kalerkantho


উ প হা র

বৈশাখী পণ্যের দরদাম

বৈশাখের আহ্বানে সারা দিয়ে ঘরে ঘরে থাকে নানা আয়োজন। এ সময়ে বিশেষভাবে ব্যবহূত কিছু পণ্যের বাজার ঘুরে এসে জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বৈশাখী পণ্যের দরদাম

হালখাতা

বৈশাখ লাল-সাদায় উদ্‌যাপন থেকে শুরু করে অনেক কিছুতেই রয়েছে হালখাতার প্রভাব। বিভিন্ন ব্যবসার ক্ষেত্রে এখনো বৈশাখে হালখাতার প্রচলন রয়েছে। বৈশাখে ব্যবসায়ীরা পুরনো বাকিবাট্টা চুকিয়ে নতুন খাতায় হিসাব তোলেন। সাধারণত লাল সালু কাপড়ে মোড়া টালিখাতা হালখাতার জন্য বেশ জনপ্রিয়। বৈশাখে এই খাতার চাহিদাও থাকে বছরের অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।

বাংলাবাজারে গিয়ে দেখা গেল, দোকানের সামনে সাজানো বিভিন্ন সাইজের হালখাতার বড় বড় বান্ডিল। বিক্রেতারাও বেশ ব্যস্ত, কথা বলার সময় নেই। বুক কম্পানির দোকানি মো. আশ্রাফ উদ্দীন বললেন, ‘বৈশাখে হালখাতার চাহিদা একটু বেশি থাকে। তাই আমরা চাহিদামতো মজুদ রাখি আগেভাগেই। আকার, ধরন ও পৃষ্ঠাসংখ্যার ওপর নির্ভর করে খাতার দাম। দাম প্রতি দিস্তা ২৫ থেকে ৪৫ টাকা।

পিতল-কাঁসার তৈজসপত্র

প্রাচীনকাল থেকেই ঘরের তৈজসপত্র হিসেবে ব্যবহূত হয়ে আসছে পিতল ও কাঁসা। বৈশাখে অতিথি আপ্যায়নে ব্যবহার করতে পারেন পিতল-কাঁসার বাসন। প্লাস্টিক ও মেলামাইনের যুুগে যা আপ্যায়নে আনবে অন্য রকম আমেজ।

পুরান ঢাকার নিউ রাস মোহন বাসনালয়ের স্বত্বাধিকারী জগন্নাথ সাহা জানালেন, দিন দিন কাঁসার চাহিদা কমছে। হয়তো বৈশাখ উপলক্ষে বেচাকেনা কিছুটা ভালো হবে। থালা-বাসন ছাড়াও রয়েছে হাঁড়ি, পানির জগ, তাগাড়ি, পেয়ালা, পট, কুপি বাতি, সুরমাদানি, বদনা, ছেনি, কলস, পূজার ঘণ্টা, করতাল, পানের বাটা, প্রদীপ, পুষ্পথালা, ঘটি, আগরদানি প্রভৃতি। সাধারণত কাঁসার তৈজসপত্র ওজন মেপে বিক্রি করা হয়। মানের ওপর ভিত্তি করে প্রতি কেজি কাঁসার দাম ১২০০ থেকে ১৬০০ টাকা।

বাংলা পঞ্জিকা

বাংলা বছরের শুরু মানেই নতুন পঞ্জিকা। সনাতন ধর্মে পঞ্জিকা অনুসরণের প্রচলন চিরায়ত। বাংলা মাসের বিভিন্ন রকম পঞ্জিকার মধ্যে রয়েছে—লোকনাথ, নবযুগ, মোহাম্মদি, রামকৃষ্ণ মিশন পঞ্জিকা ও সুদর্শন পঞ্জিকা। এর মধ্যে লোকনাথ পঞ্জিকা বেশ জনপ্রিয়। বাংলাবাজারের লোকনাথ বুক এজেন্সিতে গিয়ে দেখা মিলল গোলাপি মোড়কের বাঁধাই করা সাজানো লোকনাথ পঞ্জিকার। পকেট সাইজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন সাইজের লোকনাথ পঞ্জিকা বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ১৫, ৩০, ৬০ ও ১২০ টাকায়।

মাটির তৈজস

বৈশাখে ঘর সাজাতে কিংবা আপ্যায়নে ব্যবহার করতে পারেন মাটির তৈজস। থাকতে পারে মাটির থালা-বাসন, জগ, কাপ-পিরিচ, শোপিস, ফুলদানি, ল্যাম্পশেড, মোমদানি ও বিভিন্ন তৈজসপত্র। দামও নাগালের মধ্যে। দোয়েল চত্বরের ফুটপাতে মাটির জিনিসের বৈশাখ আয়োজন নিয়ে বেশ ব্যস্ততা। বিক্রেতা সোহেল জানালেন, মাটির হাঁড়ি, থালা-বাসন থেকে শুরু করে ফুলদানি পর্যন্ত নানা ধরনের ডিজাইনের পণ্য আছে তাঁদের কাছে। বৈশাখের জন্য রয়েছে বিশেষ কিছু পণ্যের আয়োজন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় এসব পণ্যের দাম ৩০ টাকা থেকে শুরু করে দেড় হাজার টাকার মধ্যে। ভালো মাটির থালাগুলো পাওয়া যাবে ৯০ থেকে ১৫০ টাকা, মাটির গ্লাস ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বিভিন্ন রকমের বাটি পেয়ালা ৬০ থেকে ২০০ টাকা।

শীতলপাটি

বৈশাখে ঘর সাজাতে ব্যবহার করতে পারেন শীতলপাটি, যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ২০১৭ সালের শেষের দিকে বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গরমে আরামের জন্য সিলেটের সুনামগঞ্জের শীতলপাটির বেশ খ্যাতি রয়েছে। ঢাকায়ও বিভিন্ন জায়গায় পাওয়া যায় সাধারণ শীতলপাটি। নকশা করা শীতলপাটির দাম একটু বেশি। সাধারণ শীতলপাটির মূল্য থাকবে নাগালের মধ্যে। দাম নির্ভর করে আয়তনের ওপর। পাঁচ হাত চওড়া ও ছয় হাত দৈর্ঘ্যের শীতলপাটি পাওয়া যাবে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। শীতলপাটি কিনতে পারবেন রাজধানীর সদরঘাট ও আটি বাজারের বেশ কিছু দোকান থেকে।

 

 


মন্তব্য