logo
আপডেট : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২১:৩৩
ফেসবুক থেকে পাওয়া
এরই নাম প্রেম!

এরই নাম প্রেম!

শুধু একবার দেখলাম। চোখ-মুখজুড়ে তার অসম্ভব মায়া। হয়তো মায়ার জালে আটকা পড়ে গেলাম। দেখার সপ্তাহ খানেকও যায়নি। বিয়ে হলো। চেনা নেই, জানা নেই। একটুখানি গল্পও হয়নি। তার পরও কত আপন মনে হলো তাকে। বাসরঘরে চুপটি মেরে বসে আছে। তার ভেতরে কী হচ্ছিল জানা নেই। আমার হাত-পা কাপছিল থরথর করে। এসি ছাড়া ছিল। তার পরও ঘেমে যাচ্ছিলাম। পানি খেতে গিয়ে মগটা পড়ে গেল। সে তাকাল। মুচকি হাসি দিল। সিগারেট ধরাতে গেলাম। যদি এতে খানিকটা নার্ভাসনেস কমে! লাইটার টিপেই চলছি। ধরছে না। সে আবার আমার দিকে তাকাল। মুখে সেই মুচকি হাসি। খানিকটা আলো, খানিকটা অন্ধকার। চশমাটা পরতে গেলাম। কেন জানি চশমা হাত থেকে পড়ে গেল। ভেঙেচুড়ে একাকার। এরপর সে এগিয়ে এলো। হাত ধরে তার পাশে বসাল। ঠাণ্ডা হাত। পুলকিত হলাম। শরীরে শিহরণ বয়ে গেল। সে বলল, বোকা ছেলে। এত নার্ভাস কেন? আমি বাঘ না সিংহ। এরপর কিভাবে যে রাত পাড় হলো, বুঝতেই পারলাম না। মোটামুটি মাসখানেক ভালোই গেল। এরপর থেকেই শুরু হলো। কিছু হলেই হলো। বউ বলা শুরু করে, তোমাকে বিয়ে করে আমার জীবন শেষ হয়ে গেছে। তুমি আমার জীবনটা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছ। তোমার জন্য আমার লাইফটা নষ্ট হয়ে গেছে। কী ভাবছেন, তার এই কথাগুলো সত্যি? জীবন কি সত্যিই তার শেষ হয়ে গেছে?

অফিস থেকে আমি না আসা অবধি একটি ভাতও সে মুখে দেয় না। বিয়ের পাঁচ বছর হয়ে গেছে। পাঁচ বছরে মানে ১৮২৫টি রাত এবং দিন। ১৮২৫ রাতের সব কটি রাতই সে আমার সঙ্গে থেকেছে। আমায় ছেড়ে একটি রাতও থাকেনি। সে একা কখনো বাইরে খায় না? কারণ, আমাকে ছাড়া ভালো খাবার তার পেটে যায় না। গলায় নাকি আটকে থাকে। আমি যেসব খাবার পছন্দ করি। হঠাৎ করে সেসব রান্না করে। আমাকে জানতেই দেয় না। জন্মদিনের আগে বলে, তোমাকে এক টাকা দামের গিফটও দেব না। গিফট চাও কেন? গিফট কি গাছে ধরে? ১২টা এক মিনিটে পছন্দের নীল শার্ট গিফট সে-ই দেয়। পছন্দের খাবারও রান্না করে। লাভ বার্ড আমার খুব পছন্দ। কয়েক পেয়ার লাভ বার্ড পুষি। প্রায়ই সে বলে, পাখির খাঁচা খুলে দেব। তার ভাষায় পাখি হলো উটকো ঝামেলা। আমি বাসায় নেই। পাখির খাঁচায় খাবার সে-ই দেয়। সেদিন পাঁচতলা একটি খাঁচা দেখাল। বলল, বেশ সুন্দর তো। পাঁচতলা খাঁচা কেনার আইডিয়া সে-ই মাথায় ঢুকিয়ে দিল।

সেদিন বললাম, আমি মারা গেলে খুব দ্রুত দাফন করবে। একটুখানিও দেরি করবে না। সিরিয়াসভাবেই কথাটি বলা। শব্দ করে সে কেঁদে উঠল। সে কান্না আর থামছেই না। কাঁদছ কেন, জানতে চাইলাম না। সব কিছু জানতে নেই। এটাই কি ভালোবাসা? নিজের মধ্যে অন্যকে ধারণ করা। অনুভব করা। আসলে মেয়েদের মুখে যা থাকে, মনে তা থাকে না। মনে যা থাকে, মুখে তা বলে না। মেয়েদের আবিষ্কার করতে হয়। কজনই বা তা করে!

 

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান, মিরপুর-১২, ঢাকা।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com