kalerkantho


বিবর্তিত আমি

নাসির আহমেদ

১০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মুছে ফেলেছি সব ক্ষতচিহ্ন, কষ্টের দীর্ঘশ্বাস। এই দ্যাখো তোমার
জন্মমাসে হাস্যোজ্জ্বল মুখ আমার, কেঁপে ওঠা হাহাকার রূপান্তর
করেছি উল্লাসে।

সেই তুমুল তুখোড় বেহিসাবি দিনরাত্রি,
সেই দুর্ঘটনার মতো নির্জন ঘনিষ্ঠতা—সব ভুলে গেছি।

আমার মায়ের সেই আশ্চর্য সর্বংসহা ধরিত্রীর চরিত্র কিংবা
একাত্তরের দুঃসহ ধৈর্যের বিরল প্রতীক বাংলাদেশ আমি আজ
আমাকে দেখলে তুমি ভাবতেই পারবে না সেই আমি
কী করে আজ আগুনের দাউদাউ লেলিহান বিপন্ন সময়
পেরিয়ে যাচ্ছি নির্বিকার। যেন আমি অগ্নির দেবতা প্রমিথিউস!

সংসার নামের এক সর্বব্যাপী ঘেরাটোপের বৃত্তে বন্দি থেকেও
কতটা সন্ন্যাসব্রত নেওয়া যায়—আমি তার বিরল দৃষ্টান্ত আজ।
অথচ নিমগ্ন সংসারী ছিলাম একদিন। এখন বাউল আমি ঠিক যেন
ভোরবেলার দোয়েলের মতো মুক্তকণ্ঠ স্বাধীন। যদিও ডানা
দুটি এখনো নিয়মের সামাজিক খাঁচায়। অথচ অনুভূতিতে
খাঁচা নেই, গ্লানি নেই, ঘৃণা কিংবা অনুতাপ—কিচ্ছু নেই।

এখন আমি সরল অঙ্কের সমীকরণ পেয়ে গেছি। মেঘের
বদলে রৌদ্রদগ্ধ দিনকে কল্পনা করি বৃষ্টি। মাঝে মাঝে
তীব্র পিপাসায় জ্বলন্ত প্রান্তরেও দেখি অথই সবুজ ঠাণ্ডা
বনভূমির সম্ভাবনা, বৃষ্টির উত্তাল নূপুরনৃত্য শুনি বুকের ভেতর।

মুছে ফেলেছি সব দগ্ধ দিন, কষ্টচিহ্ন আর ধূসর দীর্ঘশ্বাস-গ্লানি।
কোনো দিন পুনর্বার যদি দেখা হয়, নিশ্চিত আমাকে তুমি চিনতেই
পারবে না। যেমন দশ বছর পর তোমার অকস্মাত্ মমতাময় কণ্ঠস্বর
বিস্মিত করেছিল আমাকে! তবু দেখার আকাঙ্ক্ষা হত্যা করেছি।

সীমা কুণ্ডু
প্রিয় অপমান

অবশেষে দেখতে পেলাম সর্বত্রই ক্ষত!
অপরিসীম কেঁদেছি কাল
ইচ্ছা ছিল মুখখানা তুলে নেব দুই হাতের তালুতে পৃথিবীর মতো।
কাছে যেতেই দেখতে পেলাম—কী ভীষণ! কী তীব্র সব ক্ষত!
ফিরে এলাম ঘরে
কান পাতলে শোনা যায় ঘাসও জোছনার সাথে কথা বলে
আমিই কেবল শব্দহীন
নিস্তব্ধ নীরবতা, যার সমস্তই আষ্টেপৃষ্ঠে সাপের মতো
কী ভীষণ! কী তীব্র সব ক্ষত!
ভাবনায় তুমি দীর্ঘকায় ছিলে
নয়তো তুমি সামান্য উচ্চতার
গড়ে অন্যদের মতো। কে জানত!
তোমারও ভেতর বাহির জুড়ে কী ভীষণ! কী তীব্র সব ক্ষত!
এখন শূন্যতা লিখি পাতায় পাতায়, পাথরে পাথরে, লিখি ঘাসের শিশিরে
এত শূন্যতা আমিই কি জেনেছি প্রকৃত
অবশেষে দেখতে পেলাম সর্বত্রই ক্ষত!

নওশাদ জামিল
নীল শাড়ি

যেখান থেকে যাত্রা শুরু করি
আবার আমি সেখানে আসি ফিরে
অনেক পথ পেরিয়ে এসে দেখি
ফেরার পথে কুহক আছে ঘিরে।

পাহাড় নদী পেরিয়ে মেঠোপথ
এসেছি ফিরে হূদয় আহ্লাদে
অন্ধ ফুলে পরাগ ঢেলে দিয়ে
আবেগ ছাড়া কে আর পড়ে ফাঁদে?

পথের বাঁকে বাতাস ছেঁড়া মেঘ
উড়ল বুঝি আগুন হাতছানি
ধোঁয়ার রেখা মাড়িয়ে বহুদূর
পেলাম দেখা পরম ঝলকানি।

হূদয় টানে আবার আসি ফিরে
ফেরার পথে কুহক ছড়াছড়ি
কুয়াশাজাল ছিন্ন করে দেখি
পথের বাঁকে উড়ছে নীল শাড়ি।


মন্তব্য