kalerkantho

সম্পাদকের কথা

৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



সম্পাদকের  কথা

‘বিশ্বমানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’—গুরুসদয় দত্তের এ আহ্বানই যেন প্রতিবছর অনুরণিত হয় আমাদের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানমালায়। গভীর আনন্দ নিয়ে আমরা বরণ করে নিই বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটিকে। দিনটি উপলক্ষে দেশজুড়ে চলে নানা উত্সব আয়োজনে বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরার প্রয়াস। বাঙালির জীবনে বছরে একবারই আসে এমন দিন, যা ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সবার উত্সব। ভোরবেলা রাজধানীর রমনা বটমূলে ছায়ানটের উদ্যোগে হয় বর্ষবরণের অনুষ্ঠান, যা এখন আমাদের ঐতিহ্যের অংশ হয়ে গেছে। একইভাবে ঢাকার চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন দেশের বিভিন্ন জেলা শহরেও ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনটিতে বসে বৈশাখী মেলা, যার কোনো কোনোটির বয়স ২০০ বছরেরও বেশি।

ঐতিহাসিকভাবেই পহেলা বৈশাখের সঙ্গে অর্থনীতির একটা যোগ রয়েছে। দোকানিরা সারা বছরের হিসাব মিলিয়ে এ দিনটিতে খোলেন হালখাতা। আগে শুধু ঈদ বা পুজোকে কেন্দ্র করে নতুন পোশাক কেনা হতো, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। বেশ কয়েক বছর ধরে এখন পহেলা বৈশাখেও নতুন পোশাক কেনাটা রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। এ উপলক্ষে ফিবছর এই সময়ে দেশি পোশাকশিল্পেও বিশাল যজ্ঞ শুরু হয়, যা একই সঙ্গে বাণিজ্য ও সংস্কৃতির এক দারুণ মেলবন্ধন তৈরি করেছে। দিবসটি ঘিরে নানা আয়োজন করে থাকে গণমাধ্যমও।

প্রতিবছরের মতো আমরা এবারও এ উপলক্ষে ‘রঙিলা বৈশাখ’ প্রকাশ করছি। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে কী নতুন পোশাক এলো বাজারে, খাবারে কী কী বৈচিত্র্য যুক্ত হচ্ছে, কোথায় কোথায় বসছে বৈশাখের মেলা—সে সবেরই খোঁজখবর থাকছে এই আয়োজনে। পুরো আয়োজনেই বাঙালিয়ানার ছাপ রয়েছে বরাবরের মতো। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু বাংলায় কথা বলা, বাঙালি ঢঙে পোশাক পরা নয়, বাঙালিয়ানা একটি সামগ্রিক জীবনাচার। একটি দিনের নয়, এটি বছরজুড়ে চর্চার বিষয়। আমরা চাই বহিরঙ্গের সঙ্গে বাঙালিয়ানার যোগটা ঘটুক আমাদের অন্তরঙ্গেও।

পাঠক, কালের কণ্ঠ সংশ্লিষ্ট লেখক, হকার, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

 


মন্তব্য