kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চসিকের সভায় মেয়র নাছির

সরকারের সহায়তা ছাড়া উন্নয়নকাজ চালানো সম্ভব নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০২:৩৭



সরকারের সহায়তা ছাড়া উন্নয়নকাজ চালানো সম্ভব নয়

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। ফাইল ছবি

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেছেন, উন্নয়নকাজ চালিয়ে যাওয়ার পূর্বশর্ত হলো অর্থ। গত অর্থবছরে বন্দরসহ সরকারি-বেসরকারি খাত থেকে পৌর কর আদায় হয়েছে মাত্র ১০৩ কোটি টাকা। তার পরও এই সময়ে নগরে ব্যাপক উন্নয়নকাজ হয়েছে। সরকারের সহযোগিতা ছাড়া এই উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব নয়।

গতকাল রবিবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে মেয়র নাছির এসব কথা বলেন। করপোরেশনের কে বি আবদুচ ছত্তার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় মেয়র নগরবাসীর সেবার স্বার্থে পেৌরকর আদায় গতিশীল করতে করপোরেশনের কাউন্সিলরদের সহযোগিতা কামনা করেন।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিটি মেয়র বলেন, জাইকা দ্বিতীয় ধাপে ১৯টি প্রকল্পের অধীনে ৪৩৪ কোটি টাকার সহযোগিতা দিচ্ছে। এর ফলে অনেক উন্নয়নকাজ করা সম্ভব হচ্ছে। প্রকল্প সহযোগিতার পেছনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনকে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ম্যাচিং ফান্ড সরবরাহ করতে হয়। প্রতি মাসে ২০ থেকে ২২ কোটি টাকা প্রশাসনিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। অথচ সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে পৌরকর বাবদ আদায় হয় মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ কোটি টাকা। এর পরিমাণ না বাড়লে ভবিষ্যতে নাগরিক সেবা পরিচালনা কষ্টকর হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সচিব মোহাম্মদ আবুল হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর এবং বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

সিটি মেয়র বলেন, বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় চট্টগ্রাম ওয়াসা গৃহীত মাস্টারপ্ল্যানের ভিত্তিতে নগরীর খালগুলো থেকে মাটি ও আবর্জনা অপসারণের লক্ষ্যে করপোরেশনের প্রকৌশলীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অবশ্য জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। নাগরিক দায়বদ্ধতা থেকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইকুইপমেন্ট, জনবল ও কারিগরি সহযোগিতায় মাটি উত্তোলন ও ময়লা অপসারণ করা হচ্ছে।

মেয়র বলেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় উন্নত ও বাসোপযোগী। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ফুটপাত নির্মাণ, নালার উন্নয়ন ও সংস্কার, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, এলইডি লাইটিং ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করে যাচ্ছে সিটি করপোরেশন।

সভায় এ ছাড়া ২৯তম সাধারণ সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, স্থায়ী কমিটির সভার কার্যবিবরণী অনুমোদন, মাদক ও জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম প্রতিরোধে ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রম জোরদার, সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশের আয়োজন, কাইজেন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা, দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি, নগরীর বাজার ও দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা টানানোর ব্যবস্থা করা, ওয়ার্ড পর্যায়ে পরিত্যক্ত জায়গায় উদ্যান নির্মাণ, করপোরেশন পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা, বসি্ত উন্নয়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা, গাড়ি পার্কিং সুবিধা নিশ্চিত করা, ওয়ার্ডভিত্তিক কাঁচা রাস্তা পাকাকরণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা, বিএমডিএফ প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।


মন্তব্য