kalerkantho

বৈশাখে তারা

৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বৈশাখে তারা

ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী

শৈশবেই মজা ছিল বেশি। হিসাব-নিকাশের বালাই ছিল না। লাভের লাভ মণ্ডা-মিঠাই। পোশাক নিয়েও মাথাব্যথা ছিল না; একটা কিছু পরলেই হলো। আসলে বৈশাখ তো গরমের সময়। পরতে আরাম লাগে এমন পোশাকই পরা হয়। ছোটবেলায় ব্যবসায়ীদের হালখাতা অনুষ্ঠানে মিষ্টি বিতরণের যে আয়োজন ছিল, আমাদের শিশুদের কাছে সেটাই সবচেয়ে আকর্ষণের ছিল। তবে সেখানে যেতাম সাফসুতরো হয়েই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন কাপড়ে দল বেঁধে হালখাতা অনুষ্ঠানে যেতাম সবাই। এখন তো আর সেসবের সুযোগ নেই। আসলে শৈশবের মজা সারা জীবন শুধু স্মৃতি হয়েই থাকে, ফিরে আর আসে না। এখনকার পহেলা বৈশাখ মানে শুধুই কর্মব্যস্ততা। নানা কর্মসূচি থাকে। মাথায় রাখতে হয় অনুষ্ঠানের আমেজ ও ধরন। কিছুটা ফর্মাল লুক তো রাখতেই হয়। তবে দিনটা যে বৈশাখের প্রথম দিবস, তা কিন্তু ভুলি না!

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বিএনপি মহাসচিব

আইয়ুব খানের শাসনামলে ষাটের দশকের কথা বলছি, তখন বাংলা সংস্কৃতির ওপর তো প্রচণ্ড চাপ ছিল। সেই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি সংসদ নামে একটি সংগঠন ছিল। তারা বর্ষবরণের অনুমতি চাইল বাংলা একাডেমিতে। কিন্তু মিলল না। অবশেষে পুলিশি বাধার মুখেই রমনার বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আমরাও যোগ দিলাম তাতে। পুরনো সেসব দিনের কথা মনে হলে বেশ লাগে। ছায়ানট তো পরবর্তীকালে একে জাতীয় উত্সবে পরিণত করার পেছনে বেশ ভূমিকা রাখল। আর এখন তো এ উত্সব সর্বজনীন। অথচ মজার ব্যাপার হলো, শৈশবে যখন আমি ঠাকুরগাঁও ছিলাম, দেখেছি পহেলা বৈশাখ ছিল সাধারণ মানুষের ভীতির উপলক্ষ। জমিদারকে পুরনো বছরের হিসাব-নিকাশ বুঝিয়ে দিতে হতো। তবে সে উপলক্ষে পান হালখাতা কেনা হতো, মিষ্টিমুখের আয়োজন থাকত। আমাদের ছোটদের কাছে অবশ্য তা খুবই আনন্দের ব্যাপার ছিল। মূলত ভাষা আন্দোলনের পরই পহেলা বৈশাখের রূপ বদলাতে থাকে। বাঙালি    কৃষ্টি-সংস্কৃতির সঙ্গে এর সম্পর্ক হয়ে ওঠে নিবিড়। পহেলা বৈশাখের মূল যে মর্মবাণী, বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশ, আজ এই আকাশ সংস্কৃতির সময়ে দাঁড়িয়ে মনে হয়, তা কতটা হয়েছে? মঙ্গল শোভাযাত্রার মূল যে বাণী, তার প্রকাশ বাঙালির জীবনে আদৌ পড়েছে কি?

 

অনুলিখন : জিনাত জোয়ার্দার রিপা

ছবি : কাকলী প্রধান


মন্তব্য