logo
আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০৫
আসল বিজয়ী গোল্ড কোস্ট

আসল বিজয়ী গোল্ড কোস্ট

ভাঙল মিলনমেলা : গতকাল জমকালো আয়োজনে শেষ হয়েছে কমনওয়েলথ গেমসের এবারের আয়োজন। আলো ঝলমলে সমাপনী অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছিল উসাইন বোল্টের উপস্থিতি। ডিজে হয়ে মাতিয়েছেন অলিম্পিকে আট সোনাজয়ী এই কিংবদন্তি। ছবি : এএফপি

একটি ছোট শহর বড় হয়ে গেছে হুট করে। বিশ্বে তার পরিচয়টা সিডনি কিংবা মেলবোর্নের মতো ছিল না। কিন্তু এখন হয়ে গেল, এক কমনওয়েলথ গেমসের সৌজন্যে ছোট আয়তনের শহরটি তার আকর্ষণীয় চরিত্র নিয়ে বিশাল জায়গা করে নিয়েছে অ্যাথলেটদের মনে। এই স্মৃতি নিয়ে সবাই গোল্ড কোস্টকে বিদায় দিয়ে নিজের শহরের পথ ধরছে।

এই শহরটা ঠিক আমাদের কক্সবাজারের মতো। তার বড় সম্পদ অসাধারণ এক সমুদ্রসৈকত। তার টানেই মানুষ এই শহরে হাজির হয়। সারফার্স প্যারাডাইসে জীবনকে উপভোগ করার কী দারুণ ব্যবস্থা। তাই উসাইন বোল্ট গোল্ড কোস্টে পা রেখেই প্রথম রাত কাটিয়েছেন এই সৈকতে। অন্য অ্যাথলেটরাও একবার হলে এর সৌন্দর্য উপভোগ করে গেছেন। সঙ্গে গেমসের আয়োজন মিলিয়ে গোল্ড কোস্ট তাঁদের খুব কাছের হয়ে উঠেছিল কিছুদিনের জন্য। তাই ফিরে যাওয়ার সময় অনেকে মন খারাপ করে টুইট করছে। বাংলাদেশও এই শহরকে মনে রাখবে বিশেষভাবে। ২৮ বছর পর এখানে লাল-সবুজের দল জিতেছে দুটি পদক, দুটি রুপা জেতেন আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শাকিল আহমেদ। সেই ১৯৯০ সালে অকল্যান্ড কমনওয়েলথ গেমসেই দুটি পদক উপহার দিয়েছিল এই শ্যুটিংই। এত বছর পর সেই শ্যুটিংই আবার রাঙিয়েছে। তবে রং ছড়াতে পারত আরো, শ্যুটার জাকিয়া সুলতানা যদি ব্রোঞ্জের কাছাকাছি গিয়ে গুলিয়ে না ফেলতেন। সেটা হলে গোল্ড কোস্ট হতো বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে সুফলা।

তবে পাঁচটি দেশের জন্য তো বড় সুলক্ষণা হয়ে থাকবে এই শহর। ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, কুক আইল্যান্ড, ভানুয়াতু ও সলোমন আইল্যান্ড প্রথমবারের মতো পদক জিতেছে কমনওয়েলথ গেমসে। কায়রন ম্যাকমাস্টার ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে শ্রেষ্ঠত্বের সোনা উপহার দিয়েছেন ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডকে। দ্বীপের মানুষগুলো এই জয় দারুণ উপভোগ করলেও ম্যাকমাস্টারের কাছে স্বর্ণপদকটি যুগপৎ আনন্দ-বেদনার উপলক্ষ, ‘এই গর্বের দিনে আমার মেন্টর নেই। জয়টা দুর্দান্ত উপভোগ করতেন তিনি। হয়তো ওপর থেকে দেখছেন তিনি।’ এই স্প্রিন্টারের কারিগর কোচ হাভিয়ার স্যামুয়েলসের জীবন কেড়ে নিয়েছে হারিকেন ইরমা। তাই সোনা জেতার পর এই কোচের কথা মনে করেই মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল ম্যাকমাস্টারের। বাকি চার দেশের পদকের পেছনে ওরকম ট্র্যাজেডি নেই, আছে শুধু গৌরব আর আনন্দ।

পদকের গৌরব অস্ট্রেলিয়ারই বেশি। ৮০টি সোনা, ৫৯টি রুপা ও ৫৯টি ব্রোঞ্জসহ ১৯৮টি পদক জিতে তারা আছে শীর্ষে। শুধু সাঁতারে নয়, শ্যুটিংয়ের মতো আরো কয়েকটি ডিসিপ্লিনে তারা সাফল্য পেয়েছে। ইংল্যান্ড ৪৫টি সোনা, ৪৫টি রুপা ও ৪৬টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১৩৬টি পদক জিতে হয়েছে দ্বিতীয়। বিস্ময়কর উন্নতি করেছে ভারত। এক লাফে পঞ্চম থেকে উঠে গেছে তৃতীয় স্থানে। গতবার গ্লাসগো গেমসে মাত্র ১৫টি সোনা জিতেছিল তারা। এবার সেই জায়গায় ২৬টি সোনা, ২০টি রুপা ও ২০টি ব্রোঞ্জসহ ৬৬টি পদক জিতে তারা তৃতীয় হয়ে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনকে নিয়ে গেছে নতুন এক উচ্চতায়। এর আগে অবশ্য ২০১০ সালে দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসে দ্বিতীয় হয়েছিল ৩৮টি স্বর্ণপদক জিতে। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে দেখা গেল ভারতীয় ক্রীড়ার বিস্ময়কর উল্লম্ফন!

গোল্ড কোস্টের মেয়র টম তিতের গর্ব তাঁর শহরকে নিয়ে, ‘এই ভূমির যারা আদি বাসিন্দা তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধা জানাই। একইভাবে অতীত ও এখনকার মানুষদেরও আমি কৃতজ্ঞতা জানাই। আমাদের কাছে সবাই সমান। প্রথমবারের মতো এ রকম এক আঞ্চলিক শহরে সাফল্যের সঙ্গে এত বড় গেমস আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ একটা ছোট্ট শহরে এত বড় আয়োজন করা, ছয় হাজার ছয় শ অ্যাথলেটের মেলা বসানো এবং সব প্রয়োজন মিটিয়ে সাফল্যের সঙ্গে শেষ করা চাট্টিখানি কথা নয়। কোনো ঝামেলা ছাড়া গেমস শেষ করতে পারার সাফল্য নয়, দর্শক-সমর্থকের আগ্রহে আসরটি জমে না উঠলে মাঠে মারা যেত এত বড় আয়োজন। সেটা হতে দেয়নি অস্ট্রেলিয়ান দর্শকরা। লোকে লোকারণ্য অপটাসের সুইমিং পুল আর অ্যাথলেটিকসের কারারা স্টেডিয়াম আসলে মনে রাখার মতোই স্মৃতি। সবাইকে হাততালি দিয়ে উৎসাহ দেওয়ার পর কুর্নিশ করেছে বিজয়ীকে। বিজয়ীদের স্মৃতিতেও অম্লান থাকবে এই শহর। তাই আসল বিজয়ী গোল্ড কোস্ট।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com