kalerkantho

ধারাবাহিক উপন্যাস

পিছন

ইমদাদুল হক মিলন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



পিছন

অঙ্কন: ধ্রুব এষ

সাত
আলীদের বাসাটা স্নিগ্ধ ধরনের। কী রকম শীতল ঠাণ্ডা ভাব।

চুপচাপ। বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায় না। টিনের গেট ঠেলে আলীর পিছন পিছন ঢুকেছি। ঢুকেই মন অন্য রকম হয়ে গেল। পাশাপাশি তিনটা ঘর। চারদিকে বাঁশের বেড়া, মাথায় ঢেউটিনের চালা। ঘরগুলো বড় বড়। বাঁশের বেড়া কেটে জানালা বানানো হয়েছে। জানালা কাঠের। লোহার চিকন চিকন শিক আছে। সবুজ রং করা জানালা। বাঁশের বেড়াও সবুজ রং করা। দেখতে ভালো লাগে।

প্রথম ঘরটা পড়ার ঘর। জামাল মিয়ার বাড়ির আমাদের সেই ঘরটার মতো প্রথমে ঘরে ঢোকার দরজা। দরজা কাঠের। তারপর বাঁপাশে মাঝারি সাইজের একটা চৌকি। ঘরগুলো উত্তর-দক্ষিণে। দক্ষিণে দরজা, বারান্দার পশ্চিমে চৌকিটা। পুবে কয়েক হাত খোলা জায়গা, তারপর আরেকটা দরজা। দরজার ভিতরদিকে মূলঘর। বড়ই ঘরটা। দুটো চৌকি পাতা উত্তর-দক্ষিণে। মাঝখানে কিছুটা ফাঁকা জায়গা। পুবদিকে জানালার পাশে বড় একটা পড়ার টেবিল। চারটা কাঠের চেয়ার। চেয়ারে হাতল নেই। চালার দিকে সবুজ রং করা বাঁশের সিলিং। পাকা মেঝে চক চক করছে। যেন এইমাত্র ঠাণ্ডা পানিতে মুছে দিয়ে গেছে কেউ।

উত্তর দিককার চৌকিতে এক পায়ের ওপর আরেক পা তুলে শুয়ে আছে একজন লোক। মাথা পশ্চিম দিকে। মাথার তলায় দুটো বালিশ। বালিশে ওয়ার নেই। ছিট কাপড়ের তৈরি বালিশ দুটো তেল চিটচিটে। লোকটার খালি গা। গায়ের রং কালো। সাদার ওপর খয়েরি ডোরাকাটা লুঙ্গি পায়ের পাতা পর্যন্ত নামানো। দুহাতে মোটা একটা বই ধরে পড়ছেন। বইটা মোটা হলেও হালকা ধরনের। নিউজ প্রিন্ট কাগজে ছাপা।

আমাদের পায়ের শব্দে সে মুখ থেকে বই সরাল। দুজনকে এক পলক দেখে আবার বই তুলল মুখের সামনে। কথা বলল না।

লোকটা কে?

বয়স তেমন না। আমার খালাতো ভাই জহুদা-নজুদাদের বয়সী হবে। চেহারা ভালো না। পাতলা মোচ আছে। খোঁচা খোঁচা দাড়িও আছে। শরীর কিরকম ময়লা। দেখে মনে হয় গোসল করে না।

বইখাতা টেবিলে রেখে নিঃশব্দে বেড়িয়ে এলো আলী। পাশের ঘরের দিকে পা বাড়িয়ে বলল, তুমিও আহো।

একচিলতে আঙিনার মেঝেও ঘরের ভিতরকার মতো পাকা। একই রং, একই রকম শীতল। দক্ষিণ পাশে উঁচু দেয়াল আছে। দেয়াল ঘেঁষে বেলি, গন্ধরাজ আর হাসনাহেনার চারা লাগানো। পাতাগুলো চকচকে সবুজ। গোড়ার মাটি ভেজা ভেজা। দেখে মনে হয় সকালবেলা গাছের গোড়ায় পানি দেওয়া হয়েছে। একঘর থেকে আরেক ঘরের মাঝখানে বাঁশের বেড়া। বেড়া কেটে দরজা করা হয়েছে। দরজায় কপাট নেই। গ্রাম এলাকার বারবাড়ি থেকে ভিতর বাড়িতে যাওয়ার মতো ব্যবস্থা।

ওদিকটায় যেতে যেতে আলী বলল, ওই যে হুইয়া হুইয়া বই পড়তাছে ওইটা হইল আমাগো লজিং মাস্টার। আমাগো গ্রামেই বাড়ি। দাউদকান্দি। কায়দে আজম কলেজে পড়ে। কলেজ মনে হয় বন্ধ। এর লাইগা বাসায় আছে। বাসায় থাকলে সারে সারা দিন খালি বই পড়ে। এত বই যে কেমনে পড়ে? আমার পড়তে ভাল্লাগে না।

আলী হাসল। কালো মুখে তার সাদা দাঁত ঝিলিক দিল। আমি খেয়াল করলাম, কালো হলেও আলী দেখতে খারাপ না। চেহারা ভালো। হাসলে আরো ভালো লাগে।

পাশের ঘরটাও প্রথম ঘরটার মতোই। তবে বারান্দায় চৌকি নেই। পশ্চিম পাশে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা। হাঁড়িপাতিল, থালাবাসন, পানির ঠিলা। ভিতর ঘরে চৌকি, মিটসেফ, আলনা, আসবাবপত্র আছে ভালোই। ঘরে সামনের আঙিনাটুকুর দক্ষিণ পাশে দেয়ালের ওপর থেকে ঘরের দিক পর্যন্ত হাত চারেক লম্বা, ও রকমই চওড়া বাঁশের একটা বেড়ার চালা দিয়ে রান্নাঘর করা হয়েছে। সেখানে আমার মায়ের কাছাকাছি বয়সের এক মহিলা বসে তরকারি কুটছেন। ইটের চুলায় ভাত ফুটছে। ভাত ফোটার মনোহর একটা গন্ধ ভাসছে বাতাসে। হালকা হলুদ রঙের সুতি শাড়িটার খানে খানে ময়লার ছোপ লেগে আছে। ছোটখাটো গোলগাল চেহারার মানুষ। কালোর দিকে গায়ের রং। ঘামে তার মুখ-গলা ভেজা ভেজা।

আলী বলল, মা, এইডা হইল মিলু। কেরানি কাকার মাঝারো পোলা। কাইলই ঢাকা আইছে।

আলীর মা আমার দিকে একপলক তাকিয়ে নিজের কাজে মন দিলেন। কথা বললেন না। বারান্দায় পলির বয়সী একটা মেয়ের কোলে উষার বয়সী একটা মেয়ে। আমাদের মতো আলীরাও অনেক ভাইবোন। পলির বয়সী মেয়েটার নাম পান্না। কোলেরটার নাম নারগিস। আলীর ছোট ভাইদের নাম সালাম, আসলাম।

দুপুর হয়ে আসছে দেখে বাড়িটা যেন একটু বেশি নির্জন। আলীদের দুই ঘরের বাসার পর আরেকটা দরজা কাটা। বাঁশের বেড়া। ওপাশের ঘরটায় থাকে আলীর বড় বোন। ঘরে ঢুকে স্কুলের জামা-কাপড় বদলে আসার পর আমাকে নিয়ে ওদিকটায় গেল আলী। আলীর বড় বোনের ঘরটাও আগের ঘর দুটোর মতোই। তবে ওরকম স্নিগ্ধ না। বারান্দায় বসে আলীর বড় বোন মরিয়ম কোলের ছেলেকে বুকের দুধ দিচ্ছে। মুখে ভারি একটা প্রশান্তির ভাব। সে দেখতে খারাপ না। স্বাস্থ্য ভালো। গায়ের রং না কালো, না ফরসা। আমরা যখন ওদিকটায় গিয়েছি ঠিক তখনই একজন লোক বেরোল মরিয়ম আপার ভিতরঘর থেকে। লম্বা টিংটিংয়ে শরীর। রোদে পোড়া ঝিম কালো গা। মাথার চুল কদমফুলের পাপড়ির মতো। পরনে নীল ময়লা লুঙ্গি। হাতে পুরনো গামছা ছিল, বেরোতে বেরোতে মাজায় সেই গামছা বাঁধল। কারো দিকে না তাকিয়ে বস্তি বাড়িটার উঠানের দিকে চলে গেল।

আলী বলল, পোলারে দুধ খাওয়ায়, ওইডা হইল আমার আফা আর এইডা দুলাভাই। বড় মাইয়া দেইখা আফারে আব্বায় আমাগো লগেই রাখছে।

কাল বিকেল থেকে টের পাচ্ছি আলী বেশ পাকনা। অনেকটা আমার আলমগীর মামার মতো। এই বয়সেই দুনিয়ার বহুত কিছু জানে।

আলীর সঙ্গে আমি তারপর বস্তি বাড়িটা ঘুরে ঘুরে দেখি। বিশ-বাইশটার কম হবে না ছাপড়াঘর। পশ্চিম কোনায় টিনের পায়খানাঘর সব ভাড়াটের জন্য। পাশাপাশি তিনটা না চারটা যেন। টিনের বেড়া দেওয়া গোসলখানা আছে, চাপকল আছে। কুয়া নেই। এই বাড়ির মধ্যেই দেয়াল দিয়ে আলাদা করা হয়েছে আলীদের ওই তিনটা ঘর। ভাড়া নিশ্চয় অন্য ঘরগুলোর চেয়ে বেশি।

কত পদের যে মানুষ বাড়িতে! কত যে বাচ্চাকাচ্চা! জিন্দাবাহার থার্ড লেনের সেই সাত নম্বর বাড়ির কথা আমার মনে পড়ে। পুলিশ কাকার ফ্যামিলি, ফিরোজা আফা আর মমতাজ আর বাবুল আর পুলিশকাকি। নিয়াশা আর জামির কাকা। কেরামতের মা বাবা আর ছোট পাকনা ভাইটা। কুয়ায় পড়ে মরে যাওয়া ক্যানভাসারের মেয়েটা ছিল আমার বয়সী। কেরামতের ভাইকে বাদ দিয়ে সে আমার সঙ্গে বউজামাই বউজামাই খেলতে চেয়েছিল।

তবে এই বাড়িটা খোলামেলা। জিন্দাবাহারের বাসার মতন ঘুপটিঘাপটি না। দুতিন দিক দিয়ে বাড়িতে ঢোকা যায়, বেরোনো যায়। ছাপড়াঘরগুলোর ফাঁকফোকড় দিয়ে এদিক-ওদিক বেরোবার পথ। উঠানটাও খোলামেলা। সেই উঠানে এখন রোদের বন্যা। বেশ গরম লাগছে। আমি আর আলী টুকটাক কথা বলি, বাড়ির ভিতর এদিক যাই, ওদিক যাই। কতক্ষণ সময় কেটেছে কে জানে, আলীর মা আলীকে ডাকলেন। আইল্লা, ওই আইল্লা, কই গেলি?

আলী চিত্কার করে সাড়া দিল। বাড়িতেই আছি। যাই নাই কোনোহানে।

নাইতে যা। ইসকুল থিকা আইছস, তাড়াতাড়ি নাইয়া আয়।

আলী আমার দিকে তাকাল। তুমি খাড়াও মিলু। ধোয়া পেন লইয়াহি, গামছা লইয়াহি। তার বাদে নাইতে যামুনে।

কই যাইবা নাইতে? ওই পুকইরে?

না বাগিচার পুকইরে। যাইবা? লও আমার লগে। দেখবা ওই পুকইরের পানি কী সোন্দর! আমাগো এই পুকইরের পানি তো ময়লা। বাগিচার পুকইরের পানি খুব ভালো। যাইবা?

লও।

তয় বাসায় গিয়া পেন-গামছা লইয়াহো।

যাইতাছি।

আলী আমাদের গেটের সামনে দাঁড়িয়ে রইল, আমি গেলাম ভিতরে। মা রান্না নিয়ে ব্যস্ত। মনি সামলাচ্ছে ছোটদের। আমি কাউকে কিছু বললাম না। মার রুমে ঢুকে প্যান্ট-গামছা নিয়ে বেরোলাম। মা চোখ তুলে আমার দিকে তাকালেন। নাইতে যাও, বাজান?

হ মা। আলীর লগে নাইতে যাইতাছি। বাগিচার পুকইরে।

আইচ্ছা যাও। তয় বেশি ডুবাডুবি কইরো না। জ্বর আইব।

আইচ্ছা মা।

বাগিচা আমি চিনি। বাঁধানো ঘাটলার পুকুরটাও দেখেছি। লুত্ফন ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে আমাকে সব দেখিয়েছিল। আলীর সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে লুত্ফনের সঙ্গের দিনগুলো মনে পড়ে। জামাল মিয়ার বাড়ির কথা মনে পড়ে। সেই দিনগুলোতে সারা দিন আমি আর লুত্ফন একসঙ্গে। কাউকে কিছু না বলে একা একা দেশে চলে গেল লুত্ফন। দেশে একদিন আমাদের বাড়িতে এসেছিল। লুত্ফনকে তখন কেমন অচেনা লেগেছে আমার। এ যেন ঢাকার সেই লুত্ফন না। গেণ্ডারিয়ার লুত্ফন না। ধূপখোলা মাঠ, বাগিচা কাঠেরপুল আর রেললাইনে আমার হাত ধরে রেলপুল পাড় হওয়া লুত্ফন না। বিক্রমপুরের দোগাছি গ্রামের লুত্ফন যেন অন্য এক মেয়ে।

একই মানুষ দুই জায়গায় কি দুই রকম হয়ে যায়? আমি দেশে চলে গেলে কি আলীর কথা ভুলে যাব? লুত্ফনের মতো অন্য মিলু হয়ে যাব?

দুপুর হতে না হতেই বাগিচার পুকুরে অনেক ছেলেমেয়ে। আমার বয়সী, আমার চেয়ে ছোট-বড়। দুচারজন বয়স্ক মানুষও আছে। তারা ধীরশান্ত ভঙ্গিতে ডুব দিয়ে দিয়ে গোসল করছে। শরীরে সাবান মাখছে। গোসল শেষ করে কেউ গামছায় শরীর মুছে ধোয়া লুঙ্গি পরছে আর ছোটরা হৈচৈ লাফালাফি ঝাঁপাঝাঁপি করছে। সাঁতরে যাচ্ছে মাঝ পুকুরে, ওপারের কাছে। বয়স্করা কেউ কেউ ধমক দিচ্ছে। কারণ ছেলেমেয়েদের ঝাঁপাঝাঁপিতে পানি ছিটছে। ভিজে যাচ্ছে কারো কারো শুকনা জামা-কাপড়। পোলাপান কি ওসব ধমক শোনে?

পুকুরের ওপারে তেলমিলের দেয়াল। ডুমুরের ঝোপ গলা বাড়িয়েছে পুকুরে। কয়েকটা বুলবুলি পাখি ডুমুর ফল খাচ্ছে আর ঝগড়াঝাটি করছে। ওপারের কোনার দিকে হেলেঞ্চা গাঢ় সবুজ হয়ে ছড়িয়েছে পুকুরের স্বচ্ছ পানিতে। কলমিও ছড়িয়েছে হেলেঞ্চার কায়দায়। হালকা বেগুনি কলমি ফুল ফুটে আছে। কেমন ঠাণ্ডা একটা ভাব পুকুরের ওদিকটায়।

আলীর আর আমার প্যান্ট সিঁড়ির ওপর দিকে রেখে দুজনে নেমেছি পুকুরে। সাঁতরে যাই কিছুটা দূর। ডুব দিই। কয়েকবার ওপর দিককার সিঁড়ি থেকে লাফ দিয়ে পড়লাম পুকুরে। কী আনন্দ! কী আনন্দ! একবার আলীর সঙ্গে সাঁতারের বাজি ধরলাম। আলী আমার সঙ্গে পারল না। আমি খুব ভালো সাঁতরাতে পারি। ওই যে খাইগো বাড়ির পুকুরে ন্যাংটা হয়ে সাঁতার দিয়েছিলাম! একবার পুকুরের ওপার গেলাম সাঁতরে। ফার্স্ট। সেই সাঁতার বাতিল হয়ে গেল। কারণ হুইসেল দেওয়া হয়েছিল দেরিতে। তার আগেই আমরা সাঁতার শুরু করেছিলাম। দ্বিতীয়বার ওপার থেকে সাঁতার। তাও আমি ফার্স্ট।

অনেকক্ষণ ডুবাডুবি করে উঠেছি। চোখ লাল হয়ে গেছে। শরীর মুছে ধোয়া প্যান্ট পড়েছি। এ সময় দেখি ওপাশের ছবির মতো ঘরগুলোর দিক থেকে যুবক মতো একজন হেঁটে আসছে। খুবই মোটা। পরনে সাদা লুঙ্গি আর সাদা হাঁফ হাতা শার্ট। শার্টের বাইরে তার থলথলে বাহুর নড়াচড়া দূর থেকেও দেখা যায়। মুখটা দশ নম্বরি ফুটবলের মতো গোল এবং গম্ভীর। পুকুরের পাড় দিয়ে সে যখন হেঁটে গেল, খেয়াল করলাম একবার ঘাটলার দিকে তাকাল। চোখ ভাটার মতো। তার সেই চাউনি দেখে পোলাপান স্তব্ধ হয়ে গেল। ঝাঁপ দিতে গিয়ে থেমে গেল কেউ, পুকুরের মাঝখান থেকে সাঁতরে দ্রুত ঘাটলার দিকে ফিরল কেউ। কেমন ভয়ার্তভাব সবার মধ্যে।

আলী বলল, লঞ্চ কম্পানির বড় পোলা। তারা বাগিচার মালিক। এই পুকইর আর ওই সোন্দর ঘরদুয়ার বেবাগ তাগো।

সে কিন্তু কাউকে কিছু বলল না। শুধু একবার ওরকম চাউনি। তাতেই কারবার হয়ে গেছে। কারো কোনো শব্দ নেই।

বাগিচার গাছপালায় খেলা করছে দুপুরের রোদ-হাওয়া। গোসল সেরে আলীর সঙ্গে আমি ফিরে আসি। গেণ্ডারিয়ায় এলেই কারো না কারো সঙ্গে আমার বন্ধুত্ব হয়। জিন্দাবাহার থেকে সেই যে একবার এসে অনেক দিন থাকলাম বীনা খালাদের বাড়িতে, বন্ধুত্ব হলো বীনা খালার সঙ্গে। জামাল মিয়ার বাড়িতে হলো লুত্ফনের সঙ্গে আর এবার আলীর সঙ্গে। পরেরবার এলে কার সঙ্গে হবে, কে জানে?

সেদিন শেষ বিকেলে ঘটল এক ঘটনা...
চলবে...


মন্তব্য