logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৪৪
কোরবানির গরুর চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত খামারিরা
আসছে ভারত থেকেও

কোরবানির গরুর চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত খামারিরা

দেশে এখন প্রতিবছর এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি দেওয়া হয়। এর মধ্যে থাকে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ গরু। দেশি খামারিরা এর মধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ লাখের জোগান দিয়ে থাকে। ঘাটতিটা পূরণ হয় ভারত থেকে আসা গরু দিয়ে। তবে এ বছর ৪৫ লাখ গরুর চাহিদার প্রায় পুরোটাই দেশি গরু দিয়ে মেটানো যাবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

এর মধ্যে দুই-তিন বছর বন্ধ থাকার পর এবার ভারত থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে। বন্ধ করিডরগুলো খুলছে সীমান্তে। আর এই গরু আনাকে কেন্দ্র করে যাতে সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা না ঘটে সে জন্য রাখালদের তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, একসময় বাংলাদেশে কোরবানির পশু বিশেষ করে গরুর চাহিদা মেটাতে তাকিয়ে থাকতে হতো ভারতের দিকে। সেখান থেকে অর্ধেকের বেশি গরু আসত। কিন্তু দেশটিতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। গরু আসা প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কোরবানির সময় পশুর সংকটে পড়ে যায় দেশ। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশে গড়ে তোলা হয়েছে পাঁচ লাখের বেশি খামার। এগুলোই গত বছর গরুর চাহিদা মিটিয়েছে, এবারও সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে খামারগুলো। তবে দাম বেশ চড়া। এ পরিস্থিতিতে এ বছর ভারত থেকে গরু আসা শুরু হয়েছে।

বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন বলেছেন, ‘গরু আসার জন্য নতুন করিডর খুলতে বলা হয়েছে। সীমান্তে এমন অনেক করিডর আছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফও গরু পারাপারের ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয়। সাতক্ষীরা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, কুড়িগ্রামসহ কয়েকটি সীমান্ত দিয়ে একসময় প্রচুর গরু আসত। তবে কয়েক বছর ধরে তা না আসায় বেশ কিছু করিডর বন্ধ হয়ে যায়। তবে এবার নতুন করে করিডরগুলো প্রাণ পাচ্ছে। ভারত থেকে আসা প্রতিটি গরু ও মহিষের জন্য ৫০০ টাকা, দুম্বা বা ছাগলের জন্য ২০০ টাকা করে রাজস্ব দিতে হয়।

বিজিবির এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, এ বছর গরু আনতে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। তবে কেউ যাতে সীমান্ত অতিক্রম না করে সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার সীমান্ত এলাকায় একসময় বৈধ ও অবৈধ মিলিয়ে ৩০টির মতো করিডর বা কাটাল ছিল।  সেগুলোর বেশির ভাগই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে নতুন করে দুই-তিনটি করিডর চালু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত বছর বাংলাদেশে ভারত থেকে ১১ লাখ গরু আসে। চলতি বছর গত জুলাই পর্যন্ত চার লাখ ১৭ হাজার গরু এসেছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে গরুও তত বেশি আসছে।

এদিকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আইনুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশে প্রতিবছর এক কোটির কিছু বেশি পশু কোরবানি হয়ে থাকে। এবার দেশে এক কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার পশু উৎপাদন হয়েছে শুধু কোরবানিকে ঘিরে। এর মধ্যে রয়েছে গরু, মহিষ, ভেড়া ও ছাগল। দেশে পাঁচ লাখ ২২ হাজার খামার গড়ে উঠেছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভারতীয় গরু আমদানির সুযোগ কমিয়ে দেওয়াই ভালো। তা না হলে দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com