kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ভারতীয় শিক্ষার্থী খুন

উইলসন আবার দুই দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম    

১৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০৫:১৩



উইলসন আবার দুই দিনের রিমান্ডে

চট্টগ্রাম নগরের আকবর শাহ থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে ভারতীয় শিক্ষার্থী আতিফ শেখ খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত মাইসনাম উইলসন সিংকে আবার দুই দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (রিমান্ড) অনুমতি দিয়েছেন আদালত। গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মো. সফি উদ্দিন এ আদেশ দেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার চাকমা আসামির রিমান্ডের আবেদন করেন।

খুন হওয়া আতিফ ও আসামি উইলসন দুজনই ভারতীয় শিক্ষার্থী। তাঁরা বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, চট্টগ্রামের (ইউএসটিসি) এমবিবিএসের ছাত্র। গত ১৪ জুলাই রাতে চট্টগ্রাম নগরের আকবার শাহ থানা এলাকার ওই ফ্ল্যাটে আতিফ খুন হন। আরো কয়েক বন্ধুর সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন তিনি। বন্ধুদের মধ্যে উইলসন সিং একজন।

রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করে পিবিআইয়ের চট্টগ্রাম মহানগর অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা জানান, আসামি উইলসন সিংকে গ্রেপ্তারের পর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। ওই সময় তিনি ঘটনার আগে এবং পরের বিষয়টি স্মরণ আছে এবং নির্দিষ্ট কিছু সময়ের কথা স্মরণে নেই বলে অজুহাত দিয়ে খুনের ঘটনা এড়িয়ে যান। ঘটনার দিন ১৪ জুলাই রাতে আতিফ শেখের কক্ষে দুজনই ছিলেন।

একজন নিহত আতিফ শেখ, অন্যজন আসামি উইলসন সিংহ। দুই দফা রিমান্ডে উইলসন ঘটনার রাতের আগের ও ঘটনার পরের কয়েকটি বিষয় স্বীকার করেন। কিন্তু খুনের ঘটনা কিভাবে ঘটল সেই বিষয়ে কিছুই স্মরণে নেই বলে জানান।  

পরে আদালতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে আসামির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার আবেদন জানানো হয়। আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আসামির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দেন। এতে বলা হয়, আসামি মানসিকভাবে সুস্থ। প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  

প্রসঙ্গত, আতিফ শেখ নিহত হওয়ার ঘটনায় তাঁর বাবা আবদুল খালেক ভারত থেকে আসেন। তিনি আকবর শাহ থানায় একটি মামলা  করেন। মামলায় আতিফ শেখের পাঁচ বন্ধুকে সন্দেহভাজন আসামি করা হয়। তাঁদের মধ্যে ওই রাতে আতিফ শেখের কক্ষে থাকা উলসন সিং নিজেই তাঁকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা ধারণা করছেন।


মন্তব্য