kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চকরিয়ায় দখলের চেষ্টা সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর

চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি   

১৮ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৪:৩০



চকরিয়ায় দখলের চেষ্টা সংঘর্ষে প্রাণ গেল শিশুর

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বসতবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর জায়গা দখলে নিতে গেলে দুই পক্ষের সংঘর্ষে দেড় বছরের এক শিশুকে আছড়ে মেরে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় আহত হয়েছে নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন। গতকাল বুধবার পৌরসভার পালাকাটা খোন্দকারপাড়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ জানায়, গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একদল সন্ত্রাসী খোন্দকারপাড়ায় কবির আহমদের বসতবাড়ির দখল নিতে গেলে দুই পক্ষে সংঘর্ষ বেধে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ দুই দফা ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ চলে আসার পর প্রতিপক্ষ আবারও বিরোধীয় জায়গার দখল নিতে গেলে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। নিহত শিশু লুত্ফুন্নাহার নওরীন কবির আহমদের কন্যা। সংঘর্ষে আহত কবির আহমদের পরিবারের অন্য সদস্যরা হলেন কন্যা সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম কামিল মাদরাসার আলীম দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেরী আক্তার (১৮), স্ত্রী ছায়েরা খাতুন (৩৭), কবির আহমদের বোন মুনতাহেরা বেগম (৪০) ও নিকটাত্মীয় সাহাব উদ্দিনের স্ত্রী রওশন আরা (৪৮)। অন্যপক্ষে আহতদের নাম তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আহত ছায়েরা খাতুন অভিযোগ করেন, তাদের দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় বসতবাড়িটি সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গুঁড়িয়ে দেয় গত সোমবার বিকেলে। এরপর থেকে খোলা আকাশের নিচে তাঁরা মানবেতর জীবন যাপন করে আসছিলেন। এ অবস্থায় গতকাল দুপুরে স্থানীয় আবু তাহের ও তার একাধিক ভাই সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া বসতভিটে দখল নিতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাঁর সন্তানকে কোল থেকে কেড়ে নিয়ে সন্ত্রাসীরা মাটিতে ছুড়ে মারে। গুরুতর আহত শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সেখানে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সন্ধ্যায় সে মারা যায়।

চকরিয়া থানার এসআই গৌতম রায় সরকার জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় উভয় পক্ষে ধস্তাধস্তি হলে শিশুটি আঘাত পায়। পরে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিত্সক শিশুটি সুস্থ রয়েছে জানালে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে শিশুটিকে আবারও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। 

ওসি বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী গত রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশুটির মৃত্যু নিয়ে দুই পক্ষের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এর পরও শিশুটির অভিভাবকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


মন্তব্য