kalerkantho


কী মজা! আইসক্রিম

আইসক্রিম ছোটদের ভীষণ পছন্দ। এদিকে গরমটাও পড়েছে বেশি। তাই রকমারি সব আইসক্রিমের গল্প শুনিয়ে তোমাদের প্রাণটা জুড়ানোর ব্যবস্থা করছেন অমর্ত্য গালিব চৌধুরী

১১ মে, ২০১৮ ০০:০০



কী মজা! আইসক্রিম

বিচিত্র স্বাদের আইসক্রিম

আইসক্রিম ফ্লেভারের কিন্তু রকমফের আছে অনেক। জেনে নেওয়া যাক এমনই কয়েকটি উদ্ভট ফ্লেভারের আইসক্রিমের কথা, যেগুলোর বর্ণনা শুনলে জিভে জল আসার আগে চমক লাগবে বেশি।

জাপানের খাবারদাবার একটু অন্য রকমের হয়। আর টোকিওর নামজা টাউন নামের অ্যামিউজমেন্ট পার্কের তো কথাই নেই। এখানে বিদঘুটে স্বাদের যেসব আইসক্রিম পাওয়া যায় সেগুলোর ফ্লেভারের কথা শুনলেও পিলে চমকে যাওয়ার কথা। ঘোড়ার কাঁচা মাংস, গরুর জিভ, লবণ, অক্টোপাস আর স্কুইড এমনই নানা কিছুর ফ্লেভার বা স্বাদযুক্ত আইসক্রিস মিলবে এখানে।

নিউ ইয়র্কের ম্যাক্স অ্যান্ড মিনা রেস্তোরাঁ চালু হয় ১৯৯৮ সালে। দুই ভাই, ব্রুস আর মাইক বেকার তাঁদের দাদার গোপন রেসিপির সাহায্যে আবিষ্কার করেছেন হাজার পাঁচেক আইসক্রিম ফ্লেভার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পিত্জা, ভুট্টা ও পেঁয়াজ ফ্লেভারের আইসক্রিম।

এদিকে ফরাসি আইসক্রিম কম্পানি ফিলিপে ফর চার মাস ধরে গবেষণা চালিয়ে ফোয়ি গ্রাস নামের এক অদ্ভুত ফ্লেভার আবিষ্কার করেছে। ২০০৮ সালে এই ফ্লেভারের প্রথম আইসক্রিম বানানো হয়। জানতে চাও কী আছে? ক্যাভিয়ার (অত্যন্ত দামি এক ধরনের মাছের ডিম), সরিষা এবং বিশেষ এক জাতের গাছের মূল। এই ফ্লেভার কিন্তু দারুণ জনপ্রিয়।

লবস্টার হচ্ছে বড় আকারের এক ধরনের সামুদ্রিক চিংড়ি। যুক্তরাষ্ট্রের মেইনে বেন অ্যান্ড বিলি চকোলেট এম্পোরিয়ামে পাওয়া যায় লবস্টার স্বাদের আইসক্রিম।

 

সবচেয়ে লম্বা আইসক্রিম

টেক্সাসের উলফপেন ক্রিকে কয়েক হাজার স্বেচ্ছাসেবক মিলে একটা কীর্তি করেছে। কী সেটা? পৃথিবীর সব থেকে লম্বা আইসক্রিম বানানোর রেকর্ড গড়েছে তারা। চার হাজার ৫৪৯ ফিট লম্বা এই আইসক্রিম দেখলে যে কারো চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে। ৫০০ গ্যালন ভ্যানিলা ফ্লেভারের আইসক্রিম, ৩০০ গ্যালন চকোলেট আর স্ট্রবেরি সিরাপ, দুই হাজার কৌটা হুইপড ক্রিম আর ২০ হাজার চেরি দিয়ে বানানো হয়েছে এই বিশাল দৈত্য!

গিনেস কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে এই আইসক্রিমকে তাদের রেকর্ড বুকে সব থেকে লম্বা আইসক্রিম হিসেবে লিপিবদ্ধ করে ফেলেছে। অনেক কষ্ট করে বানানো আইসক্রিমটি হাজার চারেক লোক মিলে আধঘণ্টার কম সময়ে সাবাড় করে দেয়।

 

আইসক্রিম উৎসব

গোটা পৃথিবীতে আইসক্রিম নিয়ে কত উৎসব হয় তার কোনো লেখাজোখা নেই। এদের মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেব এবার।

জেলাটো ফেস্টিভাল হয় ইতালিতে। এপ্রিলের ৩০ থেকে শুরু হয়ে চার মাস ইতালিজুড়েই এর কর্মকাণ্ড চলতে থাকে। সাধারণভাবে জেলাটো বলতেই বোঝায় ইতালিয়ান আইসক্রিম। ইতালিব্যাপী আইসক্রিমসংক্রান্ত নানা আয়োজনের ব্যবস্থা করে নামিদামি আইসক্রিম কম্পানিগুলো।

এদিকে অস্টিন আইসক্রিম ফেস্টিভাল হয় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে। অস্টিন ফেস্টিভাল বিখ্যাত এর বিপুল দর্শক সমাগমের জন্য। দেশি-বিদেশি বহু ব্র্যান্ডের আইসক্রিম এখানে পাওয়া যায় আর সেই সঙ্গে রয়েছে কনসার্ট ও আইসক্রিম খাওয়ার প্রতিযোগিতা।

অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের ইয়ারা ভ্যালি আইসক্রিম উৎসবও কিন্তু ভারি জনপ্রিয়। ১৪৪ ধরনের স্বাদের আইসক্রিম মেলে এখানে। দেশি-বিদেশি প্রচুর আইসক্রিমভক্ত ভিড় জমান এই উৎসবে।

এদিকে শিকাগো আইসক্রিম অ্যান্ড জেলাটো ফেস্টিভালও কম বিখ্যাত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের শিকাগো শহরের বিখ্যাত হওয়ার পেছনে অনেক কারণ আছে। এর মধ্যে এই আইসক্রিম ফেস্টিভালই কিন্তু বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৫টি আইসক্রিম কম্পানি এখানে প্রতিযোগিতায় নামে, দর্শকরা স্বাদ চেখে রায় দেন।

সবচেয়ে বেশি স্কুপ

ইতালির দিমিত্রি পানচিয়েরা নামের এক ব্যক্তির আইসক্রিমের প্রতি ভালোবাসা এতটাই বেশি যে একটা কোণে দুই-চারটা স্কুপ নিয়ে আটকে থাকেননি। একটি কোণের ওপর ১২১টি আইসক্রিমের স্কুপের ভারসাম্য রক্ষা করে গিনেস বুকে নাম তুলেছেন তিনি। মজার ঘটনা, এর আগে ১০৯টি স্কুপ কোণের ওপর বসানোর রেকর্ডটি ছিল তাঁরই। শুধু তা-ই নয়, তিনি বানিয়েছেন বিশাল সাইজের এক আইসক্রিম খাওয়ার চামচ। ছয় ফুট লম্বা আর এক ফুট চওড়া এই বিশাল চামচে আইসক্রিম খাওয়া কোনো স্বাভাবিক মানুষের কর্ম নয়। রীতিমতো ক্রেন দিয়ে চামচটিকে ব্যবহার করতে হয়। গিনেজ কর্তৃপক্ষ এটাকে সর্ববৃহৎ আইসক্রিম খাওয়ার চামচ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

দামি আইসক্রিম

দুনিয়াতে দামি আইসক্রিমের অভাব নেই। এমনই কয়েকটির সঙ্গে পরিচিত হব এখন।

নিউ ইয়র্ক সিটির সেরেন্দিপিটি-৩ রেস্তোরাঁয় পাবে ফ্রোজেন চকোলেট সানডি নামের আইসক্রিমটি। দাম ২৫ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ২০ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে গিনেস বুকেও নাম উঠেছে এর। পৃথিবীর সব থেকে দামি ২৮ প্রজাতির কোকা দিয়ে বানানো চকোলেট ব্যবহার করা হয়েছে এই আইসক্রিমে। আর এই অসাধারণ স্বাদের আইসক্রিমের ওপরে আছে ২৮ গ্রাম ভক্ষণযোগ্য সোনা! এতে থাকবে ট্রাফলও (খাবারের স্বাদ বাড়ানোর জন্য ব্যবহার করা এক জাতের ছত্রাক)। আইসক্রিম কিনলে সঙ্গে পাওয়া যাবে ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে বানানো একটা অলংকার এবং একটা সাদা হীরা।

এদিকে আমেরিকার শিকাগোর ল্যাং হাম হোটেলে মিলবে ভিক্টোরিয়া আইসক্রিম।

এক হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় ৮০ হাজার টাকা মূল্যের সুস্বাদু আইসক্রিমটি দেখলে যে কারো জিভে জল আসবে। ভ্যানিলা আর চকোলেট ক্রিমের পাশাপাশি থাকছে লবণাক্ত ক্যারামেল, ক্যারামেল মেশানো বাদাম, হুইপড ক্রিম আর ডার্ক চকোলেটের মিশ্রণ। আর সবটুকুর ওপরে ২৪ ক্যারেট সোনার গুঁড়া ছিটানো রয়েছে। লোভনীয় বৈকি!

নিউ ইয়র্ক সিটিতে পাবে মাওবসিন মেগা সানডি-বাগাটেলে আইসক্রিমটি। ভ্যানিলা আইসক্রিম আর হুইপড ক্রিমের মিশ্রণে বানানো

হয় এক হাজার ডলার মূল্যের এই আইসক্রিম। সঙ্গে থাকে চকোলেট

ট্রাফল ও ভক্ষণযোগ্য সোনা। এখানেই শেষ না। এই আইসক্রিমের সঙ্গে থাকবে ডার্ক চকোলেট ব্রাউনি। সব শেষে মিলবে ৫৯০ ডলারের একটা

হীরার আংটি।


মন্তব্য