kalerkantho


ডলির সেরা ৫ গান

ক্যারিয়ারে অসংখ্য জনপ্রিয় গান উপহার দিয়েছেন ডলি সায়ন্তনী। সেই সব গানের মধ্য থেকে নিজের পছন্দের সেরা পাঁচটি গানের অন্তরালের গল্প শুনিয়েছেন তিনি। লিখেছেন আতিফ আতাউর

১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ডলির সেরা  ৫   গান

‘হে যুবক’

১৯৮৯ সালে প্রকাশ পায় ডলি সায়ন্তনীর তুমুল জনপ্রিয় অ্যালবাম ‘হে যুবক’। এই অ্যালবামের টাইটেল গান ‘হে যুবক’। কথা ও সুর মিল্টন খন্দকার। এটাই ডলি সায়ন্তনীর জীবনের প্রথম একক অ্যালবাম। বলেন, ‘শখের বসে বাসায় গান করতাম। আমার ভাই বাদশা বুলবুল তখন পেশাদার সংগীতশিল্পী। তাঁর কাছে গীতিকার ও সুরকাররা আসতেন। আমাদের বাসায় প্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গানের আসর বসত। সেখানে সবাই নতুন নতুন গান নিয়ে আলোচনা করতেন। সেই আসরে মিল্টন খন্দকার আসতেন। আমার ভাইয়ের ক্যাসেটের কাজ চলছিল তখন। সে সময় তিনি আমার গান শোনেন। আমার গায়কি পছন্দ হয় তাঁর। ভাইয়ের কাছে প্রস্তাব দেন আমাকে দিয়ে একটি অ্যালবাম করার। রাজি হন ভাই। এর পরই গানটা রেকর্ড করা হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এখন যতটা প্রজেক্ট আকারে একেকটা গান নামানো হয়, তখন এর কিছুই ছিল না। আজ একটা তো আরেক দিন দুইটা, কোনো দিন চারটা—এভাবেই সময় নিয়ে রেকর্ড শেষ করা হতো।’ ‘হে যুবক’ দারুণ হিট করে। সঙ্গে এই গানটিও। ডলি বলেন, ‘আমার ক্যারিয়ারের শুরুতেই দারুণ প্রভাব ফেলেছিল এই গান। তখন যেখানে যেতাম সেখানেই শুনতে পেতাম এই গান। কনসার্টে গেলেও এই গানটা অবশ্যই    গাইতে হতো।’

 

‘নিতাইগঞ্জ’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ ও

‘লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগি’

ডলি সায়ন্তনীর আরেকটি শ্রোতাপ্রিয় অ্যালবাম ‘কালিয়া’। প্রকাশ পায় ১৯৯৪ সালে। এই অ্যালবামের অনেক জনপ্রিয় গান—‘নিতাইগঞ্জ’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ ও ‘লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগি’। এই লোকগানগুলো গেয়ে তত দিনে বেশ বিখ্যাত কাঙালিনী সুফিয়া। সেই জনপ্রিয়তা ছুঁয়ে যায় ডলিকেও। গায়িকা বলেন, “সুরকার প্রণব ঘোষ লোকগান নিয়ে আমার একটি অ্যালবাম করার পরিকল্পনা করেন। তিনি একটি এনজিওর কাজে কাঙালিনী সুফিয়ার গান ব্যবহার করেছিলেন। এ কারণে তাঁর গাওয়া লোকগানের সংগ্রহ সম্পর্কে ভালো ধারণা ছিল। এরপর একদিন কাঙালিনী সুফিয়া আর তাঁর স্বামীকে বাসায় দাওয়াত করি। সারা দিন তাঁর কাছে অনেক গান শুনি। সেখান থেকেই বাছাই করা হয় তিনটি গান—‘নিতাইগঞ্জ’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’ ও ‘লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগি’। এরপর প্রণব ঘোষ নতুন করে গানগুলোর সংগীতায়োজন করেন। গান রেকর্ডের সময়ই টের পেয়েছিলাম অ্যালবামটি হিট হবে। হয়েছেও তা-ই। দেশ-বিদেশের যেখানে গেছি, সেখানেই অ্যালবামটি থেকে গানের অনুরোধ করেছে শ্রোতারা। এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিতই গাইতে হয় গানগুলো।’’

 

বিষম পিরিতি

‘এ যে বিষম পিরিতি, পিরিতি পিরিতি সই, বন্ধ মনের তালা চাবি আছে কই/চাবি নিয়ে মন বন্ধুয়া থাকে দূরে, উথাল পাথাল মন পথ চেয়ে রই—’ ডলি সায়ন্তনীর অত্যন্ত জনপ্রিয় গান ‘বিষম পিরিতি’র মুখ। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত ডলির ‘বিরহী প্রহর’ অ্যালবামের গান। কথা ও সুর মাহমুদ জুয়েল। নিজের গাওয়া শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকার এটিকে পঞ্চম স্থানে রাখলেন ডলি। বলেন, ‘‘গীতিকার-সুরকার মাহমুদ জুয়েলের আমাদের বাসায় যাতায়াত ছিল। ভালো কোনো গান লিখলেই আমাদের শোনাত। নিজের লেখা ও সুর করা একটি গান আমাকে দিয়ে গাওয়ানোর ইচ্ছা ছিল তার। ‘বিষম পিরিতি’ শোনার পর আমার ভালো লাগে। রেকর্ডিংয়ের সময় উপস্থিত সবাই গানটি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। সবাই বলাবলি করছিল, গানটির মধ্যে অন্য রকম একটা অনুভূতি আছে। শ্রোতারা পছন্দ করবে। অ্যালবামটি প্রকাশের পর হয়েছেও তা-ই।’

 



মন্তব্য