kalerkantho


আবার আসিব ফিরে

মাহবুবা হোসাইন

১৩ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০০



আবার আসিব ফিরে

অঙ্কন : মানব

এয়ারপোর্ট লাউঞ্জে কাচের দেয়ালটার এপারে দাঁড়িয়ে আছে তিতি। হাতে একটা প্ল্যাকার্ডে বড় বড় অক্ষরে লেখা 'DEVID LEWNIS'। তিতিরের মুখটা নির্লিপ্ত আশপাশের অন্যান্য মুখের অভিব্যক্তির সঙ্গে ঠিক যেন যায় না। ওই মুখগুলোর মতো স্বজনের আগমন বা নির্গমনের আনন্দ বা বেদনা কোনোটাই নেই তার মুখে। কারণ সে যার জন্য অপেক্ষা করছে, তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। সে একটা ট্রাভেল এজেন্সিতে কাজ করে, তাদের পক্ষে একজন আমেরিকান তরুণকে রিসিভ করতে এই অপেক্ষা। প্লেন ডিলে। তিতি বেশ বিরক্ত। সঙ্গে অফিসের কেউ নেই, তাই মুখে কৃত্রিম অভিব্যক্তি ফুটিয়ে রাখারও দায় নেই তেমন। মুখে বিরক্তির ছাপ।

এক পা থেকে আরেক পায়ে ভর বদল করে তিতি উদাসভাবে ইমিগ্রেশনের দিকে তাকায়। ছোট্ট একটা হাই উঠে যায়। তত্ক্ষণাৎ ওটা চেপে মনোযোগ দেয় ইমিগ্রেশনের ভেতরে। চোখ শুধু বিদেশিদের ওপর ঘোরাফেরা করে। অফিস থেকে বলে দেওয়া হয়েছে, বিশ-বাইশ বছরের এক তরুণ। প্রোফাইল থেকে কিছু ছবিও দেওয়া হয়েছে। ছেলেটা বেশ হ্যান্ডসাম। ইমিগ্রেশনে চোখ ফেলে ফেলে দেখতে থাকে বিদেশিদের।  কিন্তু ছবিতে দেখা সেই হ্যান্ডসামকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। ট্যাটাস বোর্ডে দেখা যাচ্ছে, এমিরেটসের নির্ধারিত ফ্লাইটটা ল্যান্ড করেছে কখন! কিন্তু কোথায় সে? বিরক্ত হয়ে মনে মনে বলে তিতি—

—বি স্মার্ট বয়। তাড়াতাড়ি এসো। তোমাকে পৌঁছে দিয়ে আমাকে আবার ফ্রেঞ্চ ক্লাসটা ধরতে হবে। বিদঘুটে ভাষাটা কিছুতেই আয়ত্ত করতে পারছি না। কোন শব্দটা উচ্চারণ হবে, কোনটা হবে না—এ এক মহাঝক্কি! আচ্ছা, পৃথিবীতে এত ভাষা কেন? একটা ভাষা হলে কী এমন ক্ষতি ছিল? তাহলে তো ভাষা নিয়ে এত ঝামেলা পোহাতে হতো না। যে কাজ সে করে, সেখানে শাইন করতে হলে ভাষা জানা চাই, চাই-ই চাই।

তিতি আনমনা হয়ে গিয়েছিল। ফিরে এলো একটা সুন্দর কণ্ঠস্বরে—

—আই এম উবারফ খবহিরং। আর ইউ ফ্রম ‘আকাশ ট্রাভেল্স’?

তিতি দেখে, সুদর্শন এক যুবক দাঁড়িয়ে আছে।

তিতি নিজেকে সামলে ঠোঁটে মিষ্টি হাসি ছড়িয়ে বলে—

—ইয়েস, আই এম।

 ডান হাতটা হ্যান্ডশেকের জন্য বাড়িয়ে দেয়।

—আই এম তানিয়া রশিদ। ইউ মে কল মি তিতি?

—তিতি?

সুদর্শন একটু হাসে। পরিমিত হাসি।

—ভেরি সুইট নেম। হোয়াট ডাজ ইট মিন?

তিতি নিজেই জানে না এর অর্থ কী? বাবা আদর করে ডাকে... মা-ও। ও আন্দাজে বলে

—অ্যা সুইট ডাক।

তাদের প্রফেশনে এ ধরনের ছোটখাটো নির্দোষ মিথ্যা বলা জায়েজ। পরিস্থিতি অনুকূলে রাখার জন্য বলতে হয় মাঝেমধ্যে। এটাই স্মার্টনেস। যে যত স্মার্ট, এখানে সে তত সাকসেসফুল।

—অ্যা সুইট ডাক? ইউ রিয়েলি আর সো।

ছেলেটি চোখে ঝিলিক তুলে হেসে তিতির নরম হাতটি তার ডান হাতে নিয়ে আন্তরিকতার ঝাঁকুনি দেয়। তিতিও স্মার্ট হাসি ঝুলিয়ে রাখে ঠোঁটে।

সে বাইরে যাওয়ার রাস্তাটা দেখিয়ে দিয়ে বলে—

—প্লিজ! দিস ওয়ে।

তিতি লাগেজটা নিতে হাত বাড়ায়, ডেভিড বাধা দেয়।

—আই এম স্ট্রংগার দেন ইউ। অ্যাম আই নট?

তিতি সমর্থনের মিষ্টি হাসি হাসে। পথ দেখিয়ে নিয়ে যায় বাইরে। সেখানে আকাশ ট্রাভেলসের মাইক্রো দাঁড়িয়ে। ডেভিড তার ট্রলিটা ডিকিতে তুলতে যায়। ড্রাইভার তার হাত থেকে ট্রলিটা নিয়ে নেয়। ডেভিড ভীষণ সুন্দর করে হাসে, বলে—থ্যাংক ইউ।

বিনয়ী আর ভদ্র। খুব ভালো লাগে তিতিরের। তিতি তাকিয়ে থাকে। সভ্যতা ভদ্রতা এক দিনে হয় না, সে মনে মনে ভাবে—সময় লাগে। নিজেকে ওর পাশে বেশ আনস্মার্ট লাগতে থাকে; কিন্তু চটপট কাটিয়ে ওঠে সে। পেছনের সিটে পাশাপাশি বসে দুজন। চলতে চলতে দুই পাশের বর্ণনা দিতে থাকে তিতি। এটাই নিয়ম। দেশের যা কিছু ভালো, বিদেশিদের কাছে তুলে ধরতে হবে তো? ডেভিড বিস্ময়ভরা চোখে দেখছে চারদিক। অন্য একটা দেশ, অন্য রকম কালচার, অন্য রকম অনুভূতি। তিতি তাকে হোটেল সোনারগাঁওয়ে পৌঁছে দিয়ে সেই মাইক্রোতেই তার অফিসে ফিরে আসে।

অফিসে ফিরতেই ফয়সাল ডেভিডের পাঁচ দিনের একটা খসড়া শিডিউল ধরিয়ে দিল। সে দিন পাঁচেক বাংলাদেশে থাকবে। এর মধ্যে পড়বে পহেলা বৈশাখ। পহেলা বৈশাখের ওপর সে একটা ডকুমেন্টারি করবে। যেকোনো আইভি লিগ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে ওগুলো লাগে। তাই নাইকনের একটা দামি ডিএসএলআর নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে নিজের কাজে। এ কাজে তাকে সাহায্য করবে তিতি। তিতি খুশি। প্রাণবন্ত ওই ছেলেটার সঙ্গে ভালোই কাটবে এই পাঁচটা দিন।

সকাল তখন প্রায় ৯টা। একটু ইতস্তত করে ডেভিডের হোটেলরুমেই ফোন করে তিতি। ঘুম জড়ানো গলায় ফোনটা ধরে ডেভিড। ভোর ভোর নাশতা সেরে এসে এজেন্সির ফোন কলের অপেক্ষা করতে করতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছিল। নরম গলায় বলে—

—হ্যালো?

—দিস ইজ তিতি স্পিকিং।

—ওহ্! দ্যাট সুইট ডাক?

এ অবস্থায়ও মজা করতে ছাড়ে না ছেলেটা? ওর ঘুম জড়ানো কণ্ঠে ‘সুইট ডাক’ শব্দটা একটা সুখ ছড়িয়ে দেয় তিতির মনে। তিতি জোর করে কাটিয়ে দেয় ভালো লাগাটা। সীমানার ওপারে তাকে দাঁড় করিয়ে রাখে।

—ও নো, আই এম অনলি তিতি। হোয়াটস অন ইউর স্কেজুল টুডে? ওড ইউ প্লিজ টেল মি ইউর স্কেজুল?

—আই অ্যাম অ্যাট ইউর ডিসপোজেল। ক্যান ইউ কাম টু দ্য হোটেল লবি অ্যাট অ্যারাউন্ড ইলেভেন থার্টি?

আই উইল বি দেয়ার বাই দেন?

—ওকে, আই উইল।

এগরোটা পনেরো বাজতেই তিতি হোটেল লবিতে পৌঁছে যায়। ঢাকা শহরে যে যানজট? একটু আগেই এসে গেছে সে। সোফায় বসে ডেভিডের অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডেভিড বেরিয়ে আসে। গোসল করা ক্লিন সেভড ডেভিড ঝকঝক করছে। নীল শার্টটা ফর্সা গায়ে ফুটে আছে। গতকালের চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর লাগছে তাকে। তিতি উঠে দাঁড়ায়। ধূসর রঙের সালোয়ার-কামিজ পরনে। ঝরঝরে চুলগুলো পনিটেল করা। হাতে আকাশ ট্রাভেলসের একটা ফোল্ডার। তাতে পেনসিল, কলম, কাগজ। ডেভিড কাছে এসে দাঁড়ায়। তার চোখে কি মুগ্ধতার ছায়া? তিতি উপেক্ষা করে। ডেভিড তার স্বভাবসুলভ উচ্ছলতায় বলে—

—গুড মর্নিং। ইউ আর লুকিং এলিগ্যান্ট।

তিতি মিষ্টি হেসে জিজ্ঞেস করে,

—গুড মর্নিং, স্যার! স্লিপ ওয়েল?

—ইট ওয়াজ ফাইন।

তারপর ওরা বসে যায় খাতা-কলম নিয়ে। ডেভিডের ঢাকা আসার উদ্দেশ্যটা প্রথমে বুঝে নেয় তিতি। একটু চিন্তা করে বলে—আমি তোমার কাজের একটা স্কেজুল তৈরি করে দিচ্ছি। চেঞ্জ করতে হলে বোলো।

তিতি পাঁচ দিন ভাগ করে কাগজে লেখে—

‘ইলেভেন্থ এপ্রিল আর্ট কলেজ টু সি দ্য প্রিপারেশন।

টুয়েল্ভথ এপ্রিল ওল্ড ঢাকা ফর টেক সাম পিকচার।

থার্টিন্থ এপ্রিল গাজীপুর ফর গ্রামীণ বৈশাখ।

ফরটিন্থ এপ্রিল-পহেলা বৈশাখ-ঢাকা ইউনিভার্সিটি-ফর মঙ্গল শোভাযাত্রা।

ফিফটিন্থ এপ্রিল-সেকেন্ড বৈশাখ-ডিপার্চার।’

 

লিখতে লিখতে, আলোচনা করতে করতে দুজনই দুজনার সীমানা টানা নৈকট্য উপভোগ করতে থাকে। ডেভিডের নীল চোখ কি তা-ই বোঝাচ্ছিল না? আর তিতিরের উচ্ছল অভিব্যক্তি? দুজনই ক্রমে বন্ধু হয়ে উঠছিল। বুঝছিল, সামনের দিনগুলো সমান সমঝোতায় ভীষণ ভীষণ আনন্দের হয়ে উঠবে। দুজনেরই।

ওরা এখন যাবে আর্ট কলেজে, সেখানে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রিপারেশন চলছে। অফিস থেকে গাড়ি দিয়ে দিয়েছে। হোটেল সোনারগাঁও থেকে বেরিয়ে সোজা আর্ট কলেজে গেল ওরা।

কী সুন্দর ছায়াঘেরা চত্বরটা। বাতাসটাও আজ দারুণ। বসন্ত এখনো যায়নি। কোথায় এক কোকিল ডেকে যাচ্ছে উদাসভাবে।

তিতিরের কেন এত ভালো লাগছে কে জানে? জীবনের এত ব্যস্ততায় ভুলেই গিয়েছিল ভালো লাগালাগি। কে বলে, জীবন কষ্টের? এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে?

ডেভিড আর্ট কলেজে ঢুকেই তার ডিএসএলআর নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। আর্ট কলেজের ছেলে-মেয়েরা অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে কাজ করছে। কেউ কেউ মুহূর্তমাত্র চোখ তুলে ডেভিডকে দেখে নিল। ডেভিড গভীর মনোযোগ দিয়ে ছবি তুলে চলেছে। মানুষকে সবচেয়ে সুন্দর লাগে, যখন সে অখণ্ড মনোযোগ দিয়ে কাজ করে। তিতি মুগ্ধ হয়ে দেখছিল ডেভিডের কাজ। মাঝেমধ্যে তিতিরের কাছে এসে তার তোলা ছবিগুলো দেখাচ্ছিল ডেভিড আর অদ্ভুত একাগ্রতায় তিতিরের সমর্থন খুঁজছিল। ডেভিডকে এত আপন লাগছিল যে তিতির মনেই হচ্ছিল না অন্য দেশের কেউ। তিতিকে দাঁড় করিয়েও বিভিন্ন অ্যাংগেল থেকে কয়েকটা ছবি তোলে ডেভিড।

তিতি মজা করে বলে—

—অ্যাম আই ইউর মডেল?

—হু নোজ ইউ ক্যান বি ফেমাস?

ডেভিড চোখ মটকায়।

—ডু ইউ ডাউট মাই ট্যালেন্ট?

তিতি দুই দিকে মাথা নাড়ে। মিষ্টি হাসে। ডেভিড স্থির চোখে তাকায়। পলকে ফিরিয়ে নেয় দৃষ্টি।

আর্টিস্টদের পাঞ্জাবি দেখিয়ে কিনে দিতে বলে তিতিকে।

তিতি ডেভিডকে নিয়ে যায় গুলশান আড়ংয়ে। ডেভিড নেট ঘেঁটে দেখেছে, পহেলা বৈশাখে ছেলেরা লাল রঙের পাঞ্জাবি পরে। তিতি লাল রঙের সুন্দর একটা পাঞ্জাবি পছন্দ করে দেয়। ডেভিড নিজে পছন্দ করে আরেকটা নীল পাঞ্জাবি। তিতি লক্ষ করেছে, ডেভিডের নীল রঙের প্রতি দুর্বলতা আছে। ঘুরতে ঘুরতে ওরা শাড়ি সেকশনে যায়। তিতিকে একটা লাল শাড়ি পছন্দ করে দিতে বলে ডেভিড। কার জন্য কে জানে? দাম মিটিয়ে ওরা বাইরে এসে গাড়িতে ওঠে। গাড়িতে উঠেই শাড়িটা তিতিকে দিয়ে ডেভিড বলে—ইটস অ্যা গিফ্ট ফর পহেলা বৈশাখ।

ডেভিডের ভাঙা ভাঙা উচ্চারণে ‘পহেলা বৈশাখ’ শুনতে খুব মজা লাগে তিতির; কিন্তু গিফ্টা নিতে কেমন অস্বস্তি হয়। ডেভিডকে এই মুহূর্তে কষ্ট দিতে চায় না সে। গিফ্টা হাতে নিয়ে বলে—

—থ্যাংক ইউ, ডেভিড?

পরদিন পুরান ঢাকার বিভিন্ন জায়গা ঘুরে বৈশাখের সঙ্গে যায় এমন কিছু ছবি নেয় ডেভিড। তারপর যায় গাজীপুরের এক গ্রামে গ্রামীণ বৈশাখী মেলা দেখতে। ট্রাভেল এজেন্সি থেকে আগেই জেনে নিয়েছিল, গাজীপুরের একটা গ্রামে বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। মুড়ি ভাজা, পিঠা বানানো, চরকায় সুতা কাটা, বৈশাখী মেলা, চরকি, কী ছিল না সেখানে? আজকাল ইভেন্ট ম্যানেজম্যান্ট কী না করতে পারে?

পহেলা বৈশাখ। খুব ভোরে ওরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে এসে দাঁড়ায়। এই সাতসকালেও প্রচুর ভিড়। ডেভিড বিস্ময়ভরা চোখে দেখে, ছেলে-বুড়োর পান্তা-ইলিশ খাওয়া, মেয়েদের চুড়ি কেনা, ফুলের ক্রাউন পরা সুন্দরী, বাচ্চাদের ডুগডুগি বাজানো, যুবকদের হাসি-ঠাট্টা, গান, স্লোগান, জনতার এলোমেলো মিছিল তার খুব—খুব ভালো লাগে। চটপট ছবি তুলে নেয়। এগোতে এগোতে টিএসসির বাউন্ডারির বাইরের উঁচু জায়গাটা দখল করে নেয় তিতি। এখান থেকে মঙ্গল শোভাযাত্রা সবচেয়ে ভালো দেখা যায়। আরামসে ছবি তোলা যাবে। এত সকালেও এ এলাকা লোকে লোকারণ্য। ছেলে, মেয়ে, বাচ্চা, বুড়ো—লাল সাদার ঢেউ। বাাঁশ, ভেঁপু, গান, স্লোগানে জমজমাট। দশটার দিকে মঙ্গল শোভাযাত্রা বের হয়ে এলো। এবারের থিম তিতির পাখি। ডেভিডের সুইট ডাক। ডেভিড নীল চোখের বিস্ময়ভরা আনন্দে চারদিকে তাকাচ্ছে, পাগলের মতো ছবি তুলছে, সর্বশরীর দিয়ে যেন আনন্দ শুষে নিচ্ছে। আনন্দের মাত্রাহীন ঘূর্ণি তাকে বেষ্টন করে ঘুরছে তো ঘুরছেই। কোনো দিকে খেয়াল নেই তার। তিতি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকে ডেভিডের দিকে। সে যেন সত্যি সত্যি পাঞ্জাবি পরা মিকেল এঞ্জেলোর ডেভিডকে দেখছে। চোখ ফেরাতে পারছে না কিছুতেই।

পাঁচ দিন শেষ? কিভাবে?

আবারও সেই এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ। সেদিনের সঙ্গে আজ কত পার্থক্য? নির্লিপ্ত উদাসীনতায় মাত্র পাঁচ দিন আগে যাকে বরণ করেছিল তিতি, আজ হৃদয় নিংড়ানো ব্যথায় তাকে বিদায় দিতে হচ্ছে। দুজনের চোখেই বিচ্ছিন্নতার বেদনা। মাত্র বিশ বছর বয়স। জীবনের অভিজ্ঞতাহীন চোখে এই মুহূর্তে তাদের কাছে সব কিছুই ধরা দেয় নিগূঢ় বেদনায়। আজ দুজনের হৃদয়েই কান্না। কী করে চলে গেল পাঁচটা দিন? কী প্রগাঢ় আনন্দে!

ডেভিড তিতিরের হাত ধরে মৃদু ঝাঁকুনি দিয়ে বলে—

—আই উইল মিস ইউ, তিতি?

—মি ঠুওওও...

তিতিরের গলা বুজে আসে...


মন্তব্য