logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:৫২
কোন্দলে নড়বড়ে বিএনপির দুর্গে সুদিন আওয়ামী লীগের

কোন্দলে নড়বড়ে বিএনপির দুর্গে সুদিন আওয়ামী লীগের

একসময়ের বিএনপির দুর্গ বলে খ্যাত মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আওয়ামী লীগের সুদিন। সংসদের বাইরে থাকা বিএনপিতে চলছে কোন্দল। আগামী নির্বাচনে আসন পুনরুদ্ধার করে নড়বড়ে এ দুর্গকে আবার মজবুত করতে পারবে কি না এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগেও কোন্দল আছে। সেটা নিরসনের চেষ্টা চলছে।

জেলায় জাতীয় পার্টি বা জামায়াতের তেমন একটা প্রভাব-প্রতিপত্তি নেই। তবে বিকল্প ধারার সভাপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর বাড়ি শ্রীনগরে হওয়ায় এখানে দলটি প্রার্থী দিতে পারে।

উল্লেখ্য, মুন্সীগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসন ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দখলে চলে যায়। স্বাধীনতার পর সেবারই প্রথম বিএনপির দুর্গে আঘাত হানে আওয়ামী লীগ। এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় আসনগুলো ধরে রাখা সহজ হয় দলটির পক্ষে। সে কারণে আগামী নির্বাচন এখানে দুই দলের জন্যই মর্যাদার লড়াই হয়ে উঠতে পারে।

ইতিমধ্যে সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। কেউ কেউ আসছেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। তবে পেশাদার রাজনীতিকরা সপ্তাহের পাঁচ-ছয় দিনই এলাকায় যাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সশরীরে চলছে প্রচার।

প্রসঙ্গত, মুন্সীগঞ্জে কোনো কোনো ক্ষেত্রে দলের চেয়ে ব্যক্তি বেশি পছন্দের হয়ে ওঠে সাধারণ ভোটারদের কাছে। আবার নির্বাচনের সময় ‘টাকার খেলা’ হয়ে থাকে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, তাঁরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। আওয়ামী লীগে কোনো কোন্দল নেই। কারণ জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো অনেক আগেই হয়ে গেছে। তবে গণসংযোগ ও প্রচার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এটাকে কোন্দল বলা যাবে না। গণসংযোগ করতে গেলে প্রার্থীদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকবেই।

জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, ‘কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মতেই আমরা কাজ করছি। দল নির্বাচনে গেলে আমরা অবশ্যই নির্বাচন করব। সে রকম প্রস্তুতিও আমাদের রয়েছে।’ দলে অভ্যন্তরীণ কোন্দল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিএনপি একটি বড় দল। জেলা-উপজেলা কমিটিগুলো করতে গেলে কারো মনঃপূত না হলে সে ক্ষুব্ধ হয়। তাই ছোটখাটো কোন্দল একটু থাকতেই পারে। তবে দল যখন প্রার্থী দেবে আমরা সব কোন্দল ভুলে গিয়ে তখন তার নির্বাচনই করব।’

মুন্সীগঞ্জ-১ (শ্রীনগর-সিরাজদিখান) আসন : এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সুকুমার রঞ্জন ঘোষ। নানা কারণে তাঁর জনপ্রিয়তা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দলে নিজের একক আধিপত্য বিস্তার, খুনের মামলার আসামিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে মঞ্চে তুলে সভা-সমাবেশ করা, কাছের লোকজনের ভূমি দখলবাজি ও দলের অন্য নেতার সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়া। গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে দলের অন্য এক নেতার অনুসারীদের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরদিন প্রতিবাদ সমাবেশে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ঢাকায় চলে আসেন চিকিৎসার জন্য। এর পর থেকে তাঁকে এলাকায় তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে পর পর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া সুকুমার রঞ্জন এবারও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। এলাকার জনপ্রিয়তা নিয়ে দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানতে সংসদ সদস্য সুকুমার রঞ্জনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ আসনে অনেক আগে থেকেই মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবীর। এই নেতা ইতিমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করে মনোনয়ন দৌড়ে এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। সপ্তাহের দুই-তিন দিন তিনি এখন এলাকায় জনসংযোগ করেন। এ ছাড়া এ আসনে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু মনোনয়ন পেতে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। গত রমজানের আগে তাঁকে এলাকায় তেমন একটা দেখা যায়নি। ক্রীড়া সংগঠক নুরুল ইসলাম চৌধুরী, সিরাজদিখান উপজেলার চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন আহম্মেদ ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানাও মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে।

এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন। বয়স হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তৃণমূলের নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগেরও অভাব রয়েছে। শ্রীনগর উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির একাংশের সভাপতি মমিন আলী এবার মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয়ও। এ আসনে দল তাঁকে মনোনয়ন দিলে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা কমিটি গঠন নিয়ে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে।

শারীরিক অসুস্থতার কারণে শাহ মোয়াজ্জেম হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব নয় বলে জানান তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘মোয়াজ্জেম সাহেব শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও দল মনোনয়ন দিলে তিনি অবশ্যই নির্বাচন করবেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর বাসায় এসে যোগাযোগ করে। তিনি অনেক পুরনো নেতা, তাই তাঁর বেশি জনসংযোগের প্রয়োজন নাই।’ সরকারি দল ও প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে আনোয়ার বলেন, ‘চাইলেই এখন জনসংযোগ করা সম্ভব হয় না। তাই এলাকায় একটু কম যাওয়া হয়। মোয়াজ্জেম সাহেবের সঙ্গে দলীয় কোন্দল নেই। তবে কমিটি করতে গেলে একটু মনোমালিন্য হতেই পারে। সেটা বড় কিছু না।’

এ আসনে বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সম্পাদক ফরহাদ হোসেনও মনোনয়ন পেতে ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গতবারও দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এ ছাড়া বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে এলাকায় তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। শিল্পপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ মো. আবদুল্লাহ ও ধীরেন কুদ্দুসের নামও শোনা যাচ্ছে। তবে হিসাবটা অন্য রকম হতে পারে সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এখানে নির্বাচনে অংশ নিলে। তবে সে রকম সম্ভাবনা নেই বলেই দলীয় সূত্রে আভাস পাওয়া গেছে। এখানে বিকল্প ধারা থেকে তাঁর ছেলে মাহী বি চৌধুরী প্রার্থী হবেন, সেটা অনেকটাই নিশ্চিত। জাতীয় পার্টি থেকে এ আসনে শেখ মো. সিরাজুল ইসলাম দলীয় একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করে চলেছেন।

মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন : পদ্মা সেতুর এক প্রান্ত এ আসনের লৌহজং উপজেলার মাওয়ায়। সে কারণে আসনটি অনেক গুরুত্ব বহন করে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছে। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। ১৯৯৬ সালে সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য হয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন তিনি। এর আগে ২০০১ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে প্রার্থী হয়ে বিএনপির মিজানুর রহমান সিনহার কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মিজানুর রহমান সিনহাকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালেও দলীয় মনোনয়ন পেয়ে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

দলের নেতাকর্মীদের বছরের পর বছর সময় দিয়ে চলেছেন এ নেত্রী। তৃণমূলে তাঁর অবস্থান সুদৃঢ়। সপ্তাহে পাঁচ-ছয় দিন এলাকায় থেকে দুই উপজেলায় কর্মকাণ্ড চালান তিনি। পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রক্রিয়ার শুরুর দিকে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সংসদ সদস্য এমিলি ভালো ভূমিকা পালন করেন। তিনি এবারও দল থেকে মনোনয়ন চাইবেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়, সংসদ সদস্য এমিলি লৌহজং ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগকে অনেকটা সাজিয়ে-গুছিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তাঁর সেই সাজানো বাগান ভেঙে দিতে চান অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনি শুক্র-শনিবার এলাকায় স্কুল-কলেজ ও মাদরাসায় বইসহ নগদ অর্থ বিতরণ করে চলেছেন। সম্প্রতি তিনি লৌহজং সরকারি কলেজে এক বই বিতরণী অনুষ্ঠানে আগামী সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। তবে এখনো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে তিনি তাঁর অবস্থান জোরালোভাবে তৈরি করতে পারেননি। গত শুক্রবার তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভায় উপস্থিত হলে কর্মীদের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। তিনি আওয়ামী লীগের কেউ না হওয়া সত্ত্বেও সভায় উপস্থিত হওয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে। এর আগে তিনি ১৫ আগস্ট উপলক্ষে দুই লাখ টাকা অনুদান দিতে চাইলেও উপজেলা আওয়ামী লীগ গ্রহণ করেনি বলে নেতাকর্মীরা জানায়।

নেতাকর্মীরা আরো জানায়, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাধারণ ভোটারদের কাছে এখনো পরিচিত নন। সে কারণে বিএনপি প্রার্থীর সঙ্গে তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে পেরে উঠতে পারবেন না। জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের কেউ নই, এটা সত্যি কথা নয়। আওয়ামী লীগ না করলে আমি কী করে ২০০৪-২০০৫ সালে দলের ব্যানারে বার কাউন্সিলের সভাপতি হলাম। ১৯৭৮-৭৯ সালে ওসমানী সাহেবের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করেছি, সিরাজুল ইসলাম খান ও  নজরুল ইসলাম খানের এমপি নির্বাচন করেছি। এর পরও কি আমাকে থানা বা ইউনিয়ন কমিটির সদস্য হতে হবে। আওয়ামী লীগের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় আমার বিরুদ্ধে কথা বলতে তিনজনকে সেট করা হয়েছিল। এটা সুস্থ রাজনীতির পরিচয় নয়।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ঢালী মোয়াজ্জেম হোসেন এ আসন থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. লুত্ফর রহমান, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির, টঙ্গিবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার কাজী ওয়াহিদ মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় কোন্দলের কারণে বিএনপির জন্য এ আসনটি এবার জটিলতা সৃষ্টি করবে। এ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান সিনহা এবারও মনোনয়ন চাইতে পারেন। কিন্তু তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতায় ক্ষুব্ধ অনেক নেতা। সম্প্রতি হয়ে যাওয়া জেলা বিএনপির নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদটি হারান আলী আজগর রিপন মল্লিক। আর এর পেছনে মিজানুর রহমান সিনহার হাত রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। ওই নেতাকে জেলা কমিটির সহসভাপতির পদ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আলী আজগর রিপন মল্লিকসহ অনেক নেতাই ক্ষুব্ধ। আলী আজগর এবার মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানায়। তারা জানায়, মনোনয়ন না পেলে সিনহাকে ফেল করাতে যা যা করতে হয় আলী আজগর তাই করবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

বিএনপির কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান সিনহার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ঘণ্টাখানেক পরে ফোন করতে বলেন। পরে ফোন করলে তিনি আর ধরেননি।

দীর্ঘদিন ধরে এ আসনে মনোনয়ন পেতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ। তিনিও এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। তবে মিজানুর রহমান সিনহা কোনো কারণে মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে নির্বাচন না করলে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ড. আসাদুজ্জামান রিপনের কথাও ভাবা হচ্ছে এখানে। এ ছাড়া সাবেক তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামের ছেলে প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বাবুও এ আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন।

জাতীয় পার্টির জেলা কমিটির সভাপতি মো. কুতুবুদ্দিন আহম্মেদ, কেন্দ্রীয় নেতা মো. নোমান মিয়া ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জামাল হোসেনও দলীয় মনোনয়নের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

মুন্সীগঞ্জ-৩ (মুন্সীগঞ্জ সদর-গজারিয়া) আসন : এ আসনে ২০০৮ সালে মনোনয়ন পান সাবেক প্রতিরক্ষাসচিব এম ইদ্রিস আলী। তিনি বিএনপির তথ্যমন্ত্রী এম শামসুল ইসলামকে পরাজিত করে তাক লাগিয়ে দেন। এম ইদ্রিস আলী পরিচ্ছন্ন মানুষ হিসেবে দলমত-নির্বিশেষে সবার গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেন। বিশেষ করে চর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সহিংসতার অবসান ঘটাতে বিরাট ভূমিকা রাখেন তিনি। তিনি সন্ত্রাসীদের প্রশ্রয় না দিয়ে জনগণের কাছে প্রিয় মানুষ হয়ে ওঠেন। অবশ্য এসব কারণে দলের অনেকের চক্ষুশূলে পরিণত হন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়ন পাননি। মনোনয়ন পান আওয়ামী লীগের তৎকালীন উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস। তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মনোনয়ন দৌড়ে এবার তিনি এগিয়ে আছেন। আছেন সাবেক সংসদ সদস্য এম ইদ্রিস আলী। দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ইদ্রিস আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবার মাঠে নেমেছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। আছেন তাঁর ভাই জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিস-উজ-জামান ও পৌর মেয়র মোহাম্মদ ফয়সাল বিপ্লব।

তবে শোনা যাচ্ছে, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনিস-উজ-জামানও মনোনয়ন চাইতে পারেন। যদি কোনো কারণে ইদ্রিস আলী বা আনিস-উজ-জামান নৌকার মনোনয়ন না পান, সে ক্ষেত্রে এখানে ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী দেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক উপমন্ত্রী ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল হাই। ২০০৮ সালে তাঁকে এ আসনে প্রার্থী না করে ঢাকার শ্যামপুরে দেওয়া হয়েছিল। মুন্সীগঞ্জ সদর আসনের চারবারের সংসদ সদস্য আবদুল হাই এবারও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া মনোনয়ন দৌড়ে ভালো অবস্থানে আছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন।

জাতীয় পার্টি থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল বাতেন ও আরিফুজ্জামান দিদারের নাম শোনা যাচ্ছে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com