logo
আপডেট : ১৬ এপ্রিল, ২০১৮ ১১:৫৪
সারা বিশ্বে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে

সারা বিশ্বে রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে

ছবি অনলাইন

বিশ্বের প্রায় দেশেই রমজান এলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যায়, স্বস্তিতে থাকে ভোক্তারা। আর আমাদের দেশে এর পুরো উল্টো চিত্র। রমজান এলেই পাঁচ থেকে ছয়টি পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে চলে যায়। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও সিন্ডিকেট করে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয় এসব পণ্যের দাম। এ জন্য কিছু অসাধু ব্যবসায়ী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে করেন এক আলোচনায় অংশ নেওয়া বক্তারা।

গতকাল রবিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ‘রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবসায়ীদের আলোচনাসভা’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান। ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জিয়া রহমান।

বক্তারা বলেন, রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকার আশ্বাস দিলেও তা ব্যর্থ হয়। ফলে কোনো কোনো সময় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীকে পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করতে হয়। রোজায় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি অসাধু গোষ্ঠী জড়িত বলে আলোচনাসভায় বক্তারা জানান। তাদেরও বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানান তাঁরা। এসব ব্যবসায়ী সরকারের অসাধু কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাল, ডাল, ছোলা এবং তেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। এমনকি উৎপাদন পর্যন্ত বন্ধ করে রাখে।

ব্যবসায়ীদের এমন অভিযোগের জবাবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা সঠিকভাবে ব্যবসা করতে না পারলে সরকার উন্নয়নের যে মহাস্রোতে যেতে চায়, সেখানে যেতে পারবে না। ব্যর্থ হবে। তাই ব্যবসায়ীরা যেন ব্যবসা করতে পারে, সে জন্য আমরা কাজ করছি।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা পরিশুদ্ধ হলে কোনো আইনের দরকার হবে না। আমরা ভেজালকারীদের ধরলে যে হারে তদবির আসে তাতে ভেজাল বন্ধ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়।’

রমজানে যানজটের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইফতার পার্টি নিয়ে সরকারকে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। রমজান মাস এলেই অনেক ইফতার পার্টি হয়। এর ফলে অনেক যানজট বেড়ে যায়। তাই ইফতার পার্টিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। এ ছাড়া ঈদের সময় অনেক কারখানার মালিক বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেন। এ সময় শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসে। ফলে রাস্তায় যানজট বেড়ে যায় । মন্ত্রী বলেন, নিয়ম মেনে ব্যবসা করলে চাঁদাবাজি হবে না। আপনি যে গাড়ি চালান, সেটা যদি ফিট থাকে, তাহলে চাঁদাবাজির প্রয়োজন হবে না। আপনারা যদি ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন না করেন। ১০ টনের জায়গায় ২০ টন না নেন তাহলে পুলিশও ধরবে না, চাঁদাবাজিও হবে না।

পুলিশ যেন রমজানে প্রতিবন্ধকতা তৈরি না করে এ জন্য ব্যবসায়ীদের খোলা মনে বলতে হবে। ১০-১২ বছর আগে পুলিশকে দৃশ্যমান দেখা না গেলেও এখন তারা দৃশ্যমান। তারা যেকোনো সমস্যা রক্ত দিয়ে হলেও সমাধান করে। ফলে আজ জঙ্গি দমন সম্ভব হয়েছে। তবে চাঁদাবাজ পুলিশের কথা স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তাদেরও আমরা ছাড় দিই না। তাদেরও শাস্তি হয়।’

ডিসিসিআইয়ের সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, রমজান এলেই পাঁচ-ছয়টি পণ্যের দাম বেড়ে যায়। অথচ এ জন্য সরকারের করণীয় থাকলেও তা করা হয় না। এ জন্য তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো প্রাইস কন্ট্রোলিং আইন বা প্রাইস মেকানিজমের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া রমজান কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফা থেকে বের হয়ে আসা একই সঙ্গে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন তিনি।

মুল প্রবন্ধে ড. মো. জিয়া রহমান বলেন, ‘সারা বিশ্বের মুসলমানরা রমজান মাসে ব্যবসা, বাণিজ্য, কর্মকাণ্ড ও চিন্তা-মননের সব কিছুতেই সংযম পালনের নির্দেশ মেনে চলে। ফলে এ মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমে যায়। স্বস্তিতে থাকে ভোক্তারা। আর তৃতীয় বিশ্বের ব্যবসায়ীদের মনোভাব মানুষকে মেরে লাভ করা। আমাদের দেশে পুরো উল্টো চিত্র। রমজান এলে কয়েকটি পণ্যের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সরকার নিয়ন্ত্রের আশ্বাস দিলেও অসাধু ব্যবাসারীরা এতটাই শক্তিশালী যে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এমনকি কোনো কোনো সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীকেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এর ফলে ঈদ-রোজার ধাক্কায় সাধারণ মানুষের সারা বছরের সঞ্চয় শেষ হয়ে যাচ্ছে। এ জন্য ব্যবসায়ী এবং প্রশাসনকে দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।

গোলাম রহমান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও ডলারের দামের ওঠা-নামার ফলে আমাদের অভ্যন্তরীণ বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সচেতন থাকতে হবে।’ তিনি আরো বলেন, রাস্তাঘাটে যানজট, বন্দরে জাহাজ ও পণ্যবাহী ট্রাকের জটের ফলে বিশেষ করে রমজান মাসে চাহিদামাফিক পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হয়, তাই এ সমস্যা সমাধানে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আরো উদ্যোগী হতে হবে। ক্যাব সভাপতি বলেন, ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য রোধকল্পে অবশ্যই সব সংস্থার সমন্বয়ে নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে হবে। তিনি জানান, বাংলাদেশে সয়াবিন তেলের চেয়ে পাম অয়েল বেশি আমদানি করা হলেও বাজারে সয়াবিন তেলের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়, এ অবস্থা নিরসনে দুটি পণ্য আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর সংস্কার আবশ্যক। পচনশীল পণ্য সংরক্ষণে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় এ ধরনের পণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

সম্পাদক : ইমদাদুল হক মিলন,
নির্বাহী সম্পাদক : মোস্তফা কামাল,
ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ লিমিটেডের পক্ষে ময়নাল হোসেন চৌধুরী কর্তৃক প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বসুন্ধরা, বারিধারা থেকে প্রকাশিত এবং প্লট-সি/৫২, ব্লক-কে, বসুন্ধরা, খিলক্ষেত, বাড্ডা, ঢাকা-১২২৯ থেকে মুদ্রিত।
বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ : বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, প্লট-৩৭১/এ, ব্লক-ডি, বারিধারা, ঢাকা-১২২৯। পিএবিএক্স : ০২৮৪০২৩৭২-৭৫, ফ্যাক্স : ৮৪০২৩৬৮-৯, বিজ্ঞাপন ফোন : ৮১৫৮০১২, ৮৪০২০৪৮, বিজ্ঞাপন ফ্যাক্স : ৮১৫৮৮৬২, ৮৪০২০৪৭। E-mail : info@kalerkantho.com