kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

রিক্যাপের প্রতিবেদন

সাগরে বিদেশি জাহাজে দস্যুতা বেড়েছে

চট্টগ্রাম অফিস   

১৯ জানুয়ারি, ২০১৮ ০৫:২৩



সাগরে বিদেশি জাহাজে দস্যুতা বেড়েছে

চট্টগ্রামের জলসীমায় আসা বিদেশি জাহাজে দস্যুতার ঘটনা বেড়েছে। ২০১৬ সালে বাণিজ্যিক জাহাজে দস্যুতার ঘটনা কমে একটিতে নামলেও ২০১৭ সালে সেটি বেড়ে ১১টি হয়েছে। দস্যুতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসা-যাওয়া ঘিরে কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

বাণিজ্যিক জাহাজে সংঘটিত সশস্ত্র ডাকাতি, দসু্যতা ও চুরি প্রতিরোধে কর্মরত আন্তর্জাতিক সংগঠন রিক্যাপের ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার।

জাহাজে দসু্যতা প্রতিরোধে রিক্যাপ ছাড়াও কাজ করে ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও)। এ সংস্থার প্রকাশিত 'পাইরেসি অ্যান্ড আর্মড রবারি এগেইন্সট শিপস : ২০১৭' প্রতিবেদনে দস্যুতার ঘটনা দেখানো হয়েছে ৯টি।

চট্টগ্রাম বন্দর বোর্ড সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শাহীন রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমাদের তো কেবল টেকনোলজি আছে, চোর বা দসু্য ধরার নিজস্ব বাহিনী নেই। এ ক্ষেত্রে আমরা কোস্টগার্ড ও নেৌবাহিনীর ওপর নির্ভরশীল।'

এ বিষয়ে কোস্টগার্ড পূর্ব জোনের কমান্ডার ক্যাপ্টেন ওয়াসিম মাসুদ বলেন, 'রিক্যাপ ও আইএমওর প্রতিবেদন দেখেছি। সেখানে অনেক ঘটনা আছে যা দুই দিন পর আমাদের অবহিত করা হয়েছে। আবার কিছু ঘটনা জাহাজ পরিচালনাকারী ও চুরির সঙ্গে জড়িতদের পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে। সেসব বিষয়ও আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।'

রিক্যাপের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে চট্টগ্রামের জলসীমায় দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ১১টি। এর মধ্যে চারটি ঘটেছে বন্দরের জলসীমা। বাকি ঘটনাগুলো ঘটেছে কক্সবাজারের মহেশখালী ও কুতুবদিয়া এলাকার গভীর সাগরে।

রিক্যাপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে দসু্যতার ঘটনা ঘটেছে ১১টি, ২০১৩ সালে ছয়টি, ২০১৪ সালে ১৬টি ও ২০১৫ সালে ১০টি। আর ২০১৬ সালে ঘটেছে মাত্র একটি। ২০১৭ সালে সেটি বেড়ে হয়েছে ১১টি।
২০১৬ সালে বিশ্বে দস্যুতার ঘটনা ঘটেছে ৮৫টি, যা ২০১৭ সালে বেড়ে ১০১টি হয়েছে। ২০১৭ সালে চারটি দেশে দস্যুতার ঘটনা বেড়েছে, সেগুলো হলো বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, দক্ষিণ চীন সাগর ও সিঙ্গাপুর।

উল্লেখ্য, দেশের বহির্নোঙরে সংঘটিত চুরি-ডাকাতির ঘটনার বাড়লে বিদেশি জাহাজের দেশে চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পণ্য পরিবহনে বাড়তি জাহাজ ভাড়া আরোপ করা হয়। তাতে বিপাকে পড়তে হয় দেশীয় আমদানি-রপ্তানিকারকদের। দস্যুতা বেড়ে যাওয়ায় একসময় চট্টগ্রামকে 'পাইরেসি বন্দর' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

জাপানভিত্তিক শিপিং কম্পানি কে লাইনের নির্বাহী পরিচালক সাহেদ সারোয়ার কালের কণ্ঠকে বলেন, সাইবেরিয়ায় জাহাজ হাইজ্যাকের মতো বড় ঘটনার সঙ্গে বাংলাদেশের ছোট চুরির ঘটনাকে দস্যুতা হিসেবে গণ্য করায় বাংলাদেশ এক সময় বেশ বেকায়দায় পড়েছিল। তখন বিদেশিরা জাহাজ ভাড়া দিতে গড়িমসি করত, বেশি ভাড়া চাইত। ২০১৬ সালে সেটি কমে আসায় বিশ্বে বন্দরের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছিল। এবার যে কারণেই হোক, ঘটনা বেড়েছে। সেটি কমিয়ে আনা জরুরি।


মন্তব্য