kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষণ্ন শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন

১৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



বিষণ্ন শহরের গল্প

অঙ্কন : বিপ্লব

ঊনিশ

সুফিয়া খাতুন গলির মুখের দিকে তাকিয়ে চলে, পুলিশ আসছে কেন? আমারই তো মেয়েটির লাশ নিয়ে ওদের গাড়িতে মর্গে যাওয়ার কথা। ময়নাতদন্ত হবে।

—তাহলে তুমি দেরি করছ কেন?

—ওর মাকে একটু সময় দিচ্ছি শহর। ওর মা তো কেঁদে বুক ভাসাচ্ছে।

—মা সারা জীবন কাঁদবে। একটু সময় মায়ের জন্য কোনো সময় না।

—তোমার মতো আমিও বুঝি শহর। কিন্তু কখনো অনেক কিছু মানতে হয়।

—যাও, ঘরে যাও। বাতাস শোঁ শোঁ শব্দ বন্ধ করে দেয়। সুফিয়া খাতুন বুঝে যায়, ওদের সঙ্গে এখন আর কথা হবে না। ওরা ওকে ঘরে গিয়ে মৃত্যু নদীর পাশে দাঁড়াতে বলেছে। ও সব ভাবনা ঝেরে ফেলে ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দুই হাতে সবাইকে সরায়। বলে, ওই দেখেন, পুলিশ আসছে।

—ওরা আবার আসছে কেন?

—রুহিকে নিতে। না, রুহিকে না। ভুল বলেছি। ওরা আসছে লাশ হয়ে যাওয়া রুহিকে নিতে। সরেন, সরেন। জায়গা দেন।

যারা চারপাশে দাঁড়িয়েছিল তারা সরে গিয়ে জায়গা ছেড়ে দেয়। সুফিয়া খাতুন ঘরে ঢুকতেই শুনতে পায় রুহির কণ্ঠস্বর। সুর করে বলছে, ‘আমি একটা আমড়া। কামড়ে খায় ছেমড়া।’ ও বলতেই থাকে। দরজার কাছে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে যায় সুফিয়া খাতুন। দেখতে পায় আমিনা মেঝেতে পা ছড়িয়ে বসে চৌকির পাশে মাথা ঠেকিয়ে রেখেছে। চোখের দৃষ্টিতে ভাষা নেই। শূন্য দৃষ্টিতে কোনো ছায়া নেই। সুফিয়া খাতুন রুহির কণ্ঠস্বর শুনতেই থাকে। ও একই কথা বলে যাচ্ছে। সুফিয়া খাতুন বুঝতে পারে মেয়েটি যে কথা বলছে সেটা ও ছড়াতে চায় সবার মাঝে। সবাই যেন এই কথা মনে করে ছ্যামড়াগুলোর আমড়া খাওয়ার স্বাদ ঘুচিয়ে দেয়।

ও সামনে গিয়ে আমিনা খাতুনকে হাত ধরে টানে। বলে, উঠেন।

আমিনা খাতুন উঠে দাঁড়ায়। শূন্য দৃষ্টিতে চারদিকে তাকায়। একসময় বিড়বিড়িয়ে বলে, আমার বাঁচার দিন শেষ।

—চলেন রুহিরে কোলে নিই।

—আমি তো কোনো দিন এমন রুহিরে কোলে নিইনি।

—তাহলে আমি কোলে নেব।

গামছা দিয়ে জড়িয়ে রাখব রুহিকে, শাড়ি দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। সুফিয়া ওকে টেনে তুলে হাবিবাকে বলে, আপনিও ধরেন।

দুজনে মিলে ওকে নিয়ে দরজার কাছে এলে দুজন পুলিশ সামনে এসে দাঁড়ায়।

—আমাদের কাছে দেন।

—না, আমরা নিয়ে যাব।

—আপনারা আবার কোথায় কী করবেন। দেরি হয়ে যাচ্ছে।

—আমরা সোজা আপনাদের সঙ্গে যাব। সে সময়ে ওর মাকে কান্নার সময় দিয়েছি।

—আপনেরা আগে যান। আমরা পেছনে থাকি, সুফিয়া আর হাবিবা কোনো দিকে আর তাকায় না। পেছন থেকে কান্নার ধ্বনি ভেসে আসছে। ছেলে-মেয়েরাও কাঁদছে। কিন্তু সব ছাপিয়ে সুফিয়ার কানে বাজে রুহির কথা—আমি একটা আমড়া। কামড়ে খায় ছ্যামড়া। শব্দের তোলপাড় চারদিকে। সুফিয়ার মাথা বন বন করে। নিজেকে ঠিক রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তার পরও সামলায় পরিস্থিতি। ভাবে, রুহির কণ্ঠস্বরে যা শুনতে পাচ্ছে তা কি রুহির কথা? নাকি নিজের কণ্ঠস্বর? আবার নিজেকে প্রশ্ন করে, এই শিশুটি এভাবে কথা বলবে কেন? এমন কঠিন সত্য কথাটি কি যারা এই অপকর্ম করে তাদের বিবেক জাগাতে পারবে? মাথা টলে উঠলে সুফিয়া খাতুন দ্রুত নিজেকে সামলায়। অল্পের জন্য রুহির মরদেহ ছুটে পড়েনি হাত থেকে। একজন পুলিশ জিজ্ঞেস করে, আপনার কী হলো? আপনি কি কিছু ভাবছেন?

—হ্যাঁ, ভাবছি। যারা এমন কাজ করে তাদের বিচারের কথা ভাবছি। ধর্ষণ এবং মৃত্যু একসঙ্গে, কী ভয়াবহ নৃশংসতা! মানুষ এমন দানব হবে কেন?

—এ ধরনের ঘটনা কত যে আমাদের দেখা হয়, তার হিসাব নেই।

—আপনারা এসব ঘটনা কঠোরভাবে দমাতে পারেন না। আদালত অনবরত ফাঁসির দায় দিলে তো এসব বন্ধ হতে পারে। করেন না কেন?

—আমি জানি না। আমাকে এসব জিজ্ঞেস করে লাভ নেই।

—আপনি সচেতন মানুষ না? আপনি এভাবে ভাবলে তো এসব কাজ কখনো বন্ধ হবে না।

খেঁকিয়ে ওঠে অন্যরা।

—আমরা আমাদের ডিউটিতে এসেছি। আপনার এত কথা শোনার দরকার নেই। আপনি প্লিজ আর কথা বলবেন না। লাশ আমাদের হাতে দিন।

—ওকে আপনি ধরুন। আমি গাড়িতে উঠলে ওকে আমার কোলে দেবেন।

হাবিবা বলে, আমিও আপনাদের সঙ্গে যাব।

—না, আপনি যেতে পারবেন না। নিয়ম নেই।

—তাহলে ও যাচ্ছে যে?

—আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় নেই। আপনার প্রশ্নের জবাবও আমরা দেব না। আপনি সরে যান। আপনি বাড়িতে যান।

হাবিবা রাস্তার পাশে সরে দাঁড়ায়। রাস্তার দুই পাশে জড়ো হওয়া লোকেরাও সরে যায়। একজন চেঁচিয়ে বলে, শয়তানটার খবর পেলে আপনাদের জানাব।

—হ্যাঁ, সঙ্গে সঙ্গে থানায় খবর দেবেন।

দবদপিয়ে গাড়িতে ওঠে সবাই। গাড়ি ছেড়ে দেয়। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে গিয়ে গাড়ি থামে। লাশ নামিয়ে মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়। ভেতরে ঢোকার অনুমতি সুফিয়ার নেই। ও আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকে। চারদিকে তাকালে শুনতে পায় শহরের কণ্ঠস্বর।

—তুমি এখন কী করবে সুফিয়া খাতুন।

—আমি আসামির ফাঁসি চাইব।

—কিভাবে চাইবে?

—চিৎকার করে বলতে থাকব। চারদিক লোক জড়ো করব।

—এখানে দাঁড়িয়ে তুমি এসব করতে পারবে না। পুলিশ তোমাকে বের করে দেবে।

—বাতাস, আমি কী করব?

—তুমি আমগাছের নিচে বসো। যে মেয়েটির ধর্ষণের পরে মৃত্যুর কথা তুমি শুনছিলে তার বাকিটুকু শহর তোমাকে বলবে।

—আচ্ছা ঠিক আছে। তোমাদের কথাই মানলাম। সুফিয়া খাতুন আমগাছের কাণ্ডে পিঠ ঠেকিয়ে পা গুটিয়ে বসে। শোনা যায় শহরের কণ্ঠস্বর। সুফিয়া খাতুন কান পেতে শোনে। বলছে শহর—মেয়েটির নাম সুমাহা। ও মক্তবে কোরআন শরিফ পড়া শিখতে যেত। সেদিনও গিয়েছিল। মক্তব ছুটির পরে বিকেলে বাড়ি ফিরছিল। সন্ধ্যা হয়ে গেল। রাত এলো। কিন্তু বাড়িতে ফিরে এলো না সুমাহা।

বাড়ির সবাই চিন্তিত হয়ে গেল। কোথায় গেল মেয়েটি। বাড়িতে ওর খালা-মামারা ছিল। ছিল না মা-বাবা। ওর মা-বাবা ওমরাহ পালন করতে মক্কায় গিয়েছিল। পরিবারের সবাই চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করল ছোট্ট সুমাহার। ছয় বছরের মেয়েটি একা একা কত দূর যেতে পারে? যাবেই বা কেন? ও তো কখনো যায় না। মক্তব ছুটি হলে সোজা বাড়িতে চলে আসে।

খালা ওকে এক গ্লাস দুধ দিলে বলত, রোজ রোজ দুধ খাব না। একই জিনিস রোজ রোজ খেতে ইচ্ছা হয় না। খালা ভুরু কুঁচকে তাকিয়ে বলত, দুধ একই জিনিস না। দুধ স্বাস্থ্যের জন্য দরকার। রোজ খেতে হয়।

—আমি রোজ খাব না খালা।

—তাহলে কী খাবি?

—কোনো দিন আইসক্রিম। কোনো দিন দই। কোনো দিন মণ্ডামিঠাই।

খালা হাসতে হাসতে বলত, মেয়েটার আবদারের শেষ নেই। যেন কোনো রাজকন্যা। ইচ্ছা হলে যা খুশি খাবে। এমন বায়না করা ঠিক না। মৃদু বকা দিয়ে বলত, এমন বায়না করলে মার দেব সুমাহা। আমরা যা দেব তোকে তা খেতে হবে। না বলবি তো সেদিন না খাইয়ে রাখব। তখন চিঁ-চিঁ করে কাঁদবি।

—ইস, আমি চিঁ-চিঁ করে কাঁদব কেন? আমি হাউমাউ করে কাঁদব। চিৎকার করে কাঁদব।

—কেন? চিৎকার করে কাঁদবি কেন?

—সবাইকে জানাব যে আমি নিজের মতো খেতে চাই বলে আমাকে খেতে দেওয়া হয় না।

—বাব্বা, পুঁচকে মেয়েটার সাহস তো অনেক দেখছি।

হা-হা করে হেসে খালাকে জড়িয়ে ধরেছিল সুমাহা। ও একটা হাসিখুশি প্রাণবন্ত মেয়ে ছিল।

সুফিয়া খাতুন জোরে জোরে বলে, এমন প্রাণবন্ত মেয়েটিকে এভাবে মরতে হলো শহর? পৃথিবীতে ঈমান বলতে কিছু নেই?

—এসব প্রশ্নের উত্তর আমি দিতে পারি না। আমি সুমাহার কথা বলছি তোমাকে।

—বলো, বলতে থাকো। আমি শুনব।

শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইতে থাকে। গাছতলায় বসে থাকা সুফিয়ার চুল উড়ে এলোমেলো হয়। কপালে এসে পড়ে। ও চুল সরানোর সময় শুনতে পায় বাতাসের কণ্ঠস্বর।

—সুমাহা হারিয়ে যাওয়ার পাঁচ দিন পরে কাসুর শহরের ময়লার ভাগাড় থেকে ছোট্ট সুমাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ভাগাড়টি ছিল ওর বাড়ি থেকে দুই মাইল দূরে। সেদিন বাড়ি ফেরার সময় ওর পথ আটকে দিয়েছিল আরমান। বলেছিল, তুই আইসক্রিম খেতে ভালোবাসিস। আয় আমার সঙ্গে।

—তুমি কে? আমি তোমাকে চিনি না। আমি তোমার সঙ্গে যাব না।

—বাড়িতে তোর মা-বাবা নেই। এখনই তোর ঘুরে বেড়ানোর সময়। আয়।

—না, আমি যাব না।

—বোকা মেয়ে, ভয় পাচ্ছিস?

—হ্যাঁ, তোমার সঙ্গে যেতে আমার ভয় করছে।

—চল না, একটুখানি মজা করবি। আইসক্রিম কিনে তোকে আমি বাড়িতে দিয়ে আসব।

—না, যাব না। যা ভাগ।

—কী বললি? দেখাচ্ছি মজা। আয়। ওর মুখ চেপে ধরে টানতে টানতে নিয়ে যায় আরমান। মাঝপথে রিকশায় ওঠে। তারপর ওকে আটকে রেখে ছিঁড়েবিড়ে খেয়ে ভাগাড়ে ফেলে দেয় আরমান।

প্রবল শোঁ-শোঁ শব্দে তোলপাড় করে বয়ে যায় বাতাস। নির্বাক সুফিয়া খাতুনের কানে ভেসে আসে রুহির কণ্ঠ—‘আমি একটা আমড়া। কামড়ে খায় ছ্যামড়া।’ ছয় বছরের সুমাহাই তো কথা বলছে। দেশ একটা না, ভাষাও এক রকম না, শুধু ঘটনায় কোনো তফাত নেই। সব দেশে একই রকম।

সুফিয়া খাতুন বিড়বিড়িয়ে বলে, বাতাস রাগ কমাও। ঘটনার বাকিটুকু বলো।

—সুমাহার লাশ নিয়ে যায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত হয়। বলা হয় ধর্ষণের পরে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলা হয়েছে ওকে। নিখোঁজ হয়ে যাওয়া সুমাহাকে খুঁজে বের করার জন্য থানায় গিয়েছিল ওর খালা-মামারা। কিন্তু পুলিশ খুঁজে বের করতে পারেনি। সে জন্য এলাকাবাসী পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। এর আগেও তিনটে শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। ওদেরকে মেরে ফেলা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনো সুরাহা করতে পারেনি। আগের ঘটনায় পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় দুজন।

সুফিয়া খাতুন খেঁকিয়ে বলে, এভাবে কি সমাজ চলতে পারে? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা থাকবে না? নিরাপত্তা রক্ষাকারী নিরাপত্তা ভাঙবে কেন শহর? তুমিও বলো বাতাস?

—মানুষ অন্যায় আচরণ করে বলেই তো আমাদের দুঃখ কাটে না। আমরা বিষণ্নতার ডোবায় ডুবে থাকি। আমাদের বেরিয়ে আসার সাধ্য ফুরিয়ে যায়।

—তোমরাও এভাবে বলছে। তাহলে আমরা কোথায় যাব?

—কোথায় যাবে আর? গুমরে মরবে। আমরা শুধু এটুকু জানি যে সুমাহা হারিয়ে যাওয়ার পাঁচ দিনে পুলিশ কিছু করেনি। সে জন্য মানুষ ক্ষুব্ধ ছিল। সুমাহার ঘটনার আগে যে নির্যাতনের ঘটনা ছিল সেগুলোর জন্যও—

—থাক, এত কথা আর বলতে হবে না। দেশ-বিদেশের এমন ঘটনার খবর আমরা অনেক শুনতে পাই। সুমাহার কথা বলো?

—সুমাহার পরিবার সেদিনের সিসিটিভি ফুটেজ জোগাড় করেছিল। ফুটেজে দেখা গেছে একটি ছেলে ওকে নিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।

—মেরেছে ওকে?

—সিসিটিভি ফুটেজে মারার দৃশ্য নেই। মারতেও পারে। মেয়েটি তো ওর সঙ্গে যেতে চায়নি। পরে হয়তো ভয়ে ওর সঙ্গে হেঁটে গেছে। ওইটুকু মেয়ে ছেলেটির সঙ্গে তো গায়ের জোরে পেরে উঠবে না।

—সেটা তো সত্যি।

সুফিয়া খাতুন নিজেও বিষণ্ন হয়ে যায়। দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলে, ৪ তারিখে নিখোঁজ হয়ে গেল, ৯ তারিখে লাশ পাওয়া গেল। তার ১৫ দিন পরে ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করতে পারল পুলিশ। তা-ও তো গ্রেপ্তার করেছে। বলেনি, খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না আসামিকে।

—হ্যাঁ, এটা একটা দিক।

শহর আর বাতাস একসঙ্গে চলে।

সুফিয়া খাতুন নিজেও চোখ বড় করে বলে, আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে সমাধান পাওয়া যায়।

—মানুষের নষ্ট আচরণ দেখে তো আমার বুক ফুটো হয়ে থাকে।

বাতাস শোঁ-শোঁ শব্দের মাতম তুলে বলে, সে জন্য শহরের ফুসফুসে বাতাস ঢোকে না।

—হার শহর তুমি বিষণ্নতা কাটাও। আদালত আসামিকে চারবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন।

সুফিয়ার কথার কোনো সাড়া নেই। নিস্তব্ধ হয়ে যায় চারদিক। বাতাসের হিমেল ছোঁয়া ওকে ঘিরে রাখে। কানে বাতাস ঢোকে। শ্বাস টানলে নাক শীতল হয়ে যায়। ও বিড়বিড়িয়ে বলে, তোমরা আমাকে সুখ দিতে পারবে না। আমি রুহির হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। এক মাসের মধ্যে বিচারের রায় চাই।

সুফিয়া খাতুন মর্গে ঢোকার জন্য উঠে দাঁড়ায়। রুহির মুখটা দেখতে হবে একবার। ঢুকতে না দিলে গায়ের জোরে ঢুকবে। পরক্ষণে নিজেকে শাসন করে। গায়ের জোরে ঢুকবে কেন? অনুমতি নিয়ে ঢুকবে। হাসপাতালের দিকে পা বাড়ালে শুনতে পায় কান্নার শব্দ। কোনো নারী কাঁদছে। হাসপাতালের কোনো ওয়ার্ড থেকে কান্নার শব্দ আসছে।

চলবে ►►



মন্তব্য