logo
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:৪৫
আজ বিশ্বের চোখ নিরাপত্তা পরিষদে
সবাই উদ্বিগ্ন, করণীয় নিয়ে মতপার্থক্য
১৮ দিনে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয়

সবাই উদ্বিগ্ন, করণীয় নিয়ে মতপার্থক্য

সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মিয়ানমারে চলমান গণহত্যা ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের মধ্যে আজ বুধবার রাতে এ নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। ওই পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপ থেকে নির্বাচিত অস্থায়ী সদস্য সুইডেনের অনুরোধে এ বৈঠক হচ্ছে।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত ২৪ আগস্ট রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০টি চৌকিতে জঙ্গিগোষ্ঠী ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’র (আরসা) কথিত সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কয়েক হাজার রোহিঙ্গা হতাহত ও বাস্তুচ্যুত হয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে গত ১৮ দিনে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশসহ বেশ কিছু দেশ এরই মধ্যে ওই অভিযানকে সুস্পষ্ট গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করেছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) বলছে, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে ৬০ শতাংশই শিশু। বাংলাদেশে অবস্থানরত অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর জীবন ঝুঁকিতে আছে। তাদের বাঁচাতে জরুরি সহযোগিতা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার জায়িদ রাদ আল হুসেইন গত সোমবার দাবি করেছেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলমানদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া এবং ইউরোপের ২৮টি দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মুসলমান দেশগুলোর জোট ওআইসিসহ সারা বিশ্ব। তবু মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে কি না সেদিকে আজ দৃষ্টি থাকবে সবার। বৈঠকের ফলাফল আসতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগত নিধনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে আলোচনা হওয়া একটি বড় অগ্রগতি। এর আগেও গত বছরের নভেম্বর, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও আগস্ট মাসে রোহিঙ্গা পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা পরিষদে রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে। সেসব বৈঠকের প্রস্তাবক ছিল কখনো যুক্তরাষ্ট্র, কখনো বা যুক্তরাজ্য। তবে বৈঠকগুলোতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল চীন।

আজ অনুষ্ঠেয় বৈঠক প্রসঙ্গে জাতিসংঘে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রায়ক্রফ্ট গত সোমবার নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘আমি মনে করি, একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক হবে এবং এর ফলাফল প্রকাশ্যে আসবে।’ তিনি বলেন, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে যাচ্ছে। এটি নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের।

এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু মুসলমানদের ওপর চলমান বর্বরতায় শঙ্কিত হয়ে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে গত সপ্তাহে নিরাপত্তা পরিষদকে নজিরবিহীনভাবে একটি চিঠি দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গত ২৫ ও ২৮ আগস্ট সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তিনি গভীর উদ্বেগ জানিয়ে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

ঢাকার সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কূটনীতিকরা বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ যদি রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয় এবং সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারসহ সব পক্ষকে আহ্বান জানায়, তবে সেটিও হতে পারে একটি বড় অর্জন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেও দেড় সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে বিষয়টি দ্বিতীয়বারের মতো নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আলোচনার জন্য ওঠায় এর বৈশ্বিক গুরুত্ব ও ক্রমবর্ধমান প্রভাব প্রতিফলিত হয়েছে।

তবে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাবশালী অনেক দেশই মনে করে, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও অখণ্ডতা রক্ষায় মিয়ানমার সরকারের উদ্যোগ নেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব আছে। কিন্তু সেই অভিযানের কারণে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে জাতিগতভাবে নির্মূল বা নিধন করা নিয়েও অনেক দেশের গভীর উদ্বেগ আছে। তবে মূল মতপার্থক্য হতে পারে জাতিগত নিধনের অভিযোগের তদন্ত ও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রশ্নে। কারণ যে দেশগুলো প্রকাশ্যে মিয়ানমারের কথিত স্থিতিশীলতা রক্ষার উদ্যোগকে জোরালো সমর্থন দেওয়ার কথা বলছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই নিজ দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ আছে। যেমন—চীনের বিরুদ্ধে প্রায়ই সংখ্যালঘু উইঘুর মুসলমান সম্প্রদায়কে নিপীড়নের অভিযোগ উঠে থাকে।

এ ছাড়া সারা বিশ্বকে একই সঙ্গে দুটি বিষয়ের নিন্দা জানাতে হচ্ছে। একটি হলো, মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও অন্যটি সন্ত্রাস দমনের নামে বেসামরিক জনগণের ওপর মিয়ানমার বাহিনীর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ ও নির্মূল করার নীতি।

মিয়ানমারে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানায় বাংলাদেশও। ওই জঙ্গি-সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশ মিয়ানমারকে সহযোগিতারও প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু দৃশ্যত এখানে দুই দেশের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে।

গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত আনান কমিশনের প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, “উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি উত্তপ্ত রয়েছে। দৃশ্যত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার উদ্যোগকে ভেস্তে দিতে মুসলমান জঙ্গিরা বেশ কজন মুসলমান নেতাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন অংশে স্থিতিশীলতার জন্য ‘আরাকান আর্মি’ও বড় হুমকি হয়ে আছে।”

গত ৫ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মিয়ানমার সফরে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। ওই সফরের পরপরই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মোদি তাঁর মিয়ানমার সফরে রাখাইন রাজ্যের ‘ক্রমবর্ধমান জটিল পরিস্থিতিতে’ উদ্বেগ জানিয়েছেন। এমনকি ওই দেশটির নেতাদের সঙ্গে তাঁর আলোচনায় রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। উভয় পক্ষই মনে করে, কফি আনানের নেতৃত্বে রাখাইন রাজ্যবিষয়ক পরামর্শক কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

এরপর গত রবিবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতি ও ওই অঞ্চল থেকে বহির্মুখী ‘শরণার্থী’র ঢলে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে। সেই বিবৃতিতে অবিলম্বে সহিংসতা থামিয়ে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং ‘বেসামরিক জনগোষ্ঠী’র কল্যাণের দিকে দৃষ্টি দিয়ে সংযম ও পরিপক্বতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিতে মিয়ানমারের প্রতি তাগিদ রয়েছে। গত সোমবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা কালের কণ্ঠকে বলেন, রোহিঙ্গা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারত বাংলাদেশের পাশে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউস গত সোমবার রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে বলেছে, বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিয়ানমার সরকার ব্যর্থ হয়েছে। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনও রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নির্যাতনে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে।

ইইউ রাখাইনের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বিগ্ন। ইইউ রাখাইনে বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা বন্ধ এবং ত্রাণকর্মীদের সেখানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। এ ছাড়া ইইউর উচ্চপর্যায় থেকে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে তাদের উদ্বেগ ও প্রত্যাশার কথা জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স রাখাইন রাজ্য পরিস্থিতিতে সরব রয়েছে। যুক্তরাজ্য মনে করে, সহিংসতা এখনই বন্ধ হতে হবে। ফ্রান্স রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের তাগিদ দিয়েছে। ঢাকায় ফ্রান্সের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সোফি অবের গতকাল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহিরয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠকে রাখাইনের বর্বরতা ‘নিধনযজ্ঞ’ বলে অভিহিত করেছেন।

আরসা অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিলেও মিয়ানমার বলেছে, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। সরকার নাগরিকসহ সবার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। মিয়ানমারের দাবি, তাদের পক্ষে আছে চীন ও রাশিয়া। তাই নিরাপত্তা পরিষদে তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাবই এগোবে না।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থামাতে সম্ভাব্য সব ধরনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন। তবে রাশিয়া মনে করে, মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়ালে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকায় কূটনৈতিক ব্রিফিংয়ের সময় চীনা প্রতিনিধি কথা দিয়েছেন, সংকট সমাধানে দেশটি বাংলাদেশের পাশে আছে। তবে এ পাশে থাকার ধরনটি কেমন হবে তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ আছে। চীন মনে করে, সন্ত্রাসী হামলার পটভূমিতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার অধিকার মিয়ানমারের আছে।

বিবিসি জানায়, গতকাল পেইচিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়টি আবার স্পষ্ট করা হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গেং শুয়াং বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের জাতীয় উন্নয়নের জন্য শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার যে চেষ্টা করছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তার পাশে থাকা।

বিবিসি মনে করে, চীন মিয়ানমারের পক্ষে এই বিবৃতি দিয়েছে যাতে আজ নিরাপত্তা পরিষদে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো নিন্দা প্রস্তাব আনা না যায়।

জাতিসংঘের কূটনীতিকদের উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, রোহিঙ্গা সংকটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কোনো মাথা গলাক, সেটা চীন চায় না। একইভাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো প্রস্তাব উঠলে রাশিয়াও তাতে কতটা সমর্থন দেবে তা নিয়েও সংশয় আছে। 

ঢাকার কূটনীতিকরা বলেছেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের বোঝা বাংলাদেশের ওপর চাপার পর ঢাকা মস্কো ও পেইচিংকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝানোর চেষ্টা করছে। বাংলাদেশ মনে করে, মিয়ানমার সরকারের শান্তি, শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও রাষ্ট্রের অখণ্ডতা বজায় রাখার পূর্ণ অধিকার আছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা সে অধিকার প্রয়োগ করার নামে নিজেদের লাখ লাখ লোককে বাংলাদেশে ঠেলে দেবে। বাংলাদেশ মিয়ানমারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। কিন্তু এর আগে মিয়ানমারকে গণহত্যা থামাতে হবে। কারণ মিয়ানমারের গণহত্যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশে। দেশে মিয়ানমারের রোহিঙ্গার সংখ্যা ইতিমধ্যে আট লাখ ছাড়িয়েছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ ঢাকায় সব বিদেশি রাষ্ট্রদূত বা মিশনপ্রধানদের কক্সবাজারে নিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে মিয়ানমারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমান গত সোমবার নেপিডোতে মিয়ানমারের জাতীয় পরামর্শক দপ্তর বিষয়ক মন্ত্রী ইউ কিয়াও তিন্ত সুয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ভয়েস অব আমেরিকার বার্মিজ সংস্করণের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রদূত মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা ঢল, রাখাইনের স্থিতিশীলতা বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন। গতকালও তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, ওআইসি রোহিঙ্গা নিধন থামাতে ব্যবস্থা নিতে জাতিসংঘ ও ইইউর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। ওআইসি মনে করে, মিয়ানমার ধারাবাহিকভাবে যে বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। বাংলাদেশ তার কূটনৈতিক কাঠামো ব্যবহার করে জাতিসংঘ, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, ফ্রান্সসহ প্রায় সারা বিশ্বকে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু মিয়ানমারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া প্রসঙ্গে খোদ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোতেই মতপার্থক্য আছে। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দেওয়ার ব্যাপারে যতটা আগ্রহী এ সমস্যা সমাধানে মিয়ানমারকে চাপ দিতে বা আসিয়ানে বিষয়টি তুলতে ততটা আগ্রহী নয়। আগামী সপ্তাহে ম্যানিলায় অনুষ্ঠেয় আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর আইন প্রণেতাদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার প্রস্তাব মিয়ানমারের আপত্তিতে ইতিমধ্যে বাদ পড়েছে।

জানা গেছে, অং সান সু চি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বৈঠকে যাচ্ছেন না। তাঁর পরিবর্তে সেখানে যাবেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ভান থিও। তিনিই সেখানে মিয়ানমার পরিস্থিতিতে বক্তব্য দেবেন। সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ রোহিঙ্গাদের ওপর জাতিগত নিধনের কথা তুলে ধরবে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com