kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

৯ মাস পর টনক নড়ল নার্সিং অধিদপ্তরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৫ মার্চ, ২০১৮ ০৫:০৬



৯ মাস পর টনক নড়ল নার্সিং অধিদপ্তরের

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘ঘুষ’ না দেওয়ায় ৩৭৯ নার্সের বেতন বন্ধ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন কালের কণ্ঠে প্রকাশিত হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। আর প্রায় ৯ মাস আগে মন্ত্রণালয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে গত ৭ মার্চ। আর চট্টগ্রামে এসে গত দুই দিন তদন্ত করে গেছেন কমিটির সদস্যরা। এ ছাড়া কমিটি তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদককে থাকার জন্য আগে জানালেও তাঁকে বলা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২১ মার্চ কালের কণ্ঠ’র শেষ পৃষ্ঠায় প্রধান শিরোনামে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনো তদন্ত করেনি। তবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিষয়টি তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর গত ২০ জুন মন্ত্রণালয় অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্তের জন্য অধিদপ্তরকে দিয়েছিল। গত ৭ মার্চ উপপরিচালক (বাজেট) সৈয়দ গোলাম হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি গঠনের পাঁচ দিন পর গত মঙ্গলবার কমিটির সদস্যরা চট্টগ্রামে আসেন। দুই দিন তদন্তের পর গতকাল বুধবার রাতে তাঁদের ফিরে যাওয়ার কথা।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (শিক্ষা) লিপিকা রানী হাওলাদার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৫৫ থেকে ৬০ জনের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে এখন কিছু বলা যাবে না। তবে আমরা চাই এ ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধ হোক।’

কবে নাগাদ তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে জানতে চাইলে লিপিকা রানী বলেন, ‘আশা করি সময়সীমার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে পারব।’

অভিযোগ উঠেছে, ঘুষ দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে যাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় সেই সেবক-সেবিকাদের তদন্ত কমিটির সামনে হাজির করা হয়নি। নিজেদের মনোনীত নার্সিং কর্মকর্তা-হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীকে তদন্ত কমিটির কাছে নেওয়া হয় অভিযুক্তদের পক্ষে সাফাই দিতে। 

এদিকে গতকাল দুপুরে হঠাৎ তদন্ত কমিটির সদস্যরা এই প্রতিবেদককে ফোন করে তাঁদের চট্টগ্রামে আসার বিষয়টি জানান। তদন্তে তাঁদের সহযোগিতা করার জন্য বলেন তাঁরা। প্রতিবেদককে না জানানোর বিষয়টি শুনে তদন্ত কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন।

তাঁরা বলেন, ‘আমরা বলেছিলাম আপনাকে জানানোর জন্য, কিন্তু এখন দেখছি তারা জানায়নি। আমরা বিষয়টি বুঝতে পেরেছি।’



মন্তব্য