kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ১৬৯০ সিসির মোটরসাইকেল আটক

সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহূত হয়েছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৪:৪৮



চট্টগ্রামে ১৬৯০ সিসির মোটরসাইকেল আটক

বাংলাদেশে সর্বোচ্চ ১৫৫ সিসির মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। এর প্রায় ১১ গুণ বেশি শক্তির অর্থাৎ ১৬৯০ সিসির একটি মোটরসাইকেল আটক করেছে চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা দল।

চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটার একটি বাড়ি থেকে এটি আটক করা হয়েছে। ওই বাড়ি থেকে ৩৫০ সিসির আরো একটি মোটরসাইকেল আটক করা হয়েছে।

আটকের পর শুল্ক গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন, এগুলো অবৈধভাবে আনা হয়েছে এবং ভুয়া নম্বর প্লেট ব্যবহার করে তা সড়কে চালানোও হয়েছে।  

আটক মোটরসাইকেল দুটির একটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ‘হার্লে ডেভিডসন’ ব্র্যান্ডের ১৬৯০ সিসির। অন্যটি ৩৫০ সিসির ভারতীয় ‘রয়াল এনফিল্ড’ ব্র্যান্ডের। দুটিই এখন কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাটের গুদামে রাখা হয়েছে। তদন্তের পর মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা দল।

চট্টগ্রাম কাস্টমস জানিয়েছে, সন্ত্রাসী কাজে ব্যবহূত হয়ে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আমদানিনীতিতে সর্বোচ্চ ১৫৫ সিসির মোটরসাইকেল আমদানির অনুমতি রয়েছে। অনেকেই সিসি গোপন করে বেশি গতির মোটরসাইকেল অবৈধভাবে আনছে।

কিন্তু একেবারে এত বেশি গতির মোটরসাইকেল কী কারণে এবং কোন কাজে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে সে ব্যাপারে শুল্ক গোয়েন্দা দল তদন্ত শুরু করেছে।  

চট্টগ্রাম শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্তদলের সহকারী পরিচালক তারেক মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার জানা মতে, ১৬৯০ সিসি মোটরসাইকেল আটকের ঘটনা দেশে এই প্রথম। আটকের পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি মোটরসাইকেলে ব্যবহূত দুটি রেজিস্ট্রেশন নম্বরই ভুয়া। মিটার রিডিং দেখেও মনে হয়েছে এগুলো খুব বেশি দিন চলেনি। ’

তারেক মাহমুদ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে কিংবা চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মোটরসাইকেল দুটি দেশে আনা হয়েছে। কোন উদ্দেশ্যে কেন আনা হয়েছে সেগুলো আমাদের তদন্তের মধ্যে আছে। ’

শুল্ক গোয়েন্দা দল জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পাথরঘাটা এলাকার ৬৮ বান্ডেল রোডের ‘মা’ ভবনের নিচতলা থেকে মোটরসাইকেল দুটি আটক করা হয়। আটকের আগে এ দুটির আমদানি ও রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত দলিলাদি ভবনের মালিক ইমতিয়াজ হাবিব দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।  

জানা গেছে, আমদানিনীতিতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫৫ সিসির মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ রয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এর চেয়ে বেশি সিসির মোটরসাইকেল আমদানি ও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের সিসি ১৫৫ থেকে ১৬৫-তে বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ মোটরসাইকেল অ্যাসেম্বলারস অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএএমএ)। কিন্তু তাদের দাবি নাকচ করে দিয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার।  

কেন বেশি সিসির মোটরসাইকেল আমদানির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না জানতে চাইলে কোতোয়ালি থানা পুলিশের সাবইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহারে অনীহা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধিসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা এবং সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় এ মুহূর্তে সিসি বাড়ানো হচ্ছে না। ’


মন্তব্য