kalerkantho


বিশ্বসাহিত্য

রিয়াজ মিলটন   

৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



বিশ্বসাহিত্য

পুরস্কারের চেক হাতে মুরাত ইসিক (এএফপি)

ডাচ্ সাহিত্যের পুরস্কার মুরাত ইসিকের

লিবরিস প্রাইজ নেদারল্যান্ডসের মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্য পুরস্কার। ম্যান বুকার পুরস্কারের ছাঁচে ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ পুরস্কার ১৯৯৪ সাল থেকে উপন্যাসের ওপর দেওয়া হচ্ছে। দেশটির বুকসেলারদের অ্যাসোসিয়েশন এর আয়োজক। ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্যের পুরস্কারটি এ বছর পেয়েছেন ৪০ বছর বয়সী তুর্কি বংশোদ্ভূত লেখক মুরাত ইসিক। তাঁর পুরস্কারজয়ী উপন্যাসটির নাম উয়িস ওনজিচত্বার (বি ইনভিজিবল)। আশির দশকে আমস্টারডামের কাছে ব্যায়েলমারমিয়ারে এক তুর্কি বালকের বেড়ে ওঠার কাহিনি এ উপন্যাস। উপন্যাসে মূলত নিজের কথাই বলেছেন মুরাত। কারণ তাঁর ছেলেবেলা কেটেছে ওই শহরটিতে। পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় মুরাত বলেন, ‘এ পুরস্কার আমি ব্যায়েলমারমিয়ারকে উৎসর্গ করলাম, উৎসর্গ করলাম আমার ছেলেবেলার প্রতিবেশীদের। জায়গাটি কখনো আনন্দময় ও প্রাণবন্ত, কখনো ধূসর ও নিষ্প্রাণ; কিন্তু এটাই আমার উপন্যাসের একটি প্রধান চরিত্র। আমার স্বপ্নের জায়গা, যা কখনোই আমি ত্যাগ করিনি।’ মুরাতের প্রথম উপন্যাস ভারলোরেন গ্রন্ড (লস্ট গ্রাউন্ড) প্রকাশিত হয় ২০১২ সালে। এতে তিনি তুরস্কের পূর্বাঞ্চলে বসবাসকারী তাঁর দাদা-দাদির মা-বাবার দৃষ্টিকোণ থেকে পারিবারিক ইতিহাস ও তুরস্কের সমাজব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরেছেন। বিচারকরা বলেন, ‘এ গল্পে লেখক আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি পরিবারের দাঁড়ানোর মতো মাটি খুঁজে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও গম্ভীর গল্প লিখেছেন।’ গত বছর লিবরিস প্রাইজ পান আলফ্রেড বারনি ‘দি ইন্টারপ্রেটর অব জাভা’ উপন্যাসের জন্য।

 

ভাহনি কাপিলদেও

ফরোয়ার্ড প্রাইজের সংক্ষিপ্ত তালিকা

ব্রিটেনের ফরোয়ার্ড প্রাইজের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে সম্প্রতি। বেস্ট কালেকশন, বেস্ট ফার্স্ট কালেকশন ও বেস্ট সিঙ্গল পোয়েম—এই তিন ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর ফরোয়ার্ড প্রাইজ দেওয়া হয়। ১০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের বেস্ট কালেকশন ক্যাটাগরির জন্য মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকার বইগুলো হচ্ছে—ভাহনি কাপিলদেওর ‘ভেনাস অ্যাজ আ বিয়ার’, জে ও মরগানের ‘অ্যাসিউর্যানসেস’, টবি মার্টিনেজ ডি লাস রিভাসের ‘ব্ল্যাক সান’, ড্যানেজ স্মিথের “ডোন’ট কল আস ডেথ” এবং ট্রেসি কে স্মিথের ‘ওয়েড ইন দ্য ওয়াটার’। পাঁচ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের বেস্ট ফার্স্ট কালেকশন ক্যাটাগরির ফেলিক্স ডেনিস প্রাইজের জন্য মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকার বইগুলো হচ্ছে—কাভেহ আকবরের ‘কলিং আ উলফ আ উলফ’, অ্যাবিগেইল প্যারির ‘জিংকস’, ফিবি পাওয়ারের ‘শ্রাইনস অব আপার অস্ট্রিয়া’, শিবানি রামলোচনের ‘এভরিওয়ান নোজ আই অ্যাম আ হোনটিং’ এবং রিচার্ড স্কটের ‘সোহো’। আর এক হাজার পাউন্ড অর্থমূল্যের বেস্ট সিঙ্গল পোয়েম ক্যাটাগরির জন্য মনোনীত কবিতাগুলো হচ্ছে—ফিওনা বেনসনের ‘রুইনস’, লিজ বেরির ‘দ্য রিপাবলিক অব মাদারহুড’, সুমিত্রা চক্রবর্তীর ‘অ্যান ডেথ ডিমান্ডস আ লেবার’, জোরি গ্রাহামের ‘ট্রি’ এবং উইল হ্যারিসের ‘সেই’। ১৯৯২ সালে প্রবর্তিত কবিতার এ পুরস্কার জয়ের তালিকায় ডন প্যাটারসন, শ্যন ও’ব্রিয়েনের মতো লেখকরা রয়েছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারে রয়াল ফেস্টিভাল সেন্টারে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।

 

ওনদােজ পুরস্কার পেলেন প্যাসকেল

প্যারিসে জন্ম নেওয়া ব্রিটিশ কবি প্যাসকেল পেটিট জিতে নিয়েছেন এ বছরের ওনদােজ পুরস্কার। তাঁর পুরস্কারজয়ী বইটির নাম ‘মামা অ্যামাজনিকা’। যুক্তরাজ্যের মর্যাদাপূর্ণ এ পুরস্কার প্রতিবছর দিয়ে থাকে রয়াল সোসাইটি অব লিটারেচার। এর অর্থমূল্য ১০ হাজার পাউন্ড। কোনো স্থানের প্রাণবন্ত চিত্র উঠে আসা নন-ফিকশন, ফিকশন ও কবিতার বই এ পুরস্কারের জন্য প্রযোজ্য। বিচারকদের মতে, এ বইয়ের কবিতায় প্যাসকেল হাসপাতালে অসুস্থ মায়ের সাইকিয়াট্রিক ওয়ার্ডের সঙ্গে আমাজন রেইন ফরেস্টের চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। এ পর্যন্ত প্যাসকেলের সাতটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। পেয়েছেন বেশ কয়েকটি পুরস্কার। চারটি বই মর্যাদাপূর্ণ টিএস এলিয়ট পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নেয়। এ বছর ওনদােজ পুরস্কারের জন্য মনোনীত সংক্ষিপ্ত তালিকার বইগুলো ছিল—কুশানাভা চৌধুরীর ‘দি এপিক সিটি : দ্য ওয়ার্ল্ড অন দ্য স্ট্রিটস অব ক্যালকাটা’, লুসি হিউজ-হ্যালেটের ‘পিকিউলিয়ার গ্রাউন্ড’, কাপকা কাসাবোভার ‘বর্ডার’, ফিওনা মোজলের উপন্যাস ‘এলমেট’, শিয়াওলু গুয়োর স্মৃতিকথা ‘ওয়ান্স আপন আ টাইম ইন দি ইস্ট’। এর মধ্যে ফিওনার বইটি বুকার পুরস্কারের জন্য মনোনীত বইয়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছে। এর আগে ওনদােজ পুরস্কার পেয়েছেন রাশিয়ার প্রেক্ষাপটে লেখা উপন্যাস “দ্য পিপল’স অ্যাক্ট অব লাভ”-এর জন্য জেমস মিক, স্মৃতিকথা ‘দ্য হেয়ার উইথ অ্যাম্বার আইজ’-এর জন্য এডমুন্ড ডি ওয়াল প্রমুখ।

 

 

 



মন্তব্য