kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

তিনি কখনো সেনা কর্মকর্তা কখনো ইউএন বা সাংবাদিক

অবশেষে ধরা চট্টগ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থকেন্দ্রের ওই নিরাপত্তাকর্মী

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০১:৩৬



তিনি কখনো সেনা কর্মকর্তা কখনো ইউএন বা সাংবাদিক

কখনো সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, কখনো ইউএনও। আবার কারো কাছে সরকারি কর্মকর্তা, কারো কাছে সিনিয়র সাংবাদিক, কারো কাছে বিএমএ নেতার শ্যালক।

এভাবেই বিভিন্ন ভুয়া পরিচয় দিয়ে টাকা নিয়ে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল আ ন ম মোদাচ্ছেরুল হক ওরফে মাসুদ নামের সরকারি এক কর্মচারী। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। এবার নিজেকে 'বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদকের শ্যালক' পরিচয় দিয়ে সরকারি এক চিকিত্সা কর্মকর্তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেওয়ার পর ধরা পড়েছে ওই প্রতারক।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর আগ্রাবাদে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কার্যালয় থেকে আ ন ম মোদাচ্ছেরুল হক ওরফে মাসুদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় নগরীর ডবলমুরিং থানায় প্রতারণা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ডবলমুরিং থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম।

ওসি বলেন, 'বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর নাম ভাঙিয়ে তাঁর শ্যালক পরিচয় দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আ ন ম মোদাচ্ছেরুল হক মাসুদ নামের একজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তিনি সরকারি কর্মচারী। ডা. ফয়সল বাদী হয়ে মামলা করেছেন।

'

ডা. ফয়সল ইকবাল চৌধুরী বলেন, 'আমার শ্বশুরবাড়ি বাঁশখালী। একে কাজে লাগিয়ে আমার শ্যালক পরিচয়ে মাসুদ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের এক সহকারী পরিচালকের বদলিজনিত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে সহকারী পরিচালক থেকে ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তার প্রমাণ আমি পাই এবং সে আজকে (গতকাল) সবার সামনে পুলিশের কাছে তা স্বীকার করেছে। শুধু আমার নাম নয়, বিভিন্ন সময় সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি ব্যবহার করে মাসুদ মানুষকে প্রতারণা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। '

জানা যায়, বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগ পাওয়ার পর মাসুদকে গতকাল সকালে কৌশলে বাঁশখালী থেকে নগরীর ডবলমুরিং থানা এলাকায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগীয় কার্যালয়ে আনেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে আসার পর বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন মাসুদ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো লিখিতভাবে স্বীকার করেছেন আ ন ম মোদাচ্ছেরুল হক ওরফে মাসুদ নিজেই।

এদিকে চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোজাফফর উদ্দীন আহমদ তাঁর কাজ থেকে বদলিজনিত কাজে সহযোগিতার কথা বলে ডা. ফয়সলের নাম ভাঙিয়ে মাসুদ ২০ হাজার টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি লিখিতভাবে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগকে জানান।


মন্তব্য