kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

স্লোগানে বিরক্ত হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:৪০



পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া

পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে ছাত্রলীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন করেছে সংগঠনের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা। গতকাল বৃহস্পতিবার শুধু মহানগর কমিটি নয়, কলেজ-ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়েও আলাদাভাবে দিবসটি উদ্‌যাপন করেছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। নগরে বিবদমান দুই পক্ষের আলাদা কর্মসূচির মধ্যে কোনো কোনোটিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে নগরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের বিবদমান পক্ষের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা ছিল। এর মধ্যে আগ্রাবাদের সরকারি কমার্স কলেজে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে নগর ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় বিশৃঙ্খলা হয়েছে। এ কারণে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষুব্ধ।

চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ
দুপুরে কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজ শাখা ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন। তিনি কেক কেটে, বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা শফর আলী ও শেখ মাহমুদ ইছহাক, সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, কাউন্সিলর আবদুল কাদের ও নাজমুল হক ডিউক প্রমুখ।

চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ
নগরের মুসলিম ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে মহানগর ছাত্রলীগ আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন ছাত্রনেতারা। তবে অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণে বিরক্ত হয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা তাদের সুশৃঙ্খল হওয়ার পরামর্শ দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য মাহবুবউল আলম হানিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ। দুপুরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। শুরু থেকেই কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই পাল্টাপাল্টি স্লোগান, ধাক্কাধাক্কি ও মোবাইল ফোনে সেলফি তোলার জন্য মঞ্চের সামনে হুড়োহুড়িতে লিপ্ত হয় নেতাকর্মীরা।

নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু ও সাধারণ সম্পাদক নূরুল আজিম রণি মঞ্চ থেকে কয়েক দফা নেমে বিশৃঙ্খলা সামলানোর চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় ও চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগ নেতারা প্রত্যেকে তাঁদের বক্তব্য দেওয়ার সময় বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথি মাহবুবউল আলম হানিফ বক্তব্যের শুরুতেই স্লোগান বন্ধ করার নির্দেশ দেন। এর পরও পেছন থেকে একদল নেতাকর্মী স্লোগান দিতে থাকলে হানিফ ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, 'এই ছেলেরা, তোমরা  পেছন থেকে স্লোগান দিচ্ছ কী উদ্দেশ্যে? আমি যেটা বলছি সেটা শুনবে নাকি তোমাদের স্লোগান শোনার জন্য আসছি? এই স্লোগানের রাজনীতিতে কোনো অর্জন হবে না। তোমাদের দেশের ইতিহাস জানতে হবে।'

এর পরও স্লোগান অব্যাহত থাকলে হানিফ আবারও বলেন, 'এরা কারা, আমি তো বুঝলাম না। শোন, তোমাদের মতো ছেলেদের দিয়ে কিছুই হবে না। এই কর্মী দিয়ে কোনো অর্জন হবে না, যদি এই মানসিকতা থাকে।'

এর আগে সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে ইমরান আহমেদ ইমু ও নূরুল আজিম রণি ছাত্রলীগ নেতা দিয়াজ ইরফান, সুদীপ্ত, সোহেলের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সভায় আরো বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, নগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ ও সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।

এদিকে কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের এক পক্ষের অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসের ভেতর এবং অন্য পক্ষের অনুষ্ঠান হয়েছে ক্যাম্পাসের বাইরে। ভেতরে মেয়র নাছির অনুসারী এবং ক্যাম্পাসের বাইরে সদ্য প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারীরা অনুষ্ঠান করেছে। একপর্যায়ে দুপুর দেড়টার দিকে উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে আইন কলেজ ছাত্রলীগের উদ্যোগে আলাদাভাবে অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে দুপুর ১২টার দিকে মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে মেয়র অনুসারী ছাত্রলীগ বর্তমান ও সাবেক নেতারা কেক কাটেন। ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন না মহিউদ্দিন চৌধুরী সমর্থক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। মুসলিম ইনস্টিটিউটে মহানগর ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে আ জ ম নাছির উদ্দিন অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যায়নি।


মন্তব্য