ। উত্থান-পতন দেখেছি অনেক। ক্যারিয়ারের প্রথম দিকেও আমার ছবি মুক্তি পেয়েছে ঈদে। রুবেল ভাই, মান্না ভাই, রিয়াজ ভাই, ফেরদৌস ভাইরা তখন সুপারস্টার। এক ঈদে আট-দশটা ছবি মুক্তি পাওয়াটা তখন মামুলি ব্যাপার। অন্যদের একাধিক ছবি থাকলেও হয়তো আমার একটা ছবি কোনো ঈদে মুক্তি পেত। পরীক্ষা দিতে হতো আমাকে। তখন ঈদে দুই ধরনের ছবি রিলিজ পেত—রোমান্টিক আর সামাজিক। দর্শকরা পছন্দও করত। রোমান্টিক ছবি হলেই রিয়াজ ভাই, ফেরদৌস ভাই কিংবা শাকিল খান। তাঁদের পাশাপাশি আমিও দুই-একটিতে সুযোগ পেয়ে যেতাম। চ্যালেঞ্জ থাকত সেই সুযোগটাকে কাজে লাগানোর। ধীরে ধীরে চিত্র পাল্টাতে শুরু করল। বিশেষ করে ২০০৬ সাল থেকে। ‘কোটি টাকার কাবিন’—এর পর থেকে ঈদ মানেই আমার ছবি। আমার অভিনয়, মারপিট, নাচ—সব লুফে নিল দর্শক। আমার ছবির সঙ্গে অন্য যে তারকার ছবিই মুক্তি পেয়েছে, ব্যবসা করে উঠতে পারেনি। প্রযোজক-পরিচালকরা আমাকে নিয়ে টানাটানি শুরু করে দেয়। আমিও উপভোগ করতে লাগলাম। এমনও হয়েছে, ঈদের দিন ছবির রেসপন্স দেখে ফের সাইনিং মানি নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ড্রয়িং রুমে অপেক্ষা করেছে অনেকে। ২০০৯ সালের কথা। শিডিউল মেলাতে পারছিলাম না। একের পর এক ছবি হাতে। বাসায় পাণ্ডুলিপির স্তূপ। কী করব! হঠাৎ মাথায় এলো পারিশ্রমিক বাড়াতে হবে। নইলে আর কোনো উপায় নেই। বাড়ালামও, রাতারাতি ১০ লাখ থেকে ২০ লাখ, ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ। কিন্তু লাভ হলো না। প্রযোজক-পরিচালকরা আমাকেই চায়। তত দিনে আমিও পরিণত হয়ে গেছি, বুঝতে শিখেছি দর্শক কী চায়। ২০১০ সাল থেকে ছবির গান আর গল্প নিয়ে মাথা ঘামাতে শুরু করেছি। ফলও এসেছে। ‘নাম্বার ওয়ান শাকিব খান’, ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’, ‘হিটম্যান’, ‘লাভ ম্যারেজ’, ‘রাজাবাবু’, ‘নবাব’, ‘শিকারি’ ছবিগুলো তার প্রমাণ। ১০ বছর আগেও বিদেশে শুটিং করতে চাইত না প্রযোজকরা। আমিই তাদের বুঝিয়েছি, অন্তত গানগুলোর চিত্রায়ণ বিদেশে করতে।

যারা আমার কথা মেনে নিয়েছে তারাই ফল পেয়েছে। এখন তো আমাকে বলতেও হয় না, আগে থেকেই লন্ডন, সুইজারল্যান্ড, সিঙ্গাপুর কিংবা ব্যাংককের লোকেশন চূড়ান্ত করে রাখে। শুধু গান নয়, এখন গল্পেও এসেছে পরিবর্তন। গত পাঁচ-সাত বছরে ঈদে রোমান্টিক ছবি খুব কম মুক্তি পেয়েছে, হাতেগোনা দু-চারটা। অ্যাকশন ছবিগুলো মারমার কাটকাট চলেছে। তার মানে দর্শক এখন রোমান্টিক ছবি ঈদের বাজারে অতটা পছন্দ করছে না। যাহোক, গত এক দশক থেকে আমি নিজেই আমার রেকর্ড ভেঙেছি, গড়েছি। এখনো বিশ্বাস করি ঈদে আমার তিন-চারটি ছবি মুক্তি পেলে ভালো ব্যবসা করবে। এই ঈদে সেটা হওয়ার কথাই ছিল—‘চিটাগাইঙ্গা পোয়া নোয়াখাইল্লা মাইয়া’, ‘সুপার হিরো’ ও ‘ভাইজান এলো রে’। একটা গোষ্ঠী ষড়যন্ত্র করে ‘ভাইজান এলো রে’ মুক্তির পথ বন্ধ করে দিয়েছে। অন্যদিকে ‘সুপার হিরো’র বিরুদ্ধে মামলা করে আটকে দিয়েছে। কী লাভ হলো! ঈদকে কেন্দ্র করে সারা দেশে অন্তত ১০০ হল চালু হয়। সব মিলিয়ে হলের সংখ্যা থাকে ৩০০ থেকে ৪০০। আমার একটি ছবি দিয়ে কি হলগুলো চলতে পারবে? গত দুই বছর ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে শাকিব হটাও মিশন চলছে। আমার অপরাধ কী? যেসব প্রযোজক-পরিচালক এই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা তাদের প্রত্যেককে আমিই ডেকে এনে কাজ দিয়েছি। টাকা না থাকলেও ছবি শেষ করে দিয়েছি। এটাই কি আমার ভুল ছিল! এবারের ঈদ নিয়ে আমি দারুণ আশাবাদী ছিলাম। তিনটি ছবিই ছিল তিন রকমের। দর্শক তুষ্ট হতো। এই ছবিগুলো মুক্তি না পাওয়ায় আমার যতটুকু ক্ষতি হলো তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হলো ইন্ডাস্ট্রির! নতুন যারা বাংলা ছবি দেখতে শুরু করেছিল, তাদেরও তাড়িয়ে দেওয়া হলো। এমনিতেই আমি এখন অভিনয় কমিয়ে দিয়েছি। বছরে সর্বোচ্চ পাঁচ-ছয়টি ছবি করি। টার্গেট থাকে দুই ঈদ আর পহেলা বৈশাখ। এখন সেটাও তো হতে দিচ্ছে না। আমাকে যদি অবসর নিতে বলা হয়, আমি রাজি। কিন্তু আমার উত্তরসূরি কি তৈরি? একটা শিল্পকে তো চোখের সামনে ধবংস হতে দিতে পারি না। গত দুই ঈদেও ‘শিকারি’ ও ‘নবাব’ নিয়ে রাজনীতি হয়েছিল, এবারও একই চিত্র। আমি একজন অভিনেতা হিসেবে এমন ঈদ চাই না। ঈদ বা যেকোনো উত্সবে যার ইচ্ছা সে-ই ছবি মুক্তি দিক। তাহলে প্রতিযোগিতা বাড়বে। ছবির বাজার চাঙ্গা হবে আবার।

অনুলিখন : সুদীপ কুমার দীপ


মন্তব্য