logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৪৪
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়
মাঠে না নেমে প্রতিক্রিয়া জানানোর কৌশল বিএনপির

মাঠে না নেমে প্রতিক্রিয়া জানানোর কৌশল বিএনপির

ফাইল ছবি

ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে রাজনৈতিকভাবে মাঠে নামতে চায় না বিএনপি। তবে ওই ইস্যুতে সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবেন দলটির নেতারা।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। কারণ এটি সর্বোচ্চ আদালতের সর্বসম্মত রায়।’ তাঁর মতে, এই রায় দেওয়ার এখতিয়ার তাদের আছে। তিনি বলেন, ‘সরকারি দল এ নিয়ে রাজনীতি করতে চায় করুক। তবে তাদের এই রাজনৈতিকীকরণের জবাব বিরোধী দল হিসেবে আমরা না দিয়ে থাকতে পারি না।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কালের কণ্ঠকে বলেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় নিয়ে কথা না বলাটাই ভালো। কিন্তু সরকারি দল যেভাবে মাঠে নেমেছে তাতে বিএনপির নীরব থাকা মুশকিল। তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে কোনো কর্মসূচি দেওয়া কিংবা বৈঠক ডাকার সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। কিন্তু সরকারি দল যেভাবে পরিস্থিতি  ঘোলা করছে তাতে প্রয়োজন হলে রাজনৈতিকভাবে তা মোকাবেলার কৌশল নিতে হতে পারে বিএনপিকে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ জানান, ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে দলীয় বা জোটগতভাবে কিছু করার চিন্তা-ভাবনা এখনো করা হয়নি। তা ছাড়া এ নিয়ে রাজনীতি করার ইচ্ছা বিএনপির নেই। তাঁর মতে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে সরকারি দল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু এতে কোনো লাভ হবে না। বরং সরকার যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চায় না—এতে তাই প্রমাণিত হবে। তাঁর মতে, সরকারি দলের নেতারা রায় সম্পর্কে যা খুশি তা-ই বলেন ‘নিজেদের গর্ত নিজেরা খুঁড়ছেন’।

ষোড়শ সংশোধনী রায়ের পর গত বৃহস্পতিবার গণভবনে দলের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক করেছে আওয়ামী লীগ। রায়কে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার জন্য আজ ধানমণ্ডির কার্যালয়ে ১৪ দলের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এ ছাড়া জেলায় জেলায় আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদেরও রায়ের দুর্বল দিক মানুষের কাছে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে। রায় নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে দু-একজন মন্ত্রী প্রধান বিচারপতির পদত্যাগও দাবি করেছেন।

যদিও রায় প্রকাশের পর মন্ত্রীদের বক্তব্যের প্রতিবাদসহ তিন দফা দাবিতে সারা দেশের জেলা বারগুলোতে তিন দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। তবে রায়ের পর বিএনপি দলগত এবং ২০ দল জোটগতভাবে এ পর্যন্ত কোনো বৈঠক করেনি। অবশ্য ২০ দলীয় জোটনেত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও দেশে নেই। চোখের চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে রয়েছেন।

তবে ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে উত্ফুল্ল বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। প্রতিদিনই তাঁরা এ ইস্যুতে আলোচনা করছেন, কথাও বলছেন। এতে একটি বিষয় উঠে এসেছে, বিচার বিভাগের রায় রাজনৈতিকভাবে বিএনপিকে কিছুটা সুবিধাজনক জায়গায় এনে দিয়েছে। যে কারণে বিচার বিভাগকে কিছুতেই বিতর্কিত করা যাবে না। বরং এ বিভাগের ভাবমূর্তি রক্ষায় কাজ করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, “সংসদ অকার্যকর ও সুশাসনসহ নানা ইস্যুতে অতীতে বিএনপি যেসব কথা বলেছে, আদালতের রায়ে সেগুলোই প্রতিফলিত হয়েছে। ‘সংসদ ডিজফাংশনাল’ এবং  স্বাধীনতা এবং স্বাধীনতার পরে ‘আমিত্ব’সহ নানা বিষয় আদালত তাঁদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন, যা সরকারি দলের গায়ে লেগেছে। ফলে তারা এখন এটিকে নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে। আমরা এর জবাব দিতে বাধ্য হবো, তবে রাজনীতি করব না”; যোগ করেন বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক।

এক প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ বলেন, সর্বোচ্চ আদালত হচ্ছে সংবিধানের অভিভাবক। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধানের আলোকেই বিচারপতিরা রায় দিয়েছেন। কিন্তু ওই রায় নিয়ে সরকারি দল ইচ্ছাকৃতভাবে যেভাবে একের পর এক বৈঠক করছে, আন্দোলনের ঘোষণা দিচ্ছে তাতে মনে হয় তারা বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়। এর পেছনে কোনো ষড়যন্ত্র বা রহস্য থাকতে পারে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com