kalerkantho


ধারাবাহিক উপন্যাস

বিষন্ন শহরের গল্প

সেলিনা হোসেন   

৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিষন্ন শহরের গল্প

২৯

গুলির শব্দ চৌচির করে ফেলে বিষণ্ন শহরের সবটুকু। যত দূর শব্দ পৌঁছায় তত দূর মানুষের কর্ণকুহর আচ্ছন্ন হয়ে যায়। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ঘরে ঘরে মানুষের নিঃশ্বাস ঘনীভূত হয়ে থাকে। উচ্চারিত জিজ্ঞাসা প্রতিধ্বনিত হয় সবখানে—গুলির শব্দ কেন? কোথায় হচ্ছে? কেন হচ্ছে?

জিগাতলার বাসিন্দা আরমান হক গোলাগুলির  শব্দের তীব্রতায় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়েছে। তার বাড়ির কাছে পিলখানা। বিডিআর সদর দপ্তর ওখানে। শব্দটা ওখান থেকে আসছে বলে সে মনে করে। নইলে তার বাড়ির এত কাছে গোলাগুলির শব্দ হওয়ার জায়গা নেই। দু-চারজন মানুষের মধ্যে গুলি  ছোড়া হতে পারে, যেকোনো কারণে। কিন্তু তার শব্দ এমন প্রচণ্ড হবে না। আরমান হক ঘড়ি দেখে। বেলা গড়িয়েছে। ৯টার বেশি বাজে। এখনো সকালের নাশতা খাওয়া হয়নি। আসফিয়া রান্নাঘরে ঢোকার আগে বলেছিল, নাশতা দিতে একটু দেরি হবে। তোমার জন্য গাজরের হালুয়া বানাব। যেটুকু ফ্রিজে ছিল কালকে অমিয় খেয়ে শেষ করে ফেলেছে।

—হ্যাঁ, আমার সামনে বসেই তো খেল। ওর আবার গাজরের হালুয়া খুব পছন্দের।

আসফিয়ার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসেছিল আরমান হক। এখন গোলাগুলির শব্দ খিদে উবিয়ে দিয়েছে। নাশতা খাওয়ার ইচ্ছা নেই। শুধুই ভাবছে অমিয় এক দিনের জন্য বাড়িতে এসেছিল। ও সেনাবাহিনীতে মেজর পোস্টে চাকরি করছে। তিন মাস আগে ওকে বিডিআরে বদলি করা হয়েছে। মেসে থাকে। ফিরে গেছে কালকেই। কেমন আছে অমিয়? ভাবতে গিয়ে বুক ধড়ফড় করে আরমান হকের। সোফায় মাথা এলিয়ে দিলে তার চোখের সামনে চারদিক অন্ধকার হয়ে যায়। পরক্ষণে নিজেকে ধমকায়। কেন সে খারাপ কিছু ভাবছে? অমিয় তো কোনো অন্যায় করেনি যে ওকে অস্ত্র হাতে ছুটতে হবে এখনকার এই শান্ত সময়ে। এটা তো কোনো যুদ্ধের সময় না। আরমান খানের মাথা কাত হয়ে পড়ে সোফার ওপরে। নিজেকে ধমকানোর পরও চোখের পানি বাঁধ মানে না। হক দুহাতে চোখের পানি মুছে শেষ করতে পারে না। বুকের  ভেতর কোথায় কী ধসে যাচ্ছে তা বুঝতে পারে না।

আসফিয়া খাতুন কাছে এসে দাঁড়ায়।

কাঁদতে কাঁদতে বলে, আমার মনে হচ্ছে পিলখানায় কিছু হয়েছে। এত কাছে থেকে গোলাগুলির শব্দ আর কোথায় হবে।

আরমান হক কথা না বলে মাথা ঝাঁকায়। হাত উঠিয়ে চোখের পানি মুছতে পারে না।

—তুমি কাঁদছ? কাঁদছ কেন?

—আমাদের অমিয়, আমাদের অমিয়।

 আসফিয়াও অমিয় অমিয় বলে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে বসে পড়ে। সোফার গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মেঝেতে গড়িয়ে পড়ে।

নিজের ঘর থেকে দৌড়ে আসে আলপনা।

—কী হয়েছে মায়ের? মা, মাগো।

আলপনা মায়ের পাশে বসে মাকে টেনে তোলে।

—কী হয়েছে মাগো?

—অমিয় বাড়িতে নেই। মন খারাপ লাগছে।

—ভাইয়ার জন্য আমারও ভয় লাগছে। যদি ভাইয়া গোলাগুলির মাঝে আটকে যায়। ও আল্লাহরে, কী যে শুরু হয়েছে পিলখানায়।

আলপনা চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে ঘরে ছোটাছুটি  করে। এ মাথায়, ও মাথায় যায়। ড্রয়িংরুমের দেয়ালে দুই ভাই-বোনের কিশোরবেলার ছবি টাঙানো আছে। ওটার সামনে গিয়ে দাঁড়ায়। আকস্মিকভাবে আরমান হকের মনে হয় আমরা কী বাড়াবাড়ি করছি না? ছেলেটাকে নিয়ে এমন চিন্তা করা পাগলামি ছাড়া কিছু না। আরমান হক সোজা  হয়ে উঠে বসে বলে, মা এদিকে আয়।

আলপনা বাবার সামনে এসে কোলে মাথা রেখে ফোঁপাতে থাকে। আরমান হক মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে ওকে শান্ত করে। একসময় মাথা সোজা করে বলে, চোখ মুছে ফেলো মা।

আলপনা দুহাতে চোখ মোছে।

—কাঁদছিস কেন মা?

—ভাইয়ার যদি কিছু হয়, এই ভয়ে আমার বুক ফেটে যাচ্ছে।

—আমার ছেলে কোনো অন্যায় করেনি। ওর কিছু হবে না।

আসফিয়া মাথা উঁচু করে বলে, সময়টা এখন ন্যায়-অন্যায় হিসাবের না। যারা গোলাগুলির কারণ ঘটিয়েছে, ওরা কী দেখে দেখে মারবে? ওদের তো মাথার ঠিক নেই। সামনে যাকে পাবে তাকেই মারবে।

—থাক, এসব চিন্তা আমরা আর করব না। মাগো তুই ওঠ। নাশতা খেয়েছিস?

—বাবা, আজকে আমার গোলাগুলির শব্দে ঘুম ভেঙেছে। আজকে খুব ভোরে ঘুম ভাঙেনি। ওই শব্দ শুনে আমার প্রথমে ভাইয়ার কথাই মনে হয়েছে। আমার বুক ধড়ফড় করছিল। বিছানা থেকে ওঠার পর মায়ের কান্না শুনে—

—থাক মা, আর কিছু বলতে হবে না। চল, আমরা সবাই খাবার টেবিলে গিয়ে বসি।

কেউ কোনো কথা বলে না। তিনজনই উঠে দাঁড়িয়েছে। প্রবল গুলির শব্দ তখনো চারদিক চৌচির করছে। তিনজনে স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। ডাইনিংরুমের দিকে যেতে পারে না। পা আটকে গেছে। আলপনা মাঝখানে দাঁড়িয়েছিল। মা-বাবা দুই পাশ থেকে ওর দুহাত ধরে বলে, আয়।

আলপনা শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। নড়ে না। মা আবার বলে, আয় মা।

—আমি ওই শব্দ বুকের ভেতর জমিয়ে রাখছি। কে যেন আমাকে বলছে, শব্দটা তো তোকে সারা জীবন কাঁদাবে। তুই ঠায় দাঁড়িয়ে নিঃশ্বাসে শব্দ টানতে থাক।

ওর এমন কথা শুনে মা-বাবা দুজনে স্তব্ধ হয়ে যায়। ওকে টেনে নিয়ে সামনে যাওয়ার চেষ্টা করে না। ভাবে, একসময় শব্দ কমে যাবে। কমতেই হবে।

আরমান হকের কাছে ভেসে আসে শহরের কণ্ঠস্বর, শুধু গুলির শব্দ শুনছ তোমরা। আগুনও জ্বলছে পিলখানার রাস্তায় রাস্তায়।

—আগুনও জ্বলছে? কী বলছ শহর?

—জানালা খুলে দেখো। কালো ধোঁয়া উড়ে যাচ্ছে আকাশের দিকে।

—কেন, আগুন কেন?

—ওদের ইচ্ছা।

—ওরা কারা?

—ওরা বিদ্রোহী। ওদের দাবির মুখে জিম্মি হয়ে গেছে বিডিআরের বড় কর্মকর্তারা।

—আজ থেকে না বিডিআর সপ্তাহ ঘিরে উৎসব শুরু হবে। আমার ছেলে তো তাই বলে গেছে।

—সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছিল। পিলখানার বিভিন্ন রাস্তা আর দরবার হল ঝলমল করছে। পতাকা উড়ছে এখানে-ওখানে।

—প্রতি বছরই তো বিডিআর সপ্তাহ আয়োজিত হয়।

—হয় তো। এবারের আয়োজনে যোগ হয়েছে। গুলি আর আগুন।

থেমে যায় শহরের কণ্ঠস্বর।

আরমান হক চেঁচিয়ে বলে, থামলে যে? আর কিছু যোগ হয়নি?

—আরো অনেক কিছু যোগ হয়েছে।

—তার মধ্যে মৃত্যু প্রধান। ঠিক  বলেছি?

স্তব্ধ হয়ে যায় শহরের কণ্ঠস্বর। কেঁপে ওঠে আরমান হকের শরীর। আসফিয়া তার দিকে তাকিয়ে বলে, কেঁপে উঠলে কেন? চলো বসবে।

মায়ের কথা শুনে বাবার হাত শক্ত করে চেপে ধরে আলপনা পা বাড়ায়। বাবাকে ডাইনিং টেবিলে বসিয়ে রেখে ছুটে যায় নিজের ঘরে। ঠাস করে দরজা বন্ধ করে।

আসফিয়া মৃদুস্বরে বলে, ওকে আর এখন ডাকা যাবে না। ও দরজা খুলবে না।

আরমান হক টেবিলের ওপর কনুই রেখে দুহাতে নিজের মাথা চেপে ধরে। আসফিয়া শব্দ করে চেয়ার টেনে বসে পড়ে, যেন নিজের ভার বহন করতে না পেরে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছে কোথাও। যার খোঁজ রাখা সম্ভব না। ছেড়ে দেওয়া দরকার ছিল, সেটাই ঘটেছে। আরমান হক মাথা থেকে হাত সরিয়ে আসফিয়ার দিকে তাকায়। বলে, পাঁচ বছর বয়সে অমিয় একবার বনের মধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল। তোমার মনে আছে?

—সে কী আমি ভুলতে পারি? ছেলেকে খুঁজে পাওয়ার আগে পর্যন্ত আমার মরণদশা হয়েছিল। সেবার আমরা বান্দরবানে বেড়াতে গিয়েছিলাম। খরগোশের পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে ছেলেটা ঢুকে গিয়েছিল বনের ভেতর। পাখি ধরার জন্য লাফালাফি করছিল বনের ভেতর। বুনোফুল ছিঁড়ে নিজের জামার পকেটে রেখেছিল। তারপর ফেরার পথ খুঁজে না পেয়ে চিৎকার করে কাঁদতে শুরু করেছিল।

—হ্যাঁ, সব কথা আমার মনে আছে। দূর থেকে ওর কান্না শুনে ছুটে এসেছিল কনথান মুরং। ওই নারী বনে শুকনো ডালপালা খুঁজছিল রান্নার জন্য। আমরা যখন অমিয়র কান্না শুনে এগোচ্ছিলাম, দেখলাম ওই নারী অমিয়কে কোলে নিয়ে আসছে। আমাদের দেখে চোখ গরম করে তাকিয়ে বলেছিল, ওকে বনে আসতে দিয়েছেন কেন? বুনো শূকর পেলে...। আমি ওই নারীকে কথা শেষ করতে দিইনি। বলেছিলাম, বোন গো, ক্ষমা করে দাও। ও যে কখন আমাদের কাছ থেকে সরে পড়েছে আমরা খেয়াল করিনি। ও চিৎকার করে বলেছিল, এখানে যে কয় দিন থাকবেন বাচ্চাকে খেয়াল করে রাখবেন। একটা বাচ্চা সোনার টুকরা। আহা রে সোনা। অমিয়কে আদর করে ও নিচে নামিয়ে দিলে অমিয় আবার ছুটে গিয়েছিল একটি প্রজাপতির দিকে। আমি ওকে ধরতে গেলে আমাকে বাধা দিয়ে বলেছিল, এখন আমরা আছি। ও প্রজাপতি ধরুক। ওহ, কী সুন্দর করে দৌড়াচ্ছে সোনামণি।

স্মৃতিচারণা করে থমকে যায় আসফিয়া।

—আজকেও কী ছেলেটা দৌড়াচ্ছে? আরমান হক প্রশ্নটি নিজেকেই করে ভ্রু কুঁচকে রাখে। আসফিয়া স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে, কেন ও দৌড়াবে?

—গুলির সামনে থেকে সরে যাওয়ার জন্য।

কিছুক্ষণের জন্য দুজনে স্তব্ধ হয়ে যায়। ছেলেটা গুলির সামনে থেকে পালাচ্ছে, এই ভাবনা থেকে নিজেদের বের করে আনার জন্য দুজনেই আবার স্মৃতিতে ফিরে যায়। ভেসে ওঠে অমিয়র পাঁচ বছরের সময়। বান্দরবানের পাহাড়। পাহাড়ের গাছগাছালি। পশুপাখি। কীটপতঙ্গ। ইস, কত বৈচিত্র্যের মাঝে এক অপূর্ব সময় কেটেছিল দুজনের। মনে আছে, কনথান মুরংয়ের কথা। কনথান সেদিন অমিয়কে পেয়ে খুব উচ্ছ্বসিত ছিল। কখনো ওকে বুকে জড়িয়েছে, কখনো ঘাড়ে উঠিয়েছে। বলেছে, ও একটা সোনার ছেলে।

অমিয় বলেছিল, আমাকে ওই পাখিটা ধরে দাও। ওই যে ওই যে কী সুন্দর পাখি!

—ওইটাকে ধরব না। তুমি আমার ছোট্ট মানুষ—পাখি। তোমার পাখা নেই তো কী হয়েছে, তোমার হাসি আছে। তোমার ছোটাছুটিই তো পাখির ডানা।

কনথানের কথা বুঝতে না পেরে ও বারবার বলছিল, পাখিটা ধরো। ধরো। আমি পাখিটা ঢাকায় নিয়ে যাব। ও আমার সঙ্গে খেলবে।

—ওই পাখি আয় আয়—কনথান সুর করে পাখিটাকে ডেকেছিল। পাখিটা উড়ে চলে গেলে অমিয়র গালে গাল ঘঁষে বলেছিল, পাখি ফুড়ুৎ।

—ফুড়ুৎ। ফুড়ুৎ—বলতে বলতে বনরাজি মুখর করেছিল অমিয়। আরমান হক ও আসফিয়ার মনে হয়, সেদিনের হাসির শব্দ এখন ওরা শুনতে পাচ্ছে। ও এখন মেজর অমিউল না। সেই শিশু যে বলেছিল, বাবা, কাক এত কালো কেন? বক এত সাদা কেন?

বাবা বলেছিল, তোমার কোন পাখি ভালো লাগে শোনা।

—শালিক পাখি। হাসতে হাসতে আবার বলেছিল, না, না, শালিক পাখি না। চড়ুই পাখি।

—তোকে টিয়া পাখি এনে দেব। তুই খাঁচায় পুষবি।

না, আমি ঘাঁচায় পাখি পুষব না। আমি পাখিকে উড়তে দেখতে চাই। উড়ে উড়ে গাছের মাথায় গিয়ে বসবে। আমি তখন ডেকে ডেকে বলব, পাখি পুষু ঘরে আয়—অমু সোনা ডেকে যায়।

দুজনে স্মৃতি রোমান্থনে ডুবে যায়। কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে থাকে, একসময় আসফিয়া খাতুন মাথা ঝাঁকিয়ে বলে, পিলখানার কাকগুলো কি গুলিতে ঝরে পড়েছে? পিলাখানার সবখানে কি কাকেরা মরে আছে?

আরমান হক কথা বলে না। এই মুহূর্তে তার সামনে কোনো দৃশ্য নেই। স্মৃতির অসাধারণ দৃশ্যের পরে এমন কিছু ভাবনা তার মাথায় আসে না। বিপন্ন শূন্যতায় তার মাথা ভরে আছে। ভাবে, পিলখানার ওপরে কত পাখি আছে, সেগুলো গুলি খেতে পারে। কিংবা গুলির শব্দের সঙ্গে সঙ্গে উড়ে চলে যেতে পারে। আবার থেমে যায় চিন্তার সূত্র। এখন শুধু অপেক্ষা করার সময়। আসল খবরটি জানার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গোনার সময়। এখন পর্যন্ত জানা হলো না ভেতরে কী হচ্ছে? কতটা মর্মঘাতী—

শোনা যায় শহরে কণ্ঠস্বর।

বিডিআর সপ্তাহের আয়োজন শুরু হয়েছে। প্রথম অনুষ্ঠান হবে দরবার হলে। বার্ষিক দরবার ছিল সেদিন। বিডিআরের মহাপরিচালকসহ দুই হাজার  ৫৬০ জন কর্মকর্তা ও জওয়ান ছিল। আজকে দরবার হল সবার জন্য উন্মুক্ত। মহাপরিচালকের ভাষণ যখন শেষের দিকে তখনই বিদ্রোহী একজন জওয়ান হলের পূর্ব-দক্ষিণে রান্নাঘরের দিক থেকে একজন সিপাই অস্ত্র নিয়ে মঞ্চে ঢোকে। ওর পেছনে আরেকজন রাইফেল নিয়ে মঞ্চে ঢোকে। প্রথম সিপাই মহাপরিচালকের দিকে অস্ত্র তাক করে। সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের কর্মকর্তারা তাকে আটক করলে শুরু হয় হৈচৈ। যে যার মতো দরবার হল থেকে বেরিয়ে যেতে থাকে।

হৈচৈ-চেঁচামেচির মাঝে বিডিআর সিপাইরা দরবার হল ঘিরে ফেলে। তারা এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। মহাপরিচালক ও অন্য কর্মকর্তারা দরবার হলের বিভিন্ন জায়গায় আড়াল নেওয়ার চেষ্টা করে। অনেকে বিভিন্ন দিকে সরে পড়ে। কিন্তু সরে যাওয়ার সুযোগ কম ছিল। বিদ্রোহীরা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কর্মকর্তাদের মেরে ফেলতে শুরু করে।

একই সঙ্গে তারা সব সিপাইয়ের বিদ্রোহে যোগ দেওয়ার জন্য ডাকতে থাকে। এই ডাকে সাড়া দিয়ে অনেকে অস্ত্রাগার ও ম্যাগাজিন থেকে অস্ত্র-গুলি নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। শুরু হয় ত্রাসের রাজত্ব। এই রাজত্বে রাজা হয়েছে অস্ত্রধারী সিপাইরা। তাদের নির্বিচার গুলিবর্ষণে নিহত হচ্ছে অনেকে। জ্বলছে আগুন। আগুনে ফেলা হচ্ছে কোনো কোনো লাশ। পুড়ে ছাই হয়ে গেলে মাটিচাপা দেওয়ার দায় থাকবে না।

—ওহ, থাম শহর।

আরমান হক চিৎকার করে ওঠে। থেমে যায় শহরের কণ্ঠস্বর। তখন দুজনেই শুনতে পায় কলিংবেল বাজছে। নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে আলপনা দরজা খুলতে যায়।

চলবে ►



মন্তব্য