kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

বর্ষণে কাহিল চট্টগ্রাম নগর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৬:১৮



বর্ষণে কাহিল চট্টগ্রাম নগর

দিনভর বৃষ্টিতে বন্দর নগরী চট্রগ্রাম গতকাল শনিবার হয়ে পড়েছিল জবুথবু। জনজীবনে নেমে এসেছিল জড়তা।

ব্যবসা বানিজ্যে অচলাবস্থার পাশাপাশি সাধারনের চলাচলে ঘটেছে বিস্তর বিঘ্ন। জলাবদ্ধ নগরীতে ভোগান্তি উঠেছিল চরমে। যানবাহন চলেছে খুবই কম। পথেঘাটে পানিতে আটকে বহু যানবাহন বিকল হয়ে থাকতে দেখা গেছে।  

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে স্থল নিম্নচাপের কারণে শনিবার সারাদিন চট্টগ্রাম ছিল বৃষ্টিমুখর। কখনো গুড়িগুড়ি কখনো ভারী বৃষ্টি মিলিয়ে নগরীর নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর পতেঙ্গা কার্যালয়ের আবহাওয়াবিদ মাজহারুল ইসলাম জানান, শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩৩ দশমিক ৬ মি.মি. বৃষ্টিপাত হয়েছে। পাশাপাশি হাল্কা বাতাসও অব্যাহত ছিল।

রবিবার থেকে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

চট্রগ্রাম নগরীতে সকালে ছিল গুড়িগুড়ি বৃষ্টি। এই সময় কর্মজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীদের পথ পাড়ি দিতে আধাভেজা হতে হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের তীব্রতা বাড়ে। পরে বৃষ্টির জোরও বাড়ে। প্রবল বর্ষণ শুরুর পর নগরজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এই সময় ওয়াশা এলাকা, ষোলশহর দুই নম্বর গেট, মুরাদপুর, বাকলিয়া, হালিশহরসহ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়ে।

টানা বর্ষনে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা খায়রুল আলম সুজন কালের কণ্ঠেকে বলেন, ‘পানি ডিঙ্গিয়ে বাচ্চাকে স্কুল থেকে আনতে গিয়েছি। বিকেলে স্কুল ছুটির পর সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় ফিরতে পারছি না। কারণ, জলাবদ্ধতা। যানবাহন চলছে না। বৃষ্টির কারণে পানি জমেছে আবার জোয়ারের কারণেও পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় বাসায় না গিয়ে একস্থানে আটকে আছি। ’ 

একই এলাকার বাসিন্দা জসিম উদ্দীন বলেন, মনে হচ্ছে চট্টগ্রামও চেরাপুঞ্জিতে পরিণত হচ্ছে। না হলে এভাবে বৃষ্টিপাত হবে কেন? বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে বিরক্ত প্রকাশ করেন তিনি।

এক্সেস রোডের লোকমান হাকিম বলেন, অক্টোবর মাসের শেষ প্রান্তে ভর বর্ষার মতো দুর্ভোগ পোহাতে হবে, তা বুঝতে পারিনি। জলাবদ্ধতা এড়াতে অন্য এলাকায় বাসা নিতে হবে বলে মনে হচ্ছে।


মন্তব্য