kalerkantho

দ্বিতীয় রাজধানী প্রতিদিন

চার বছর পর আলাউদ্দিন হত্যা মামলার আসামি আটক

ধর্মান্তরিত হয়েও মিলল না রেহাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২১ মার্চ, ২০১৮ ০২:৪৮



ধর্মান্তরিত হয়েও মিলল না রেহাই

শত্রুতার জেরে ছুরিকাঘাতে কিশোর মো. আলাউদ্দিনকে (১৬) হত্যা করা হয় ২০১৪ সালের মার্চ মাসে। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক আসামিকে বাকলিয়া থানা পুলিশ ও নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়। কারণ ওই আসামি ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পাল্টিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পুলিশ আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে তাকে অব্যাহতির সুপারিশও করে। কিন্তু আদালত তা গ্রহণ না করে বলেছিলেন, 'আসামি ধর্মান্তরিত হলেও তার ঠিকানা পাওয়া দুরূহ নয়।' অবশেষে হত্যা মামলার ওই আসামি ধরা পড়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কিশোর আলাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাতের কথা স্বীকারও করেছে। ওই আসামির নাম প্রদীপ চৌধুরী। ধর্মান্তরিত হয়ে গত চার বছর সে আল আমিন নাম ধারণ করে আত্মগোপনে ছিল।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের পরিদর্শক জাহিদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ২০১৪ সালের ৩ মার্চ রাতে শত্রুতার জের ধরে আলাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করে আসামি প্রদীপ চৌধুরীসহ তিনজন। এ ঘটনায় আলাউদ্দিনের মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনায় জড়িত আসামিরাও ছিল বাকলিয়া থানার কালামিয়া বাজার এলাকার বাসিন্দা।

মামলার পর তা তদন্ত করে বাকলিয়া থানা পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তদন্ত করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। দুই তদন্তকারী কর্মকর্তার তদন্ত পর্যায়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হলেও মূল আসামি প্রদীপকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পরে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তকারী কর্মকর্তা জানতে পারেন, প্রদীপ ধর্ম পরিবর্তন করে অন্যত্র পালিয়েছে। প্রদীপের গ্রামের বাড়ি ছিল চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায়। তার বাবার নাম নিরঞ্জন চৌধুরী। কিন্তু গ্রামের বাড়িতে মা-বাবা বা স্বজনদের কেউ না থাকায় প্রদীপের গ্রামে যাতায়াত ছিল না। ফলে প্রদীপের অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি গোয়েন্দা পুলিশ। ফলে পুলিশ গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং প্রদীপকে (ধর্মান্তরিত নাম আল আমিন) অব্যাহতির সুপারিশ করে।

কিন্তু চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম মো. শাহাদাৎ হোসেন অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করে গত ১৮ জানুয়ারি একটি আদেশ দেন। আদালতের আদেশে বলা হয়, প্রদীপ ধর্মান্তরিত হলেও তার ঠিকানা পাওয়া দুরূহ হওয়ার কথা নয়। আদালত একজন পরিদর্শক মর্যাদার কর্মকর্তা দিয়ে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন।

এরপর পিবিআইয়ে মামলাটি তদনে্তর দায়িত্ব পান পরিদর্শক জাহিদ হোসেন। তিনি জানতে পারেন, প্রদীপ তথা আল আমিন চট্টগ্রাম শহরে নেই। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহযোগিতা নিয়ে তাকে গত শনিবার রাতে রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রবিবার চট্টগ্রামে আনা হয়। বাড্ডা এলাকায় প্রদীপ একটি ছোট মুদির দোকান করত।

প্রদীপ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ২০১৪ সালে তারা এলাকায় একজন নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ওই সময় আলাউদ্দিন প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিল, তারা এসব যেন এলাকায় না করে। এর পরই ক্ষিপ্ত হয়ে আলাউদ্দিনকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছিল। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আলাউদ্দিনের মৃত্যু হয়।

আলাউদ্দিনের মৃত্যুর পর দুই সহযোগীকে পুলিশ গ্রপ্তোর করতে পারলেও প্রদীপ পালিয়ে যায়। পরে ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম হয় এবং আল আমিন নাম ধারণ করে। এই নাম ধারণ করার পর কুমিল্লার এক মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয় এবং ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা করছিল। সর্বশেষ পুলিশের হাতে গ্রপ্তোর হয় আল আমিন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা জাহিদ হোসেন জানান, আসামিকে সোমবার চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এখন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে খুনের প্রকৃত কারণ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'মামলার অন্য দুই আসামি এখন জামিনে আছে।'



মন্তব্য