logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৪৫
ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়
আওয়ামী লীগে ক্ষোভ-প্রতিবাদ বাড়ছে

আওয়ামী লীগে ক্ষোভ-প্রতিবাদ বাড়ছে

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বৈধতাসংক্রান্ত রায় নিয়ে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী ও পেশাজীবীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশব্যাপী তিন দিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের এক সমাবেশে বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বিএনপি ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু গতকাল দুপুরে ঝালকাঠিতে এক আলোচনাসভায় বলেন, সংসদ অবৈধ হলে প্রধান বিচারপতির নিয়োগও অবৈধ হবে। কারণ এই সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছে, রাষ্ট্রপতি আবার প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের প্রতিবাদে আজ রবিবার, আগামী মঙ্গল ও বুধবার দুপুর ১টায় সারা দেশে আইনজীবী সমিতিগুলোতে সমাবেশ ডেকেছে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব শেখ ফজলে নূর তাপস। সকাল সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। তার আগে বৈঠক করেন আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। বৈঠক ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল বাসেত মজুমদার, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।

আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে প্রধান বিচারপতি যেসব অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য এবং পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন, তা দেশের আইনজীবী সমাজকে সংক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত করেছে। রায়ে অপ্রাসঙ্গিকভাবে বঙ্গবন্ধু, জাতীয় সংসদ এবং অধস্তন আদালতের প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচন কমিশন নিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফজলে নূর তাপস বলেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে একটি দল ও মহল বিচারাঙ্গনকে বিতর্কিত করার পাঁয়তারা করছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।  মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে দেশবাসী দায়িত্বশীল আচরণ আশা করে। বঙ্গবন্ধুকে ইঙ্গিত করে তিনি যে বক্তব্য লিখেছেন তাতে আইনজীবীসহ সারা দেশের মানুষ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। বিষয়টি আমাদের পবিত্র সংবিধান দ্বারা স্বীকৃত ও মীমাংসিত। তিনি জাতীয় সংসদ সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন এবং এ প্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। সংসদকে হেয় করা মানেই গণতন্ত্রকে হেয় করা, জনগণকে হেয় করা। আমরা আইনজীবী অঙ্গন তার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘এমন পর্যবেক্ষণ অসাংবিধানিক ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে। ফলে এসব মতামত-পর্যবেক্ষণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা অবশ্যই প্রত্যাহার করতে হবে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘দেশের রাজনৈতিক অপশক্তিকে ইস্যু তৈরি করে দিতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। যারা দেশের স্বাধীনতাকে বিশ্বাস করে না, দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে চায়, সরকার ও বিচার বিভাগকে যারা মুখোমুখি দাঁড় করাতে চায়, বিচারাঙ্গনকে যারা অস্থিতিশীল করতে চায়, তাদের আইনজীবীরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে।’

‘যেন আদালত তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে’ : জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের সমাবেশে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ আনন্দে মেতে উঠেছেন যেন আদালত তাঁদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবেন। তিনি বলেন, ‘‘আপিল বিভাগের রায়ে ডিগবাজির চ্যাম্পিয়ন মওদুদ আহমদ আনন্দে মেতে উঠেছেন। এই মওদুদ সাহেব জিয়াউর রহমানের সরকার থেকে পদত্যাগ করেছিলেন ‘জিয়া ইংরেজি জানেন না’ এই বলে। সে কথা কি ভুলে গেছেন বিএনপির লোকেরা? বন্যাদুর্গত এলাকায় যাওয়ার সময় চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বেগম জিয়া (খালেদা জিয়া) যখন কুমিল্লা হাসপাতালে, তখন মওদুদ সাহেব তাঁকে হাসপাতালে রেখে জেনারেল এরশাদের সরকারে যোগ দিয়েছেন। এই মওদুদ সাহেব একবার বিএনপি, একবার জাতীয় পার্টি, আবার বিএনপি। কী করে তাঁর পরামর্শ নেন খালেদা জিয়া।’’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মওদুদ আহমদ অবৈধভাবে দখল করা বাড়ির মামলায় হেরে গেলে বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়; আবার খালেদা জিয়ার বাড়ির মামলা হেরে গেলেও বলেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যখন রায় দিল, তখন মওদুদ আহমদ বলছেন, বিচার বিভাগ স্বাধীন। এই হচ্ছে এ দলের অবস্থা।’

সংসদ অবৈধ হলে প্রধান বিচারপতির নিয়োগও অবৈধ হবে : আমাদের ঝালকাঠি প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে ঝালকাঠিতে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, ‘আজকে প্রধান বিচারপতি সংসদ নিয়ে নানা কথা বলছেন। বাংলাদেশ স্বাধীন না হলেও আওয়ামী লীগ এই দেশে মাথা উঁচু করে থাকত। কিন্তু দেশ স্বাধীন না হলে আপনি প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন না। তাই মনে রাখতে হবে সংসদ অবৈধ হলে প্রধান বিচারপতির নিয়োগও অবৈধ হবে। কারণ এই সংসদ রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেছে, রাষ্ট্রপতি আবার প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দিয়েছেন। তাই সংসদ অবৈধ হলে আপনার নিয়োগও অবৈধ, আপনি অবৈধ প্রধান বিচারপতি।’

শিল্পমন্ত্রী আরো বলেন, ‘এই দেশ যাতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারে এ জন্য বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে। সেই থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। কোনো অপশক্তিকে এই দেশের মানুষ প্রশ্রয় দেয় না। তাই সব ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।’

ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. হামিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার মো. জোবায়েদুর রহমান, পৌর মেয়র লিয়াকত আলী তালুকদার, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান প্রমুখ। পরে শিল্পমন্ত্রী যুব উন্নয়নের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪৩ জনকে ঋণের ২৩ লাখ ৩০ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com