kalerkantho


সময় সব কিছু বদলে দেয়

‘নচিকেতার কথা ও সুরে রবি’ অ্যালবামের মিক্স, মাস্টার এবং নতুন আরো ছয়টি গানের ট্র্যাক করতে ৪ জুন বিকেলে কলকাতায় গেছেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। এর আগে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রবিউল ইসলাম জীবন

৭ জুন, ২০১৮ ০০:০০



সময় সব কিছু বদলে দেয়

‘নচিকেতার কথা ও সুরে রবি’ অ্যালবামটির কাজ শুরু করেছিলেন চার বছর আগে। এখনো প্রকাশ করেননি।

সত্য কথা বলতে কি, এই সময়টায় অডিও ইন্ডাস্ট্রির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। অ্যালবাম থেকে সরে এসে মানুষ সিঙ্গেল গান করে ভিডিও তৈরির দিকে ঝুঁকেছে। এই অবস্থায় অ্যালবামটি কোন প্রক্রিয়ায় বের করব তা বুঝে উঠতে পারছিলাম না। তার ওপর দেশ-বিদেশের স্টেজ শোসহ নানা ব্যস্ততা। আবার কাজটি শুরু করেছি। আজ বিকেলে কলকাতায় যাচ্ছি। চার-পাঁচ দিন থাকব। মনের মতো করে অ্যালবামটির মিক্স, মাস্টার করব। ভয়েসের কাজ আগেই হয়ে গেছে। নচিকেতা দুর্দান্ত কিছু কথা-সুর দিয়েছেন এ অ্যালবামে। একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নতুন গানের জন্য আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ঈদের পরপরই কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা চূড়ান্ত করে অ্যালবামটি প্রকাশ করে ফেলব।

 

শুনেছি ছয়টি নতুন গানের ট্র্যাকও করবেন?

হ্যাঁ, বিভিন্² সময় কাজের ফাঁকে ফাঁকে এই গানগুলোর কথা ও সুর করে রেখেছিলাম। ভাবলাম, এবার যেহেতু যাচ্ছি গানগুলো ট্র্যাক করে নিয়ে আসি। অ্যাকুস্টিকের ওপর ট্র্যাকগুলো করব। এই গানগুলো সামনে আসবে। সময় করে উঠতে পারলে এখান থেকে একটি গান ঈদে সিঙ্গেল আকারে ছাড়ব।

 

গজলের অ্যালবামও তো করছেন।

বড়ে গুলাম আলী, হরিহরণ, মেহেদী হাসানদের গজলের ভক্ত আমি। সময় পেলেই তাঁদের গজল শুনি। আধুনিক গাইলেও বিভিন্² অনুষ্ঠানে গজল করে থাকি। নানা সময় ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনেকেই আমাকে গজলের অ্যালবাম করতে বলেছে। এবার শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে। অ্যালবামটির নাম দিয়েছি ‘কোয়ি দুখ দে নে কো আয়া’। আমি মনে করি, সংগীত যেকোনো ভাষায়ই হতে পারে। সেই ভাবনা থেকে উর্দু ও হিন্দি পাঁচটি গজল নিয়ে অ্যালবামটি করছি। সব কটিরই সুর আমার নিজের। কথা লিখেছেন চট্টগ্রামের আমিনুল ইসলাম বেজান। কাজটা ভালোভাবে করতে চাই। সে জন্য আরো সময় নেব। নিজে শতভাগ সন্তুষ্ট হলে তবেই প্রকাশ করব।

 

বছর তিনেক আগে নায়িকা মৌসুমীকে নিয়ে একটি মিউজিক ভিডিও করেছিলেন। সেটাও তো প্রকাশ করলেন না।

গানটি ছিল ‘আমার আকাশ তুমি কেড়ে নিয়ো না’। ভিডিওটির শুটিং হয়েছিল কাতারে। নির্মাতা ছিলেন মৌসুমীর ছেলে ফারদিন। আরো কিছু কাজ বাকি ছিল। এর মধ্যেই ফারদিন আমেরিকা চলে যায়। পরে সেভাবেই পড়ে আছে। সেই ভিডিওর কাজ শেষ করে প্রকাশ করার পরিকল্পনা আছে।

 

এখন তো গান প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম ইউটিউব। শিল্পীদের অনেকেই নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল খুলেছেন। আপনার এ ধরনের পরিকল্পনা আছে?

প্রযুক্তির উন্²তির সঙ্গে সঙ্গে সংগীতের অনেক বাঁকবদল দেখেছি। একেক সময় একেক মাধ্যমে গান প্রকাশিত হয়েছে। এবার এসেছে ইউটিউব। ইউটিউবে নিজস্ব একটি চ্যানেল খোলার পরিকল্পনা করেছি। একজন আমার হয়ে বিষয়টি দেখছেন। আমার গাওয়া এমন অসংখ্য গান আছে যেগুলো সংগ্রহে নেই। অনেকেই ইউটিউবে গানগুলো দিচ্ছে। নিজের চ্যানেল থাকলে সব গান সেখানে সংগ্রহ করা যাবে। এটা আমার ভক্তদের জন্যও ভালো একটা ব্যাপার হবে।

 

১৯৮৫ সালে চট্টগ্রাম থেকে প্রথম অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন। তারপর ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকায়। সব মিলিয়ে কতগুলো অ্যালবাম করেছেন?

একক অ্যালবাম ৬০টির বেশি। ডুয়েট-মিক্সড ২৫০টির বেশি। আর চলচ্চিত্রে ৭০-৮০টি গান হবে। সর্বশেষ ‘পুত্র যখন পয়সাওয়ালা’ চলচ্চিত্রের গান করেছি। এই চলচ্চিত্রের সব গানের সংগীত পরিচালনা করেছি। আমি ছাড়াও গেয়েছেন নচিকেতা, মনির খান প্রমুখ। এরপর আর সে রকম প্রস্তাব পাইনি। গাওয়াও হয়নি।

 

একসময় এক ঈদেই আপনার একাধিক অ্যালবাম বের হতো। এখন চিত্রটি ভিন্²!

এটা আসলে সময়ের ব্যাপার। সময় সব কিছু বদলে দেয়। যখন একের পর এক হিট অ্যালবাম দিচ্ছিলাম তখন কথা বলারও সময় ছিল না। এখনো মনে আছে, কাজ নিয়ে এতই ব্যস্ত ছিলাম যে একদিন রাত ৩টায় প্রডিউসার আমাকে বাসা থেকে নিয়ে গেলেন ভয়েস দিতে। ভোর ৪টায় সেই গানের ভয়েস দেওয়া শুরু করেছিলাম। এসব নিয়ে ভেবে লাভ নেই। সময়টাকে মেনে নিয়েই পথ চলতে হবে।

 

অবসরে কী করেন?

আমার মেয়ে রাইয়ানা চৌধুরী রোজার বয়স এখন তিন বছর। ওর সঙ্গেই সারা দিন কেটে যায়। ‘ইত্যাদি’তে ‘মধু হই হই’ গানটি গেয়েছিলাম। ইউটিউবে দেখে সে পুরো গানটি মুখস্থ করে ফেলেছে। আমি সামনে এলেই গাওয়া শুরু করে। ‘তুমি দুঃখ দাও’ গানটিও গায়। বাপ-মেয়ের এই খুনসুটি বেশ উপভোগ করি।      

 


মন্তব্য