logo
আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ২৩:৫১
বুফনের মুখোমুখি কেইন

বুফনের মুখোমুখি কেইন

গ্রুপ পর্বে রিয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে এসেছে তারা। কিন্তু নকআউট ম্যাচ তো ভিন্ন। সেখানে রিয়ালের মতো রাজাধিরাজ প্রতিপক্ষ না হলেও দুশ্চিন্তার ভাঁজ থাকবে কপালে। আর এ তো জুভেন্টাস। ইউরোপ-রাজের সবচেয়ে বড় হুমকি গত কয়েক বছর ধরে। টটেনহাম হটস্পারের জন্য চ্যাম্পিয়নস লিগ শেষ ষোলোর এই দ্বৈরথটাই তাই সবচেয়ে বড়। দুই লেগের কঠিনতমটি আজই, জুভেন্টাসের মাঠে। যেখানে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় হারে না তারা গত ২৬ ম্যাচ।

হ্যারি কেইনকে নিয়ে ব্রিটিশ মিডিয়ায় বন্দনা কখনো কখনো মেসি, রোনালদোকেও ছাড়িয়ে যায়। ইংলিশ লিগে যেভাবে গোলের ফুলঝুরি ছোটাচ্ছেন তাতে তাঁর হয়ে কথা বলার লোকও কম নয়। তবে কেইনের আসল পরীক্ষাটা এখন এই ইউরোপিয়ান আসরে। দল হিসেবে স্পারসের সর্বোচ্চ সাফল্য সেই ১৯৬২-তে সেমিফাইনাল খেলা। কেইনের পরীক্ষাটা এতেও পরিষ্কার। ওদিকে জুভেন্টাস অন্য রকম এক প্রেক্ষাপটে আজ শেষ ষোলোর লড়াইয়ে নামছে। এসি মিলান, ইন্টার মিলানের ক্ষয়িষ্ণু সময়ে গত অর্ধযুগেরও বেশি সময় তারা ইতালিয়ান ফুটবলের মুখ হয়ে আছে। এবার ইতালির বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে তারা আবার নতুন করে নামছে ইউরোপিয়ান লড়াইয়ে। এ বছর সিরি ‘এ’তে একক আধিপত্যটাও তাদের নেই। নাপোলির সঙ্গে জোর লড়াই চলছে শীর্ষস্থানের জন্য। ম্যাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি দায়িত্ব নেওয়ার পর গত তিন মৌসুমে দুইবার চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে তুলেছেন দলকে। ২০১৫-তে বার্সেলোনার পর গত বছর রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও স্বপ্নভঙ্গের পর এই ইতালিয়ান রণে ভঙ্গ দেবেন কি না, এমনটাও ভাবতে শুরু করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত তা তিনি করেননি। সেই ১৯৯৬ সালে শেষ ট্রফি জেতে জুভেন্টাস। ২২ বছরের ধুলো তার গায়ে। নতুন একটি ট্রফির জন্য আলেগ্রি তাই আবারও লড়াইয়ে।

এই লেগে থাকাটা তাঁর স্বভাবেই আছে, ‘কোচিং করানো আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দময় কাজ। খেলোয়াড়দের আরো ভালো, আরো তীক্ষ করে তুলতে আমার ক্লান্তি নেই। আর আমি জানি, এখনো আমার দেওয়ার আছে অনেক।’ আলেগ্রির জুভেন্টাস প্রতিবারই নতুন উদ্যমে নতুন লড়াইয়ে নামে। আগেরবার যে বার্সেলোনাকে ধুলোয় মিশিয়ে তারা ফাইনালে, এবার গ্রুপ পর্বে সেই বার্সার কাছে তারা হেরেছে, রানার্স-আপ হয়ে উঠেছে শেষ ষোলোয়। নকআউট পর্বের হিসাব-নিকাশটা অন্য রকম বলেই টটেনহামের রিয়ালকে হারানো বা জুভেন্টাসের এই বার্সার কাছে হার আজকের ম্যাচের আগে গুরুত্ব পাচ্ছে না। কেইন নিজেও এই ম্যাচের ভার জানেন। ইংলিশ ফরোয়ার্ডের কথায়ও পরিষ্কার—তিনি তৈরি, ‘অনেক বড় ম্যাচ এটি। কিন্তু একজন খেলোয়াড় হিসেবে এমন ম্যাচের অপেক্ষাই তো করি সব সময়। সেরাদের বিপক্ষেই না নিজেকে প্রমাণের সুযোগ।’ কোচ মউরিসিও পচেত্তিনোর বিশ্বাস কেইন তাঁকে নিরাশ করবে না, ‘অনেকেই বলেন আমি কেইনকে উদ্দীপ্ত করি। আমি বলি আমি বিশ্বের অন্যতম সেরাকে নিয়ে কাজ করি। সেই আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ।’

শেষ ম্যাচেও তিনি পার্থক্য গড়ে দিয়েছে আর্সেনালের বিপক্ষে। আজ জুভ দেয়াল ভাঙার চ্যালেঞ্জ তাঁর সামনে। শেষ ষোলো ম্যাচে যাঁরা মাত্র এক গোল হজম করেছে। বিশ্বস্ত ডিফেন্স লাইনের পর জিয়ানলুইজি বফুনের বিশ্বস্ত হাত দুটিকেও হারাতে হবে ইউরোপ সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখা কেইনকে। প্রাক-মৌসুমে দুই দলের দেখা হলেও ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে তারা। ৪০ বছর বয়সী বুফনের সঙ্গে ২৪ বছরের কেইনের লড়াইয়ের মঞ্চ তো প্রস্তুত। বিশ্বসেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখা পাউলো দিবালাকেও ভুলে গেলে চলবে না, মৌসুমে ২২ গোল করা গনসালো হিগুয়েইনও আছেন পার্থক্য গড়ে দিতে।

ওদিকে আজ বাসেলের মাঠে শেষ ষোলোর প্রথম লেগ খেলবে ইংলিশ লিগে উড়তে থাকা ম্যানচেস্টার সিটি। ইউরোপে প্রথম দেখা হচ্ছে তাদেরও। সুইস প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ফেভারিট পেপ গার্দিওলার দলই। ২০০৮-০৯ মৌসুমে বার্সেলোনাকে ট্রেবল জেতানোর পথে বাসেলে ৫-০ গোলে জিতেছিলেন স্প্যানিয়ার্ড কোচ। এবার ম্যানসিটির হয়ে এএফএ কাপ, লিগ কাপসহ শিরোপা চতুষ্টয়ে চোখ তাঁর। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ সেরা হয়েই এবার তারা শেষ ষোলোয়। বাসেল নিজেদের গ্রুপে রানার্স আপ হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পেছনে থেকে। নিজেদের মাঠেই ইংলিশ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তাদের তাই কঠিন পরীক্ষা। এএফপি

 

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com