kalerkantho


ছায়া-অভিসার

খালেদ হোসাইন

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



দুপুরগুলো এত মাদকতা নিয়ে আসে
ঘরে ও বাইরে
টেবিলে বিছানো মৃদু কাচের ওপর।

প্রতিবিম্বিত হয় ফুল ফুলদানি
জানালার গাছপালা আর মেঘ এবং আকাশ।



তুমি নাকি ঘুম-চোখে অতিশয় ব্যস্ত হয়ে আছ।
সব কিছু একঘেয়ে চারপাশে তোমার
যেন এক অন্ধ বাক্সে বন্দি রাজকুমারী।

এতটুকু যৌথ অবকাশ
মেলে না, তবু কেন যে
দূরের দুপুরগুলো এত ঘন
মাদকতা নিয়ে আসে!

যা যাবার তা তো যাবেই!

তবু কিছু থেকে যাবে কপালের টিপে, চোখের পাতায়
টঙঘরে, মহুয়াগাছের ছায়া-অভিসারে।

আমিনুল ইসলাম
উধাও পেঁপেতলা

একদিন কৈশোর; পড়শির পেঁপেগাছে হাত দেয়ায়
মেরেছিলেন বাজান, হারামজাদা,
তোকে চোর বানানোর জন্য স্কুলে দিয়েছি?
রিমির আব্বুর ক্ষিপ্ত চোখে চোখ রেখে
মা বলেছিলেন, নালায়েক ছেলে,
ভালোমন্দ হুঁশ হয়নি তো!
বাজানের চোখ তথাপি আধজ্বলন্ত আখা।
নির্জন দুপুর যায়, নিভৃত সন্ধ্যা যায়
পাটখড়ির বেড়াঘেঁষে রিমিদের পেঁপেগাছে ঝুলে থাকে
ডাগর লোভের মতো আধাপাকা পেঁপে
কে যায় আর পেঁপেতলা!
বহু দিন দূরে ছিল সে ভীরুতা।
আজ এই উত্তরযৌবনে হঠাত্
আলো-আঁধারির অক্ষরে লেখা
ভোরের ইনবক্স মেসেজ
আর দ্বিতীয়বারের মতো উধাও দুঃসাহস!

পড়শি নও, পেঁপেগাছও নও, আজ বাজানও নেই,
তবু এখন থেকে তুমি আমার
কৈশোরের উধাও পেঁপেতলার প্রাপ্তবয়স্ক সংস্করণ।

সঞ্চিতা সরকার
বেঁচে থাকা

ঝাঁ ঝাঁ রোদ্দুরে পথিক ক্লান্ত দেহে,
কাপড়ে মুখ ঢেকে কষ্টে পথ চলে—
ঘুরে যায় মাথা প্রখর সূর্যের তাপে,
তবু তাকে যেতে হবে বহু ক্রোশ দূরে।
প্রথম যখন সে ভেসেছিল, জীবনতরীতে;
জলসমূহ শুকিয়ে গিয়েছিল ভাগ্যের পরিহাসে,
তরী বালির সংঘর্ষে ক্ষতবিক্ষত মন নিয়ে—
দৃঢ় পদক্ষেপে হেঁটেছিল সে বহু ক্রোশ দূরে।

কত শত বাধা অতিক্রম করে,
একলা লড়াই করেছিল সে দৃঢ়চিত্তে—
শুধুমাত্র একটি কথা মনে রেখে
তাকে যে যেতেই হবে বহু ক্রোশ দূরে।
এই পথই তার জীবন, অস্তিত্বের বলিষ্ঠ রেখা,
নেই কোনো ফিরে যাওয়া, শুধুমাত্র এগিয়ে চলা—
হাসিমুখে বিপর্যয়ের সম্মুখীন হওয়া,
পৃথিবীর কোলে তারই নাম বেঁচে থাকা।


মন্তব্য