kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

সীতাকুণ্ডে ছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন শিক্ষক

নির্যাতনের পর শিশুটিকে চিকিত্সা না দিয়ে তিন দিন আটকে রাখা হয়
অভিযুক্ত আটক

সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:৪৪



সীতাকুণ্ডে ছাত্রকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করলেন শিক্ষক

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি এতিমখানায় এক শিশুছাত্রকে নির্মম নির্যাতন করেছেন শিক্ষক। ওই শিক্ষকের বেত্রাঘাতে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও তাকে চিকিত্সা না দিয়ে আটকে রাখা হয়। খবর দেওয়া হয়নি তার অভিভাবকদেরও। তৃতীয় দিনে ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটির অভিভাবকরা গতকাল শুক্রবার এসে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে। পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার সলিমপুর ইউনিয়নের ফৌজদারহাট চিশতিয়া হাফেজিয়া এতিমখানার শিক্ষক মো. রহিম গত বুধবার এতিমখানাটির নাজরার ছাত্র মো. মাহফুজ হোসেন জিহাদকে (৮) বেধড়ক পেটান। এতে শিশুটির সারা শরীর রক্তাক্ত হয়ে যায়; কিন্তু সেই থেকে গতকাল পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিত্সা ও ওষুধ দেওয়া হয়নি। ফলে ব্যথা-বেদনায় শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। গতকাল এতিমখানার অন্য এক ছাত্রের অভিভাবক তাঁর সন্তানকে দেখতে যান। তখন তিনি অসুস্থ জিহাদকে দেখে ঘটনাটি তার মা-বাবাকে জানান। খবর পেয়ে জিহাদের মা ও মামা ওই এতিমখানায় ছুটে যান।

এ সময় ছাত্ররা জানায়, শিক্ষক মো. রহিম এ কাণ্ড করেছেন। জিহাদের মা সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মোস্তাকিম আরজুর কাছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি এসে ছাত্রটির রক্তাক্ত পিঠ দেখে বিস্মিত হন এবং পুলিশে খবর দেন। সীতাকুণ্ড থানার এসআই টিবলু মজুমদার বিকেল ৩টার দিকে সেখানে এসে অসুস্থ শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের হাতে তুলে দেন এবং অভিযুক্ত রহিমকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

নির্যাতিত ছাত্র জিহাদের বাবা মো. ইব্রাহিম জানান, তাঁরা চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানার আতুরের ডিপো এলাকায় বসবাস করেন। দুই বছর আগে তাঁরা ছেলে জিহাদকে কোরআন শিক্ষার জন্য ফৌজদারহাট চিশতিয়া হাফেজিয়া এতিমখানায় ভর্তি করান। সেই থেকে সে এখানেই আছে। তিনি বলেন, ছাত্রকে শিক্ষক শাসন করতে পারেন; কিন্তু এভাবে ছোট্ট একটি শিশুকে অমানুষিক নির্যাতন কিভাবে তিনি করতে পারলেন? পুলিশের সঙ্গে আলাপ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

ইব্রাহিম অভিযোগ করে বলেন, ওই এতিমখানায় বেশ কিছু অনিয়ম আছে। একটি ছাত্রকে কোনো অভিভাবক বাড়িতে নিয়ে গেলে প্রতিদিনের ছুটির জন্য ১০০ টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। এই টাকা কী কাজে লাগে, এ ব্যাপারে কোনো সদুত্তর দিতে পারে না এতিমখানা কর্তৃপক্ষ।

সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. মোস্তাকিম আরজু বলেন, ওই এতিমখানার সব কর্মকাণ্ডই সন্দেহজনক। সেখানে কোরআন শিক্ষার নামে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয় কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার। বিভিন্ন ব্যক্তির দানে এতিমখানা চলে। অথচ এক দিন ছুটির বিনিময়ে ১০০ টাকা করে ছাত্রদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। একইভাবে প্রতি মাসে নাশতা খরচের নামে নেওয়া হয় ১৫০ টাকা করে। এসবের কোনো হিসাব নেই। নেই এতিমখানা পরিচালনার কোনো কমিটি। একজন সুপার আছেন, তিনিও এলাকায় থাকেন না।

আরজু জানান, কয়েক বছর আগে এক শিশু বলাত্কার হয়েছিল ওই এতিমখানায়। নির্যাতনে পালিয়ে গেছে কয়েকজন ছাত্র।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) মো. মোজাম্মেল হক এবং এসআই টিবলু মজুমদার বলেন, আমরা খবর পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেছি। অভিযুক্ত শিক্ষক পুলিশের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন; কিন্তু জিহাদের অভিভাবক মামলা দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য