logo
আপডেট : ১২ জানুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৩৮
নাখালপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা
গোয়েন্দা নজরদারি আরো বাড়াতে হবে

নাখালপাড়ায় জঙ্গি আস্তানা

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অব্যাহত তৎপরতার কারণে জঙ্গিরা কিছুটা দুর্বল হলেও তাদের তৎপরতা থেমে যায়নি। তারই প্রমাণ পাওয়া গেল গতকাল শুক্রবার নাখালপাড়ায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাত্র কয়েক শ গজ দূরের একটি বাড়িতে পাওয়া গেছে জঙ্গি আস্তানা। গোপন খবরের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেললে জঙ্গিরা গ্রেনেড ছুড়ে মারে। এতে র‌্যাবের দুই সদস্য আহত হন। পরে র‌্যাব সদস্যদের সঙ্গে গোলাগুলিতে তিন জঙ্গি নিহত হয়। জানা গেছে, রুবি ভিলা নামের এই বাড়ির পাঁচতলা থেকে তিনটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস, চারটি পাওয়ার জেল ও দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তিনটি সুইসাইডাল ভেস্ট পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশপাশের এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই অনেক বেশি গোয়েন্দা নজরদারি থাকার কথা। তার পরও মাত্র কয়েক শ গজ দূরের কোনো বাড়িতে জঙ্গি আস্তানা গড়ে ওঠার খবরটি আমাদের রীতিমতো বিস্মিত করেছে।

জঙ্গিরা অনেকটা মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা বড় ধরনের টার্গেটে হামলার চেষ্টা করছে। আর সেই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন শীর্ষে। ইতিমধ্যে ধরা পড়া একাধিক জঙ্গির জবানিতে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। এর আগে টাঙ্গাইলের এক জঙ্গি আস্তানা থেকে ড্রোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা এ ধরনের হামলায় ব্যবহার করার চিন্তা ছিল জঙ্গিদের। গত আগস্টে রাজধানীর পান্থপথের একটি হোটেলে অভিযানের সময় এক জঙ্গি আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে হোটেল কক্ষের দেয়াল উড়ে গিয়ে রাস্তায় পড়ে। জানা যায়, জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে হামলার পরিকল্পনা থেকেই জঙ্গিরা সেখানে অবস্থান নিয়েছিল। শোক দিবসে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক নেতানেত্রীই যোগ দিয়ে থাকেন। এসব আলামত থেকেও ধারণা করা যায়, জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করার পরিকল্পনা করছে। তা না হলে ব্যাপক গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে জানা সত্ত্বেও জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এত কাছে এসে আস্তানা গাড়বে কেন?

একের পর এক জঙ্গি হামলার পর উন্নত দেশগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অনেক জোরদার করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে জঙ্গিদের তৎপরতা দমন করা হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই নিরাপত্তাব্যবস্থায় ফাঁকফোকর রয়েছে এমন অনুন্নত ও দুর্বল দেশগুলোতেই জঙ্গিরা ঝুঁকবে বেশি। বাংলাদেশেও তাদের তৎপরতা বাড়ানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি দুর্বল হয়ে পড়া জঙ্গি সংগঠনগুলোও দেশের ভেতরের ও বাইরের সহায়তায় নতুন করে মাথা তোলার চেষ্টা করতে পারে। তাই দেশের জঙ্গিবিরোধী অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরো শক্তিশালী করার কোনো বিকল্প নেই। জানা যায়, নাখালপাড়ার সেই বাড়ির পাঁচতলার ফ্ল্যাটটিতে ছয়-সাতজন মেস বানিয়ে বাস করত। বাড়ির মালিক কি তাদের সবার নাম-পরিচয় নিশ্চিত হয়ে তাদের ভাড়া দিয়েছিল? বিকেল পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশও নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেনি। দুটি পরিচয়পত্র পাওয়া গেলেও সেগুলো সঠিক কি না জানা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছাকাছি থাকা বাড়িতে এভাবে জঙ্গিদের আস্তানা গড়ে তোলা নিরাপত্তাব্যবস্থার প্রতি একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। অবিলম্বে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com